সাতক্ষীরার শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজটি ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ধ্বংসের মুখে । কলেজ রক্ষার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদ এলাকাবাসীর


447 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজটি ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ধ্বংসের মুখে । কলেজ রক্ষার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদ এলাকাবাসীর
আগস্ট ২, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজটি নানা দুর্নীতি ও অনিয়রে আখড়ায় পরিনত হয়েছে। কলেজে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কোটি টাকার অর্থবানিজ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরা সদর আসনের এমপি, মুক্তিযুদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবির লিখিত সুপারিশে সম্প্রতি জামায়াত সমর্থিত অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক আব্দুস সোবহানকে আগামি ৩ বছরের জন্য করা হয়েছে দ্বিতীয় মেয়াদে সভাপতি। কলেজটি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের স্মরণে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত। সূচনালগ্নে স্থানীয় স্বাধীনতা বিরোধী চক্র কলেজটি ধ্বংস করতে চেয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মরহুম এএসএইচকে সাদেকের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের কারণে ষড়যন্তকারীরা সে সময় ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় এক ব্যক্তি মরহুম শাহেদ আলী, তৎকালীন শিক্ষা সচিব মোঃ শহিদুল আলম ও স্থানীয় স্বাধীনতা বিরোধীরা এক হয়ে নানা ষড়যন্ত্র, মামলা-হামলা, হয়রানী করেও ব্যর্থ হয় বলে জানাগেছে।
স্বাধীনতার শহীদদের স্বরণে প্রতিষ্ঠিত সাতক্ষীরা শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজটি স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের হাত থেকে রক্ষার জন্য গত ৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর আবেদন করা হয়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষে একাধিক ব্যক্তি লিখিত ওই আবেদন পত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে  পাঠানো লিখিত ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কাহিনী। লিখিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে,  বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায়। সাতক্ষীরা সদর আসনের এমপি মীর মোশতাক আহমেদ রবি যিনি মরহুম শাহেদ আলীর নিকটাত্মীয়। তারই ইঙ্গিতে কলেজে ভয়াবহ অনিয়ম সংগঠিত হয়েছে।

মিন্মে এই কলেজের বিভিন্ন দূর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হলো (প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠান আবেদন পত্রে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে ) :
——————————————————-
* কলেজের অধ্যক্ষ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আছেন ফজলুর রহমান। যিনি একসময় জাতীয় পার্টি করতেন। পরে জামায়াত ইসলামী এর এমপি’র দলভূক্ত হন। বর্তমানে আওয়ামীলীগের নেতা। তিনি ০১/১১/২০১৪ইং তারিখে অবৈধ গভর্ণিং বডির দ্বারা রেজুলেশন করে অবৈধ নিয়োগ বোর্ড দ্বারা ভাইস-পিন্সিপাল এর নিয়োগ পান। বৈধ গভর্ণিং বডি তাকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কারণে ০৯/১১/২০১৩ইং তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এই বরখাস্তকৃত শিক্ষকই আবার ১৮/০৬/২০১৫ (২৫/০৬/২০১৫ইং তারিখের ইন্টারভিউ বোর্ড হয়) নিয়োগ বোর্ড দেখিয়ে অধ্যক্ষ পদ দখল করেছেন। এখানেও অবৈধ গভর্নিং বডির অবৈধ রেজুলেশন দ্বারা নিয়োগ বোর্ড গঠিত। পরীক্ষা হয়েছে ২৫/০৬/২০১৫ইং তারিখে অথচ পরীক্ষা দেখানো হয়েছে ১৮/০৬/২০১৫ইং তারিখে।

