সাতক্ষীরার শীর্ষ প্রতারক বাদশা মিয়া অস্ত্রসহ গ্রেফতার


750 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার শীর্ষ প্রতারক বাদশা মিয়া অস্ত্রসহ গ্রেফতার
মে ১, ২০২১ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ইয়ারুল ইসলাম :
সাতক্ষীরার শীর্ষ প্রতারক এস এম বাদশা মিয়াকে ( রিজেন্ট গ্রুপের প্রতারক শাহেদ করিমের মতো আরও এক প্রতারক ) গ্রেফতার করেছে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ। শনিবার সকালে সাতক্ষীরা শহরের কামালনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ১টি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, মন্ত্রী-এমপিদের সীলসহ প্রতারণার একাধিক উপকরন উদ্ধার করা হয়েছে। এস এম বাদশা মিয়া সাতক্ষীরা শহরের মধুমোল্যারডাঙ্গী গ্রামের হাতুড়ি ডাক্তার নূর ইসলামের ছেলে।

সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রতারক এস এম বাদশার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিবসহ বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের নকল নোট প্যাড, সীল, সংসদ সদস্যের ডিও লেটার ও বিভিন্ন প্রকার নিয়োগ পত্র এবং জমাজমি সংক্রান্ত কাগজ-পত্র জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। সে নিজেকে কখনও ডাক্তার, আবার কখনও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর পরিচয় দিতেন।

আবার কখনও ( বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় সভাপতি ) ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসাবে নিজেকে পরিচয় দিতেন। এছাড়াও বিভিন্ন মানুষকে টাকার বিনিময়ে চাকরিতে পদন্নতি, চাকুরী পাইয়ে দেওয়া, এমন কি যে কোন মামলার সুরাহা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন প্রতারনার অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার বেলা ৩ টায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রতারক এস এম বাদশা মিয়ার নানামুখি প্রতারনা নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার মো: মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি উপরোক্ত প্রতারণার বিষয়টি প্রেস ব্রিফিং-্ উল্লেখ করেন। এ সময় পুলিশ অন্যান্য কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ভয়ংকর প্রতারক বাদশা মিয়াকে নিয়ে পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিং-এ যা উল্লেখ করেছে

ভয়ংকর প্রতারক বাদশা মিয়া @ ডাঃ এস এম বাদশা মিয়া পুলিশের হাতে আটক প্রসঙ্গে।

বাদশা মিয়া @ ডাঃ এস এম বাদশা মিয়া(৩৭)।

পিতা-ডাঃ নুর ইসলাম, পেশা-হাতুড়ে ডাক্তার, অর্শ্ব (পাইলস) রোগের চিকিৎসা করে থাকেন।

ঠিকানা-পলাশপোল, মধুমোল্যার ডাঙ্গী, সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা।

শিক্ষা-৮ম শ্রেণী। সে কখনও ডাক্তারী বিষয়ে পড়াশুনা করেনি। তার পিতা অর্শ্ব (পাইলস) রোগের হাতুড়ে ডাক্তার হওয়ার সুবাদে বাদশা মিয়া নিজেকে ডাঃ এস এম বাদশা মিয়া হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে।

