সাতক্ষীরার মৃতপ্রায় বেতনা নদীতে হঠাৎ প্রবল বেগে উজানের ঢল নামছে। এক নজর দেখার জন্য বেতনা পাড়ে হাজারও মানুষের ভীড়


493 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার মৃতপ্রায় বেতনা নদীতে হঠাৎ প্রবল বেগে উজানের ঢল নামছে। এক নজর দেখার জন্য বেতনা পাড়ে হাজারও মানুষের ভীড়
সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরার মৃতপ্রায় বেতনা নদীতে হঠাৎ প্রবল বেগে উজানের ঢল নেমেছে। এলাকার মানুষ কখনও ভাবতে পারেনি বেতনা নদীতে এভাবে আর কখনও জোয়ার-ভাটা দেখতে পাবে তারা। প্রবল বেগে উজার থেকে ধেয়ে আসছে পানি। নদীর পলি কেটে তা যাচ্ছে সমুদ্রের দিকে।

মানুষ না দেখে বিশ্বাস করতে পারছে না। তাই নদীর পাড়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভীড় জমাচ্ছে বেতনা নদীর ¯্রােত স্বচক্ষে দেখার জন্য।

বেতনা নদী পাড়ের মানুষেরা বলছে, এখান থেকে এক সপ্তাহ আগে উজান থেকে পানি নামা শুরু হলেও গত দুই দিন ধরে তা চোখে পড়ছে। যত দিন যাচ্ছে উজানের ঢল ততোই প্রবল হচ্ছে। তারা আরও জানান, প্রবল বেগে উজান থেকে আসা পানি ভাটিতে ( উত্তর থেকে দক্ষিণে সাগরের দিকে ) নেমে যাচ্ছে।

গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বেতনা নদীতে কোন ¯্রােত নেই। ফলে সাতক্ষীরার বিস্তিন্ন এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এই নদী রক্ষার জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ (জলবায় ফান্ড) হয়। সে টাকাও হয়েছে নদী খননের নামে লুটপাট। সাতক্ষীরার প্রভাবশালী কয়েক জন চিহ্নিত দূর্নীতিবাজ ঠিকাদার ও পাউবোর কয়েক জন রাঘববোয়াল বরাদ্দে এসব টাকা রিতিমত হজম করে ফেলেছে।

বেতনা পাড়ের মানুষ যখন সব আশা-ভরসা ছেড়ে দিয়েছে। ঠিক তখনই বেতনা নদীতে আকর্ষিক উজান থেকে নেমে আসা পানির ¯্রােত দেখে রিতিমত হতবাক তারা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আসাদুজ্জামান বাবু ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, বেতনা নদীর ঠিক ধারে শাল্যে গ্রামের তার বাড়ি। তার বাড়ীর পাশ দিয়ে প্রবাহিত বেতনা নদীতে উজানের ঢল নেমেছে শুনে প্রথমে তিনি বিশ্বাস করতে পারেনি। স্বচক্ষে দেখার জন্য শুক্রবার গিয়েছিলেন বেতনা নদীর পাড়ে। তিনি বলেন, খকনও কল্পনাও করেনি বেতনা নদীতে এ ধরণের ¯্রােত তার জীবতদশায় দেখতে পাবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান বাবু জানান, আল্লাহ’র কি রহস্য বা কুদরত তা জানিনা। বেতনা নদীতে উজান থেকে যেভাবে পানির ঢল নামছে তাতে গত ২/৩ দিনে নদী দ্বিগুন চওড়া হয়ে গেছে। গভীরতা বেড়েছে কয়েক গুন। তিনি, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডোর দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, এই মুহুত্বে প্রয়োজন নদীর গতিপথ সৃষ্টি করে দেয়া। ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীর সঠিক গতিপথ ঠিক করে দিতে পারলে আগের সেই বেতনা নদী তৈরী হতে সময় লাগবে না। তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে, বেতনা নদীর দু’ধারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভীড় জমাচ্ছে। মানুষের ভড়ি এতোই যে নদীর দু’ধারে বিশেষ করে বিনেরপোতা ,শ্যাল্যে ও মাছখোলা এলাকায় নদীর ধারে শত শত অস্থায়ী খাবারের দোকান বসেছে।