লাবসায় ১০ টাকা মূল্যের চাউলের কার্ড বিতরণ নিয়ে হ-য-ব-র-ল !


522 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
লাবসায় ১০ টাকা মূল্যের চাউলের কার্ড বিতরণ নিয়ে হ-য-ব-র-ল !
অক্টোবর ১২, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা সদরের লাবসা ইউনিয়নে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর তালিকা প্রস্তুত এবং কার্ড বিতরণে ইউপি চেয়ারম্যান এবং মেম্বরদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
“শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ” ”শেখ হাসিনার অঙ্গীকার ১০টাকা কেজি দরে চাল পাবে ৫০লাখ দরিদ্র পরিবার”  ¯ে¬াগানে  বর্তমান সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় দেশের অন্যান্য জেলার ন্যায় সাতক্ষীরায়ও  শুরু হয়েছে ১০টাকা দরে সূলভ মূল্যে,  দিন মজুর ও অতি দরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ।

সাতক্ষীরা সদরের লাবসা ইউনিয়নে ওই খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর তালিকা প্রস্তুত এবং রেশন কার্ড বিতরণে ইউপি চেয়ারম্যান এবং মেম্বরদের বিরুদ্ধে দলীয় করণ, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তালিকা তৈরি এবং কার্ড বিতরণে কোন কোন  ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে নগদ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
প্রকৃত  হতদরিদ্র অধিকাংশ পরিবারের সাধারণ মানুষদের বঞ্চিত করে স্বচ্ছল এবং ধনি পরিবারের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। আবার বিএনপি ও জামাত সমর্থক পরিবার খুজে খুজে একই পরিবারে ৪/৫টি করে রেশন কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড মাগুরা গ্রামের অজেদ আলীর কন্যা স্বামী পরিত্যক্তা পঙ্গু মহিলা মোমেনা খাতুন ময়না  সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল বাজারে একটি ছোট্্র চায়ের দোকান পরিচালনা  করে জীবিকা নির্বাহ করেন।  মোমেনা খাতুন ময়না একটি রেশন কার্ডের জন্য  স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং চেয়ারম্যান আব্দুল আলিমের নিকট একাধিকবার ধর্ণা দিয়েও কোন কার্ড পাননী তিনি। একই গ্রামের মৃত মোমিন মোড়লের স্ত্রী ফরিদা বেগম মিলবাজার মোজাফ্ফার মেম্বরের হোটেলে রান্নার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ফরিদা খাতুন রেশন কার্ডের জন্য দারেদারে ঘুরেছেন, কিন্তু ফরিদা বেগমের কপালেও ১০টাকা মূল্যের ওই কার্ড জোটেনী। অবশেষে অসহায় হতদরিদ্র দুই নারী আল¬াহর দরবারে বিচার দিয়েছেন। এমন পোড়াকপালী ফরিদা, মোমেনাদের মত শতশত হতদরিদ্র পরিবারের মানুষ ১০টাকা মূল্যের রেশন কার্ডের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

অপর দিকে মাগুরার মৃত রজব আলী সরদারের ছেলে মুদি ও ফল ব্যবসায়ী  আব্দুর রশিদ।  আব্দুর রশিদ  হরিণখোলা বিলের ১০বিঘা জমির মালিক। ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদের  স্বচ্ছল পরিবারে ১০টাকা মূল্যের রেশন কার্ড দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম।

এদিকে, লাবসার তালতলা-গোপীনাথপুর- ৯নং ওয়ার্ডের তালাতলা দক্ষিণ পাড়ার মৃত বাবর আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, তিনি ৬০/৭০বিঘা জমির মালিক এবং দুইতলা বিশিষ্ট বাড়ি রয়েছে  আব্দুর রাজ্জাকের, আব্দুর রাজ্জাকের নামে রেশন কার্ড দিয়েছেন চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম।

