সাতক্ষীরার ‘মহারাজ’ এর দত্তক পেলেন শিক্ষক দম্পতি


237 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার ‘মহারাজ’ এর দত্তক পেলেন শিক্ষক দম্পতি
অক্টোবর ১৩, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
ফুটফুটে শিশুটির বয়স তখন মাত্র কয়েক ঘন্টা, পৃথিবীর আলো ঠিকমতো দেখার আগেই এই ভূমির চরম নিষ্ঠুরতাকে ভলোভাবে দেখে নিয়েছে সে। গত ৪ অক্টোবর সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার গোলখালি শ্মশানের কাছে একটি গাছে বাজারের ব্যাগে করে ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুটিকে তার পাষন্ড বাবা-মা ঝুলিয়ে রেখে যায়। এলাকাবাসী কুড়িয়ে পাওয়া ওই শিশুটির নাম রাখেন ‘মহারাজ’। অবশেষে আদালতের নির্দেশে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখা সদ্যজাত শিশু ‘মহারাজ’ এর দত্তক পেলেন এক শিক্ষক দম্পতি।

সোমবার সাতক্ষীরা শিশু আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান এক রায়ে এই নির্দেশ প্রদান করেন। আদালত শিশুটিকে ওই দম্পতির হাতে তুলে দেওয়ার জন্য কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এ সংক্রান্ত একটি চিঠিও পৌছেছে দত্তক গ্রহীতা তালা উপজেলার রাঢ়ীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা রাণী চৌধুরী ও তার স্বামী যশোরের সাগরদাঁড়ি কারিগরি ও বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বরুন কুমার পালের হাতে।

আদালতের বিচারক তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, যেহেতু সদ্যজাত শিশুটিকে কালিগঞ্জের গোলখালি শ্মশানের কাছে একটি গাছে বাজারের ব্যাগে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, সেহেতু শিশুটি হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারের বলে অনুমিত হয়। এই বিবেচনায় ডাক্তার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পুলিশ অফিসারসহ মোট ৩০টি আবেদন পত্র থেকে পুংখানু পুংখরুপে যাচাই বাছাই করে দত্তক গ্রহণকারীর কেবলমাত্র আর্থিক অবস্থা বিবেচনা না করে সামাজিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য দৃষ্টিকোণ থেকে আদালত শিশুটির মঙ্গলার্থে উক্ত শিক্ষক দম্পতিকে দত্তক দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। শিশুটি এখনও হাসপাতালে রয়েছে। তার বয়স সবে দশ দিন।

উল্লেখ্য যে, গত ৪ অক্টোবর কালিগঞ্জের গোলখালি শ্মশানের কাছে একটি গাছে বাজার ব্যাগে দুই এক ঘন্টা আগে ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুটিকে কে বা কারা ঝুলিয়ে রেখে যায়। স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে শিশুটিকে প্রথমে সার্জিকাল ক্লিনিক ও পরে কালিগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এলাকাবাসী ফুটফুটে এই শিশুটির নাম রাখেন ‘মহারাজ’। শিশুটিকে দত্তক পেতে ৩০টি আবেদনপত্র আসে। কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান রাসেলের নেতৃত্বে গঠিত শিশু কল্যাণ বোর্ড শিশুটি গ্রহণের জন্য আবেদন আহবান করেন। আবেদন গুলো শিশু কল্যাণ বোর্ড সাতক্ষীরা শিশু আদালতে পাঠায়। আদালত সোমবার এক আদেশে শিশু ‘মহারাজ’কে ওই শিক্ষক দম্পতির হাতে দত্তক হিসেবে তুলে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। এখন থেকে তারাই হবেন তার পালক পিতামাতা।

#