সাতক্ষীরার লতিফা স্বামীর সংসার ফিরে পেতে চায়


471 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার লতিফা স্বামীর সংসার ফিরে পেতে চায়
অক্টোবর ২৩, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল আলম মুন্না ::

২১ মার্চ ২০১৮ তারিখে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত সাতক্ষীরায় লতিফা হেলেন খুকু, পিতা- মোস্তকা আলী সরদার ও প্রতিবেশী সরদার রফিকুল ইসলামের লিখিত অভিযোগ মারফত জানা যায় যে, সাতক্ষীরা জেলার তালা থানার অর্ন্তগত ১২ নং জালালপুর ইউনিয়নের টিকারামপুর গ্রামের মোস্তাক আলী সরদারের ছোট মেয়ে লতিফা হেলেন (৩১) এর সাথে একই উপজেলার কৃষ্ণকাটি গ্রামের মৃত-মোঃ মনিরুজ্জামানের পুত্র রফিকুল ইসলামের সাথে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক ০৯ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখ ৫০ হাজার ১ টাকা দেনমোহর ধার্যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
তাদের অভিযোগের বরাত দিয়ে জানা যায় বিয়ের সময় জামাই কোন যৌতুক দাবি করেনি বা চায়নি কিন্তু বেশকিছু দিন ভালভাবে সংসার করার পর সে লতিফাকে দিনরাত নানাভাবে অত্যাচার করতে থাকে কিন্তু হটাৎ গত ১১/০৩/২০১৮ তারিখ রবিবার আসামী রফিকুল লতিফাকে বাপের বাড়ী হতে ২ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে হবে না হয় বাপের বাড়ী চলে যেতে বলে। কিন্তু প্রতিবাদী কন্ঠে লতিফা যৌতুকের বিরুদ্ধে সোচ্ছার হয়ে বলে আমার পিতা খুবই গরিব মানুষ সে এতো টাকা কোথায় পাবে? আমি এসব বলতে পারবোনা বলতেই সে আমাকে খুব মারধর করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বাশের চটা দিয়ে এলাপাতাড়ী মারে। এই খবর মেয়ের পিতা জানতে পেয়ে লতিফাকে উদ্ধার করতে যায় তখন তার সাথে স্থাণীয় ২ জন লোক লুৎফর ও সরদার রফিকুল ইসলাম নামে পাড়া প্রতিবেশী ছিল । তারপর লতিফাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ৪/৫ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর সামান্য সুস্থ হলে লতিফা সরাসরি বাপের বাড়ী চলে যায়। ভিমটিম জানায় আমার স্বামীর (রফিকুল) এর অজুহাত ছিল আমার কেন সন্তান হয়না, আমি কেন কাবু ও কালো এসব ছাড়াও সবসময় তার বিভিন্ন অজুহাত থাকে। কেন এই অত্যাচার কারন খোজ করতে লতিফা জানতে পারে সে যখন এনজিওতে চাকরী করতো সেখান থেকেই তার স্বামীর অন্য ১টি মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। সে এখন তাকেই বিয়ে করবে বলে চিৎকার করে বলে বেড়াচ্ছে। আর আমার যদি ফাসিও হয় তাহলেও লতিফাকে আমি আর ফিরে আনবো না। বর্তমানে আমার পরনারী লোভী স্বামী আমার কোন খোজ খবর নেয়না। ভরণ পোষন দেয়না। ফলে আমাকে বাপের বাড়ীতে থাকতে হচ্ছে অনেক কষ্ট করে।
রফিকুলের সাথে এবিষয়ে মোবাইলে কথা বলতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হয়নি তবুও তিনি বলেন সে আমার নামে সিথ্যা মামলা করেছে এজন্য আমি তালাক দিয়েছি। এখন আমি কোর্টের মাধ্যমে এর ফলসালা করবো। লতিফা অভিযোগ করে বলেন আমি কেন তাদের চাহিদা মতো ২ লাখ টাকা আনতে পারিনি। তাদের কথা না রাখায় আমার শাশুড়ীর শলা পরামর্শে আমার স্বামীর দ্বারা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এবিষয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগন ও চেয়ারম্যানরা ৪/৫ বার সালিশ করেছে কিন্তু সে তার কথায় অনড় আমাকে সে আর রাখবে না। কিন্তু বিয়ের সময় আমার বাবা রফিকুলকে আট আনা ওজনের একটি আংটি, আমাকে এক জোড়া কানের দুল দেয় যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, আট আনা ওজনের স্বর্নের চেইন দেয় যার মূল্য ৬৭ হাজার টাকা। তাছাড়া জামাইকে অনেক ধারকর্য করে হাতঘড়ি, খাট, লেপ, বালিশও তোষকসহ সংসারের নানা জিনিষ প্রদান করে যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এরপরও সে আমাকে প্রতিনিয়ত শারিরিকভাবে নির্যাতন চালালে থাকে যৌতুকের জন্য। আমার শাশুড়ূ আমাকে ফিঙ্গে বলে ডাকতো। পরবর্তীতে এসব জালা যন্ত্রণা সহ্য না করতে পেরে ১৯ মার্চ ২০১৮ তারিখ লতিফা খাতুন (খুকু) সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্বামীর বিরুদ্ধে পিটিশন মামলা দাখিল করে। পিটিশন মামলা নং-১১৯/২০১৮। কেস করার পর আমি জানতে পারি যে রফিকুল আমাকে ৪ মার্চ ২০১৮ তারিখে তালাক দিয়েছে কোর্টের মাধ্যমে সেই কপি আমার বাড়ীতে একটি লোক দিতে আসে ৯ মার্চ ২০১৮ তারিখে কিন্তু আমি সেটা গ্রহন করিনি। লতিফার দাবি করে বলেন যে কোন ভাবে শত অত্যাচার, দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেও আমি স্বামীর সংসার ফিরে পেতে চাই।

##