সাতক্ষীরার শাল্যে এলাকায় বেতনা নদীর তলদেশে ভূমিধ্বস !


758 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার শাল্যে এলাকায় বেতনা নদীর তলদেশে ভূমিধ্বস !
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

মো. আসাদুজ্জামান :

হঠ্যাৎ করে বেতনা নদীতে ¯্রােতে নদীর তলদেশের পলিমাটি কাটায় প্রতিদিন উৎসুক হাজার হাজার নারী-পুরুষ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড় জমাচ্ছে বেতনা পাড়ে। প্রাকৃতিক খননে বেতনা পাড়ের মানুষের মধ্যে আনন্দ উৎসব কাজ করছে। আশায় বুক বাধছে তারা। তাদের আশা, মৃতপ্রায় বেতনা নদী আবারও আগের রুপে ফিরে আসবে।

এদিকে, অভিজ্ঞমহল ধারণা করছে, নদীর তলদেশে কোথাও এক জায়গাই ভূমিধ্বসের সৃষ্টি হয়েছে । যেখানে ভূমিধ্বস হয়েছে সেখান দিয়েই উজানের পানি পাতালে প্রবেশ করছে। ফলে নদীতে এভাবে উজানের ঢল নেমেছে।

রোববার দুপুরে শাল্যে এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বেতনা নদীর শ্যাল্যে ফেরীঘাট এলাকায় নদীর মাঝ বরাবর প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। ফলে উজান থেকে পানি এসে ওই সেখানে ব্যাপক ¯্রােতের সৃষ্টি হয়েছে। বেতনা নদীতে প্রবল বেগে পানি নামছে বিনেরপোতার দিক হতে মাছখোলা বাজারের দিকে। এই পানির ¯্রােত দেখতে প্রতিদিন ওই এলাকায় হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। এটাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় খাবার দোকান বসতে শুরু করেছে। জেলার অন্যন্য এলাকা থেকে গাড়ী ভাড়া করে মানুষ এটি দেখতে আসছে। অনেকে রোগ মুক্তির আশায় নদী থেকে পানি বোতল ভরে নিয়ে যাচ্ছে, নদীতে নেমে গোসল করছে। হিন্দুধর্মালম্বী মানুষেরা পূর্জাঅর্চনা করছে এটিকে কেন্দ্র করে। রীতিমতো এলাহী কা-। এই বিষয়টি এখন টক অফ দ্যা জেলা পরিণত হয়েছে।

এদিকে, তীব্র ¯্রােতে বিলের পানি নামার কারণে বেতনা নদী প্রাকৃতিক খননও শুরু হয়েছে। বর্ষার পূর্বে শাল্যে মাছখোলা এলাকায় বেতনার গভীরতা ছিল হাঁটুপানি। আর এখন তাল সমান পানি। ২০০০ সালের বন্যা এবং ২০১১ সালের বন্যার পর বিলের পানি নামার সাথে সাথে বেতনা সে সময় ১৫/২০ ফুট গভীর হয়। এবারও আশা করা হচ্ছে বেতনার গভীরতা বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা লতিফুল ইসলাম বলেন, ১০/১২ দিন আগে থেকে সুপারিঘাটা এলাকা থেকে এভাবে পানি প্রবল স্রোতে মাটি কাটার বিষয়টি জানাজানি হয়। তার পর আমাদের শাল্যে এলাকায় এই পানির ¯্রােত নদীর বাকে ধাক্কা খেকে নদীর গভীরতা বাড়ছে। এই বিষয়টি দেখার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাচ্ছে। অনেকে বলছে জিনে মাটি কাটছে এসব গুজব বা বানোয়াট ছাড়া কিছু নয়। প্রতি বছর এ সময় নদীতে এরকম পানির চাপে নিচের পলিমাটি কেটে যায়।

শাল্যে এলাকার ওমর ফারুক জানাচ্ছিলেন আরেক কথা, পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী খনন করলেও বর্ষা মৌসুমে কোন কাজেইতো আসেনি। বরং বেতনা এখন সাতক্ষীরাবাসীর জন্য দু:খ হয়ে দাড়িয়েছে।

তিনি আরো জানান, নদী খনন ও বেড়িবাধে ৫শ’ শ্রমিকদের মধ্যে অনেকে তাদের শ্রমের টাকা পাননি। ব্লুগোল্ড নামক একটি আন্তজার্তিক সংস্থা তার শ্রমের অর্ধেকের বেশি টাকা তাকে দেয়নি। প্রবল বেগে স্রোতে বেতনা নদী আবার তার পূর্বের যৌবন ফিরে পাক এমনটি আশা তার।

স্থায়ীয় কৃষক মহীদুল ও শাহীন আলম জানান, বেতনা নদীর জন্য পাশের বিলে এখন পানিতে ডুবে আছে। নদী গভীর হয়ে আবার যদি জোয়ার ভাটা ফিরে আসে তাহলে এই অঞ্চলের মানুষেরা জলাবদ্ধাতা থেকে মুক্তি পাবে এবং কৃষকরা উপকৃত হবে। পাচ ছয় বছরের মধ্যে এ রকম পানির চাপ দেখা যায়নি। পানির চাপে নদীর তলা কাটছে এটি অবশ্যই আল্লাহর কুদরত। তবে অনেকে পানি নিয়ে যাচ্ছে সেটি শিরক ছাড়া আর কিছু নয়। অন্য ধর্মের অনেকে পূজা অর্চানা করছে সেটি তাদের ধর্মের ব্যাপার।

এদিকে পানির ¯্রােত দেখতে আসা নগরঘাটা এলাকার শাহীন আলম নামের শিক্ষার্থী জানালেন, লোকমুখে বেতনা নদীর স্রোতের মাটি কাটার কথা শুনে এক পলক দেখার জন্য এসেছে সে। মুখে অনেক কিছু শোনা যাচ্ছে বাস্তবে সেটি নয়। নানা মানুষ নানা রকম গুজব ছড়াচ্ছে।

শহরের কাটিয়া থেকে নদীর স্রোত দেখতে আসা জলি পারভীন জানালেন, অনেকদিন পর বেতনা নদীর স্রোত ফিরে এসেছে লোক মুখে শুনে দেখতে চলে এলাম,অনেক ভালো লাগছে। লোক মুখে যেটি শোনা যাচ্ছে বাস্তবে সেটি ভিন্ন তবে নদীর পাড়ে ঘুরতে ভালো লাগে।

বেতনা নদীর পানি পান ও পানিতে গোসলের বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতারের মেডেসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট মো: আসাদুজ্জামান বলেন, নদীর পানির বিভিন্ন জিবাণু থাকে এটি পান করলে বা নদীর পানিতে গোসল করেলে ডাইরিয়া, কলেরাসহ বিভিন্ন পানি বাহিত রোগ হতে পারে। নদীর পানি পান করা বা গোসল করা থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন এই চিকিৎসক।

এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের ভূগোল বিভাগের শিক্ষক মিসেস কামরুন্নাহার বলেন, নদীর তলদেশে কোথাও একখানে ভূমিধ্বসের সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে ভূমিধ্বসের  সৃষ্টি হয়েছে সেখানে নদীর তলদেশ ক্ষয় হচ্ছে। ফলে পানি ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে ভূমিধ্বসের আশংকা রয়েছে বলে তিনি জানান।