সাতক্ষীরার মধু রপ্তানি হচ্ছে ভারতে


746 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার মধু রপ্তানি হচ্ছে ভারতে
জুলাই ৮, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

 

গোলাম সরোয়ার : মধু রপ্তানিতে অপার সম্ভাবনা রয়েছে সাতক্ষীরা। এখানকার মধু মানসম্মত হওয়ায় ইতিমধ্যে ভারতে রপ্তানি হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ভোমরা বন্দর দিয়ে ৫০৯ মেট্রিকটন মধু রপ্তানি হয়েছে। ভারতীয় বিভিন্ন আয়ুর্বেদীয় বা অন্যান্য ওষুধ কোম্পানী এসব মধু আমদানি করছে। রপ্তানিযোগ্য মধুর মধ্যে রয়েছে ধনিয়া, লিচু ও সরিষা ফুল থেকে উৎপাদিত মধু। তবে চাষী ও ব্যবসায়ীরা জানায়, সাতক্ষীরায় মধু শোধনাগার হলে মধুর ন্যায্য দাম পাওয়ার পাশাপাশি আরো ব্যাপক হারে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
ভোমরা স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. লুৎফুল করিম জানান, চলতি অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ৫০৯.৬৫ মেট্রিকটন মধু রপ্তানি করা হয়েছে। এরমধ্যে গত মে মাসে ৬৬ টন, এপ্রিলে ৫৫ টন, মার্চে ৪৫ টন, ফেব্রুয়ারীতে ১০৮ টন, জানুয়ারীতে ১৪৮ টন, ডিসেম্বরে ৬৮ টন, আগষ্টে ৩ টন ও জুলাইতে ৪.৬৫ টন। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টবরে রপ্তানি হয়নি। রপ্তানিকৃত ৫০৯.৬৫ টন মধুর মুল্য ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৪৭ হাজার ১০৭ টাকা। রাজস্ব কর্মকর্তা মো. লুৎফুল করিম আরো জানান, সাতক্ষীরার উৎপাদিত মধুর গুনগতমান ভালো হওয়ায় ভারতের বিভিন্ন ওষুধ উৎপাদন কোম্পানী রপ্তানি করছে।
সাতক্ষীরার মধু উৎপাদনকারী প্রতিষ্টান মৌ-সর্বাধুনিক করন কেন্দ্রের মালিক ও বাংলাদেশ মৌ-চাষী কল্যান সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন জানান, চলতি অর্থবছরে ২০০ মেট্রিকটন মধু রপ্তানি করেছেন ভারতে। তিনি বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুনডাক এগ্রো প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানী সেদেশের আমদানিকারক প্রতিষ্টান এস.কে এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে তার কাছ থেকে এসব মধু আমদানি করেছে। প্রতি কেজি মধু ভারতে দাম পাওয়া যাচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা। যা বাংলাদেশে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীতে দাম পাওয়া যায় প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১১২ টাকা। তিনি আরো বলেন, সাতক্ষীরাতে একটি মধু শোধনাগার গড়ে উঠলে চাষীরা আরো ভালো দাম পাবে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, সাতক্ষীরার চিংড়ি, কাকড়া বা আম রপ্তানির পাশাপাশি মধু রপ্তানিতে অপার সম্ভবনা রয়েছে।
সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাষ্টিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু জানান, ভারতে সাতক্ষীরার মধু রপ্তানি হচ্ছে এটি এ জেলার অর্থনীতিতে ইতিবাচক সাড়া। ব্যবসা বানিজ্যকে আরো সম্ভাবনাময় করে তুলবে। এব্যাপারে আরো কিছু সরকারী উদ্যোগ জরুরী বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, বছরে সুন্দরবন থেকে বিপুল পরিমান মধু আহরন করা হয়ে থাকে। তাছাড়া সাতক্ষীরার প্রায় ২ থেকে আড়াই‘শ ভ্রাম্যমান মৌ-চাষী সাতক্ষীরা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হরেক রকমের ফুলের মধু আহরন করে থাকে। এসব মধু যদি প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করা যায় তাহলে চাষীদের পাশাপাশি সরকারও লাভবান হবে বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরা বিসিক কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, সুন্দরবন ছাড়াও সাতক্ষীরার বিভিন্ন অঞ্চলে ভালো মধু উৎপাদন করা হচ্ছে। এজন্য জেলার বহু মৌ-চাষীকে প্রশিক্ষনের পাশাপাশি মধু উৎপাদনে উৎসাহি করা হচ্ছে। তাছাড়া সাতক্ষীরাতে একটি মধু প্রক্রিয়াজাত করন বা শোধনাগার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহন করেছে সরকার। এটির কাজও প্রায় শুরুর পথে। তিনি বলেন, সাতক্ষীরা জেলা থেকে মধু রপ্তানি করে সরকার বছরে বিপুল পরিমান যেমন বৈদেশীক অর্থ উপার্জন করতে পারবে তেমনি চাষীরা লাভবান হবে ভালো দাম পেয়ে।