সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরে আমদানি-রপ্তানিতে ধস


470 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরে আমদানি-রপ্তানিতে ধস
জুন ১৮, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email
  • ভারতের ঘোঁজাডাঙ্গা স্থল বন্দরে সার্ভার জটিলতা
  • ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমদানিকারকরা, বেকার বসে আছে শ্রমিকরা

:: এম কামরুজ্জামান ::
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরের বিপরীতে ভারতের ঘোঁজাডাঙ্গা স্থল বন্দরে সেদেশের কাষ্টমস্ বিভাগ সম্প্রতি অটোমেশন সিস্টেম ( অনলাইন কার্যক্রম ) চালু করায় আমদানি রপ্তানির ক্ষেতে নানা জটিলতা তৈরী হচ্ছে। ভারতীয় পারে অনলাইন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সার্ভার জটিলতা ও অটোমেশন সিস্টেম পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবলের অভাবে আমদানি-রপ্তানিতে রিতিমতো ধস নেমেছে। গত এক মাস ধরে চলছে এই জটিলতা। ফলে ভোমরা স্থল বন্দরে একদিকে সরকারি রাজস্ব আদায়ের পরিমান কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়া শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

১৯৯৬ সালে থেকে মূলত ভোমরা স্থল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারনে বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে ইতোমধ্যে ভোমরা স্থল বন্দর স্বীকৃতি পেয়েছে। সরকার প্রতিবছর প্রায় হাজার কোটি টাকা এই বন্দর থেকে রাজস্ব আদায় করে থাকে। চলতি অর্থবছরে এই বন্দরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ১ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০টি পণ্য বোঝায় ভারতীয় ট্রাক ভোমরা স্থল বন্দরে প্রবেশ করে থাকে। কিন্তু গত এক মাস আগে থেকে হঠাৎ আমদানি রপ্তানিতে রিতিমতো ধস নেমেছে।

সাতক্ষীরার ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরাফাত হোসেন ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, গত মাসের ( মে’১৯) মাঝামাঝি সময় থেকে ভারত সরকার ( ভোমরা স্থল বন্দরের বিপরীতে ) ঘোঁজাডাঙ্গা স্থল বন্দরের কাস্টমস্ বিভাগ আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে ‘অটোমেশন সিস্টেম’ ( অনলাইন কার্যক্রম ) চালু করে। আর এই ‘অটোমেশন সিস্টেম’ চালুর পর থেকেই সার্ভার জটিলতার মুখে পড়ে বন্দরটি। ঘোঁজাডাঙ্গা বন্দরে দক্ষ জনবলের অভাবের কারনে এ সমস্যা নিরসন হচ্ছে না বলে জানাগেছে। যে কারনে প্রতিদিন গড়ে ১০০টি পণ্যবাহী ট্রাক ছাড় করাও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ভোমরা বন্দরে দিয়ে আমদানি-রপ্তানিতে হঠাৎ ধস নেমেছে। ভোমরা স্থল বন্দরে একদিকে সরকারি রাজস্ব আদার আশংকাজনক হারে কমে গেছে, অপরদিকে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শ্রমিকদের আগের মতো আর কাজ নেই, তারা বেকার হয়ে পড়ছে। এ সমস্য দ্রুত সমাধান না হলে ভোমরা বন্দর থেকে আমদানিকারকরা মুখ ফিরিয়ে নেবে।

ভোমরা বন্দরের ব্যবসায়ীরা অহেদুল ইসলাম ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ব্যবসায়ীরা। হাজার হাজার শ্রমিক এই বন্দরে কাজ করে। আজ তাদের অনেকেই বেকার হয়ে বসে আছে। ভারতীয় পারের সার্ভার জটিলতা নিরসন এবং দক্ষ জনবল নিয়োগ করে এ সমস্যার সমাধার জরুরী হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবী অবিলম্বে সরকার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করবে। তানাহলে একদিকে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমদানি-রপ্তানিকারক ও শ্রমিকরা।

ভোমরা স্থল বন্দরের উপ-পরিচালক ( ট্রাফিক ) মো: রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, গত ১৫ মে থেকে ভারতের ঘেঁজাডাঙ্গা স্থল বন্দরের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অনলাইন কার্যক্রম চালু করেছে। গত রোজার ঈদের আগে থেকেই জটিলতা শুরু হয়েছে। ঈদের পরও একই অবস্থা বিরাজ করছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক ভোমরা বন্দরে প্রবেশ করতো এখন সেখানে গড়ে ১০০টি ভারতীয় ট্রাকও বাংলাদেশে প্রবেশ করছে না। তিনি বলেন, গত ১৫ মে একটি পণ্যবাহী ট্রাকও প্রবেশ করেনি। আমরা মনে করে ছিলাম ঈদের পরে এই জটিলতা নিরসন হবে। কিন্তু ভারতীয় পারের সার্ভার জটিলতা কাটেনি। মূলত অনলাইন কার্যক্রম চালুর পর থেকেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি তাতে ভারতী কাস্টমস বিভাগের সার্ভার জটিলতার কারনে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, গতকাল ( মঙ্গলবার ) ভোমরা বন্দর দিয়ে ১০৯টি পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে।

#