অপর দিকে, লাবসা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড দেবনগর  গ্রামের আব্দুল খালেক সরদারের ছেলে মৎস্য চাষী আরিজুল ইসলামের কার্ড দৌয়া হয়েছে। জোহর আলীর ছেলে জিয়াদ আলী যার দুই সন্তান পুলশ কং এ সরকারী চাকরীরত।  ইনতাজ আলীর ছেলে মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর, মৃত শামসুদ্দীন সরদারের ছেলে ৬/৭বিঘা জমির মালিক আব্দুল জব্বার,  রইচউদ্দীন সরদারের ছেলে ধান ও পাটের আড়তদার আব্দুল মজিদ, মৃত আব্দুল লতিফ সরদারের ছেলে ৪/৫বিঘা জমির মালিক দিদারুল আলম। ৬নং ওয়ার্ডের নলকুড়া গ্রামের একতলা বিশিষ্ট টাইলসের  বাড়ির মালিক ইউসুফ মিয়ার স্ত্রী বেসরকারী সংস্থায় চাকরীরত রুবিনা পারভিনের নামে কার্ড দেওয়া হয়েছে।

মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ২/৩বিঘা জমিসহ  ১তলা বিল্ডিং এর মালিক আব্দুল জলিল। থানাঘাটার শেখ আব্দুর রশিদের ছেলে মিলের চাতাল মিলসহ ২তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং বাড়ির মালিক শেখ আব্দুল আলিম ও শেখ আব্দুল তাজিম।  নলকুড়া গ্রামের মৃত মোতিয়ার রহমানের ছেলে বিজিবি সদস্য থেকে সদ্য অবসর প্রাপ্ত আবুল কালাম, মৃত ইমাদুল হকের ছেলে সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড় বাজারের মুদি ব্যবসায়ী ও পোল্ট্রি চাষী শেখ ফজলুল হক, সম্প্রতি ফজলুল হক প্রায় ২৫লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১০কাঠা জমির উপরে ১তলা বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। নলকুড়া আবুল কাশেমের ছেলে ৪বিঘা জমির মালিক ঘের ব্যবসায়ী  মৎস্য চাষী আবুল হাসান, মৃত রমজান আলীর স্ত্রী সাবেক ইউপি সদস্য ও ৪/৫বিঘা জমির মালিক নুর নাহার বেগম। নুর নাগার বেগমের দুই ছেলে একজন মৎস্য ব্যবসায়ী এবং অপর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ৬/৭ বিঘা পরিমান জমি বর্গা নিয়ে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ কারী ও  ১তলা বিশিষ্ট দুইটি বাড়ির মালিক আতিয়ার রহমান, তার  স্ত্রী আছিয়া বেগমের নামে কার্ড দেওয়া হয়েছে। ওই স্বচ্ছল পরিবারের দুই ছেলে একজন ব্যাংকে চাকরী করেন, অপর ছেলে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেন। ৩থেকে ৫শত পোল্ট্রি মুরগী চাষী ও দেড় লাখ টাকা মূল্যের মোটর সাইকেলের মালিক নাজমুল হকের স্ত্রী তাজকিরা আফরোজের নামে কার্ড দেওয়া হয়েছে। শাহাদাত হোসেনর ছেলে  সাতক্ষীর পৌর সভায় পানি সরবরাহ বিভাগে চাকরীরত নাসিমুল হাসান । মৃত আব্দুল মাজেদের ছেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবসর প্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল বারী এ সুবিধা ভোগ করছেন।  ৫নং ওয়ার্ডের লাবসা গ্রামের  মৃত আব্দুস সবুরের ছেলে সরকারী চাকরী থেকে অবসর প্রাপ্ত শেখ আব্দুল আমীন

বিনেরপোতা ১নং ওয়ার্ডের আনারুল ইসলামের স্ত্রী ট্র্যাক মালিক জর্ণা বেগমের নামে, মৃত নুর ইসলাম শেখের ছেলে ট্যান্সপোর্ট ব্যবসায়ী শাহাজান আলীর নামে, মৎস্য আড়ৎ মালিক হারুণ অর রশিদের স্ত্রী রুপিয়া বেগমের নামে, মৎস্য আড়ত এবং ট্র্যাকের মালিক রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শাহানারা বেগমের নামে, খেজুরডাঙ্গা ২নং ওয়ার্ডে মৎস্য আড়তসহ ১০বিঘা জমির মালিক আসাদুল ইসলামের স্ত্রী রেজোয়ারা ইয়াসমিন চম্পার নামে রেশন কার্ড দেওয়া হয়েছে।