* ভাইস-প্রিন্সিপাল এর বেতন ছাড় হয় মাউসি, মহাপরিচালক অফিস থেকে। এই অফিস তার নিয়োগের অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে এবং বেতন বন্ধ রেখেছে। সেকারণে তিনি ভাইস-প্রিন্সিপাল এর বেতন ভাতা পান না। তার ফলে তিনি নীতিমালা লঙ্ঘন করে সহকারী অধ্যাপকের (যে পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন) নভেম্বর ২০১৪থেকে জুন ২০১৫ পর্যন্ত বেতন ভাতা তুলে নিয়েছেন। যা নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন।

* ইতোপূর্বে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০/১১/২০১৩ইং তারিখের প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন করে কলেজ সভাপতি আব্দুস সোবাহান সাহেবকে দিয়ে অবৈধভাবে সভাপতি দায়িত্ব পালন করিয়েছে ৪ মাস ১০দিন। অর্থ্যাৎ ১০/০৪/২০১৪ইং তারিখ পর্যন্ত। এই সময়ে সভাপতির দায়িত্বে থাকার কথা ছিল সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার। উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনার্থে নির্দেশ জারি করলেও তিনি তা অমান্য করেছেন।

* সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে কলেজ ক্যাম্পাসে মূল্যবান গাছ কেটে মাত্র ছত্রিশ হাজার টাকায় বিক্রয় করেছেন। অথচ এর মূল্য আনুমানিক তিন লক্ষ টাকা। এক্ষেত্রে স্থানীয় কোর্টে একটি মামলা হয়েছে সেই মামলার বাদী কলেজের শিক্ষক জনাব জাহাঙ্গীর কবিরকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে। কোর্ট তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় ১ নং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাসিমুল হককে। তিনি প্রতিবেদন কোর্টে জমা দিয়েছেন।  স্থানীয় রেউই হাই স্কুলের শিক্ষক জনাব মফিজ স্থানীয় এম.পি রবি সাহেবের দ্বারা ভয়ভীতি দেখিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাল্টিয়ে নিয়েছেন।

* সম্প্রতি কলেজের ৩৫ জন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। যার মাধ্যমে দেড় থেকে দুই কোটি টাকা নিয়োগ বানিজ্য হয়েছে। নিয়োগ বোর্ড হয়েছে ১৮/০৬/২০১৫ইং তারিখে ও ২৫/০৬/২০১৫ইং তারিখে অথচ সকল নিয়োগ পরীক্ষা দেখানো হচ্ছে ১৮/০৬/২০১৫ইং তারিখে। ২৫/০৬/২০১৫ইং তারিখ পরীক্ষার দিন এম.পি মীর মোস্তাক  নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত থেকেছেন। হাটে গরু বিক্রির যেমন ডাক হয় তেমনভাবে শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে এবং নিয়োগ দেয়া হয়েছে অধিক টাকা প্রদানকারী ব্যক্তিকে। সেখানে মেধাকে মূল্যহীন করা হয়েছে।

* ফজলুর রহমান গত ২৮/০১/২০১৪ইং তারিখ থেকে ০৮/০২/২০১৪ইং তারিখ পর্যন্ত ভারতে অবস্থান করেছেন ভোমরা বর্ডার দিয়ে। যা ভোমরা বর্ডার রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ আছে। তার পাসপোর্ট নাম্বার-এফ ০৩৫০৫৩৬। এই গমনে গভর্নিং বডির অনুমোদন ছিল না।

* তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সেখান থেকে ভাতা গ্রহন করেন আবার কলেজের শিক্ষক এখান থেকেও বেতন নেন। যা সরকারী বিধি মালার পরিপন্থী।

* তিনি গরু চোরা কারবারীর সঙ্গে সরাসরি জড়িত অবৈধ পন্থায় কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন এবং সাতক্ষীরা শহরে দুটি বাড়ী ক্রয় করে মালিক হয়েছেন। যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

* তার ১৮ বছরের প্রতিবন্ধী কন্যাকে গলাটিপে হত্যার (পোস্টমর্টেমে প্রমানিত) মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালিয়ে যেতে চেষ্টা করেছিলেন।

