সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে ১৩ হাজার পাসপোর্ট যাত্রীর করোণা ভাইরাস স্ক্যাণ


3007 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে ১৩ হাজার পাসপোর্ট যাত্রীর করোণা ভাইরাস স্ক্যাণ
মার্চ ৬, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের পরিক্ষা না করার অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট ::

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে প্রতিদিন করোনা ভাইরাস স্ক্যান করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ৩৩৩ জনকে ভাইরাস পরিক্ষা করা হয়। এখানে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫শ পাসপোর্ট যাত্রী নারি পুরুষকে স্ক্যাণ করার হয়। তবে এদিন কয়েকজনকে ৩৮ পয়েন্টের উপরে তাপমাত্রা থাকায় তাদেরকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে বলে জানান বন্দরের স্বাস্থ্য ঝুকি কর্ণার কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক। তদারকিতে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে প্রধান করে কমিটিও করা হয়েছে। তবে বন্দরের পন্য পরিবহনকারি শ্রমিক চালক ও তাদের সহকারিদের কোন পরিক্ষা না করার অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
চলতি বছরের জানুয়ারী মাস থেকে ভোমরা স্থলবন্দরে করোনা ভাইরাস স্ক্যাণ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত এ বন্দরে প্রায় ১৩ হাজার পাসপোর্ট যাত্রীকে করোণা ভাইরাস স্ক্যাণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও সিভিল সার্জনকে সম্পাদক করে তদারকি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। একইভাবে উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রধান করে সকল উপজেলায় কমিটি করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একমিটির উপদেষ্টা ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করবেন। পূর্বো নির্দেশে জেলা ও প্রতিটি উপজেলায় ৫টি করে কোয়ারেন্ট বেড পৃথকভাবে আছে। করোণা প্রতিরোধে যেকোন সমস্যা মোকাবেলায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভারত থেকে আসা পাসপোর্টধারি দু’যাত্রী তালার রবিউল ইসলাম ও বাংলাদেশে আসা ভারতীয় গোবিন্দ সরকার জানান, ঘোজাডাঙ্গা ও ভোমরা বন্দরে তাদের করোণা ভাইরাস আছে কি না সে বিষয়ে পরিক্ষা করার পর জানিয়েছেন তাদের কোন সমস্যা নেই। এজন্য তারা খুশিভাবে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছেন এবং নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন। তবে দু’দেশের কোথাও পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক চালক ও চালকের সহযোগিদের পরিক্ষা করা হচ্ছেনা বলে জানান এই ভারতীয় ট্রাক চালক কার্ত্তিক চন্দ্র।
অপরদিকে ভোমরা বন্দরে করোণা পরিক্ষায় নিয়োজিত আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. জিএম গোলাম মোস্তফা জানান, দুপুর পর্যন্ত ৩৩৩ জনকে তাপমাত্রা পরিক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে কয়েকজনের উচ্চ তাপমাত্রা পাওয়ায় তাদেরকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. মো: হুসাইন সাফায়াত বলেন, অব্যহতভাবে ভোমরা বন্দরে করোণা ভাইরাস পরিক্ষার প্রাথমিক কার্যক্রম চলছে। এখানে কোন ছুটিও নাই। দায়িত্ব প্রাপ্তরা যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। করোণা ভাইরাস নিয়ে কোন চিকিৎসক যদি গাফিলতি করে সেক্ষেত্রে তদন্ত করে পরিস্থিতির উপর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, করোণা ভাইরাস এখনও আমাদের দেশে প্রবেশ করেনি। এটি প্রবেশ করলে তা প্রতিরোধে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ট্রাক চালক ও তাদের সাথে সংশ্লিষ্টদের স্ক্যাণ করার বিষয়ে বেশ জটিল হচ্ছে। কারণ ট্রাক রেখে পরিক্ষা করতে যে সময় লাগবে তাতে যানজট লাগাসহ পন্য খালাসে জটিলতা বাড়বে। এসব কারণে বিকল্প পথও খোজা হচ্ছে। তিনি সাধারণ মানুষকে এবিষয়ে অপপ্রচার চালানো থেকে বিরত থাকার এবং আতঙ্কিত না হওয়ার আহবান জানান।
সার্বিক বিষয়ে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেছেন, আমাদের সীমিত লোকবল থাকলেও করোণা ভাইরাস মোকাবেলায় সাধ্যমত ব্যবস্থা নিয়েছি। এব্যাপারে একটি কমিটিও হয়েছে। উক্ত কমিটির মিটিং ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই মিটিং থেকে আরও দিক নির্দেশনা মুলক পরামর্শ গ্রহণ ও প্রদান করা হবে এসবের সাথে সংশ্লিষ্টদের।