* তিনি ১৬/০৯/২০১৩ থেকে ১৮/০২/২০১৪ইং তারিখ পর্যন্ত ২৮দিন একাধিকবার কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া স্টেশন ত্যাগ করে ঢাকায় আসা যাওয়া করেছেন এবং ২৮/০১/২০১৪ থেকে ০৯/০২/২০১৪ইং তারিখ পর্যন্ত ভারতে অবস্থান করেছেন। তার কলেজে আসা যাওয়া খুবই অনিয়মিত। পাঠদান নি¤œমানের। শিক্ষকদের মধ্যে প্রত্যক্ষ মারামারিতে লিপ্ত থাকায় তাকে গভর্নিং বডি সতর্কও করেছিলো। অথচ আজও তার অভ্যাস পাল্টায়নি।

* তিনি গভর্নিং বডির সভাপতি নাজমুল কবিরের সঙ্গে কলেজ চালানোর ব্যাপারে কোন সহযোগীতা করেন নি।

* গত ২৭/১০/২০১৪ইং তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ড. হারুন-অর-রশিদ সাহেবের কাছে একটি আদেশ পাঠান। উল্লেখিত বিষয়গুলি তদন্ত করার জন্য। ভাইস-চ্যান্সেলর সাহেব সেই তদন্ত প্রতিবেদন কোন আমলে নেন নি। শিক্ষা সচিব মহোদয় জনাব নজরুল ইসলাম খান সাহেব টেলিফোনের মাধ্যমে ভিসি মহোদয়কে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিলেও তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ভিসি মহোদয় তার অফিসের এক কর্মকর্তা জনাব তামিদ জামাল শিপু সাহেবের মাধ্যমে প্রভাবান্বিত হয়েছেন। তিনি এই শিপুর মাধ্যমে ভিত্তিহীন এক অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে জনাব নাজমুল কবিরকে সভাপতির পদ থেকে অব্যহতি দেন। কি অভিযোগ নাজমুল কবিরের বিরুদ্ধে ছিল তা তিনি আজও জানেন না। আর তদন্ত রিপোর্টে কি প্রমানিত হয়েছে তাও তিনি জানেন না। অথচ সভাপতি পদ থেকে সরে যেতে হলো। ব্যাপক হারে প্রচারিত যে এই শিপুর মাধ্যমে ভাইস-চ্যান্সেলর ব্যাপক অর্থ সংগ্রহ করে চলেছেন। এই ভাইস-চ্যান্সেলর মোবাইল ফোনে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মোঃ সহিদুর রহমান এর সঙ্গে দূর্ব্যবহার করে বলেছেন যে সারা দেশ জুড়ে অন্যায় হচ্ছে, আপনার ওখানেও অন্যায় হবে পারলে মেনে নেন না পারলে সরে যান। কি অদ্ভূদ দায়িত্বপূর্ণ পদে থেকে নীতি বিবর্জিত কর্মকান্ড এই সমস্ত লোকজনের। তার অফিসের দুই কর্মকর্তা অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করে অনিয়ম হয়েছে বলে মতামত দেয়ার পরেও তা তিনি আমলে নেন নি ঐ শিপুর কারণে। শিপু গংরাই এখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মের উৎসব পালন করছে। অবৈধ পথে টাকা কামাচ্ছে।

উল্লেখিত বিষয়গুলি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করতে যথেষ্ট। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় অথচ কলেজটি আজ দারুন ষড়যন্ত্রের স্বীকার। স্থানীয় এম.পি মীর মোস্তাক আহমেদ রবি সাহেবের দাদা ছিলেন মরহুম শাহেদ আলী। এই শাহেদ আলী সাহেবের কারণে কলেজটি যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্থ হয়। স্থানীয় এম.পি জনাব রবি সাহেব তার দাদার কর্মকান্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছেন। প্রতিহিংসামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

এমতাবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিকে বাচাবার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে আবেদনকারীরা।