অপরাধ/প্রতারণার কৌশল-তার কোন বৈধ পেশা নেই। প্রতারণা করে মানুষের নিকট থেকে অর্থ আদায় করাই তার মূল ব্যবসা ও পেশা। সে নিজেকে ডাঃ এস এম বাদশা মিয়া, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস, প্রধানমন্ত্রীর মামলা পরিচালনাকারী, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টর, ক্ষমতাশীন আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা, বিভিন্ন মন্ত্রী ও এমপিদের পরিচয় দিয়ে তাদের সিল, প্যাড, ডিও লেটার, বাণী ইত্যাদি ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে চাকুরী পাইয়ে দেয়া, চাকুরীতে পদোন্নতি, চাকুরীর বদলী, মামলার রায় পাইয়ে দেয়া, জমিজমা উদ্ধার ও দখল ইত্যাদির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই মহা প্রতারক। সে এসকল কাজের জন্য দেশী ও বিদেশী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, এমপিসহ অনেকের)দের ছবি সংগ্রহ করে তাদের ছবির সাথে নিজের ছবি লাগিয়ে (এডিট করে) নিরীহ মানুষের নিকট নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য ও প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করে থাকে। সরকারের প্রভাবশালী আমলা, প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তাদের নিকট মিথ্যা পরিচয়ে তদবীর করে থাকে এবং তদবীর না শুনলে বদলী বা চাকুরীচ্যুত করার হুমকি ধামকি দিয়ে থাকে। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পরিচয় দিয়ে দেশের প্রতিটি জেলায় ও উপজেলায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের কমিটি গঠন করে তাদের নিকট থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

পিসিপিআরঃ
১। সাতক্ষীরা থানার মামলা নং-৩, তারিখ ০১/০৫/২০২১খ্রিঃ ধারা-১৮৭৮ সালে অস্ত্র আইনে ১৯-এ।
২। সাতক্ষীরা থানার মামলা নং-৫৩, তারিখ ২৩/০৯/২০০৮ খ্রিঃ জিআর নং-৫০২/ ধারা-৩৪১/৩৪২/৩২৩/৩৭৯/৫০৬
পিসি ১৮৬০
৩। সাতক্ষীরা থানার মামলা নং-১১১, তারিখ ২৮/০৮/২০১০ খ্রিঃ জিআর নং-৭৫১/১০ ধারা-৩৭৯ পিসি ১৮৬০
৪। সাতক্ষীরা জিআর নং-৩৮৪/০৯, ধারা-৩০৭/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩৭৯/৫০৬ পিসি ১৮৬০
৫। কালিগঞ্জ থানার মামলা নং-৬, তারিখ ০২/০৪/২০২১খ্রিঃ ধারা-১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩৮৫/৩৫৪/৩৮০/৪২৭/ ৫০৬/১১৪
পিসি-১৮৬০ রুজু হয়।

তার নিকট থেকে উদ্ধারকৃত মালামাল-
(১) ১টি পিস্তল সদৃশ ওয়ান শুটার গান , ২ রাউন্ড তাজা গুলি, যা তাকে গ্রেফতারের সময় তার কোমরে পাওয়া যায়।
(২) ৩টি সীল উদ্ধার। যথাক্রমে-
(ক) শেখ ফজলুর করিম সেলিম (গ.চ)
২১৬, গোপালগঞ্জ-২
সভাপতি
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এর সিল
(খ) ডাঃ এস.এম বাদশা মিয়া
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান
বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার
কেন্দ্রীয় কমিটি এর সিল।
(গ) ডাঃ মোস্তফা জামান
সাধারণ সম্পাদক
বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার
কেন্দ্রীয় কমিটি এর সিল।
(৩) শেখ সালাউদ্দীন জুয়েল
সংসদ সদস্য-১০০, খুলনা-২, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ এর অফিসিয়াল প্যাডে পুলিশ প্রধানকে
(আইজিপি) লেখা ডিও লেটার-১ টি
(৪) প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব লেখা অফিসিয়াল নোট প্যাড-১টি
(৫) মানবধিকার প্রতিদিন পত্রিকার স্ট্রিকার-১টি
(৬) ভূয়া ওয়ারেন্ট-২৫ টি
(৭) মসজিদের চাঁদা আদায়ের রশিদ বই-২০ টি (প্রতিটি ১০০ পাতা)
(৮) আদায়কৃত চাঁদার টাকা নগদ-৬৮,০০০/- টাকা
(৯) অন্যান্য আলামত

গ্রেফতারের সময় – অদ্য ০১/০৫/২০২১ খ্রিঃ তারিখ ভোর ০৫.৩০ ঘটিকা।
গ্রেফতারের স্থান- সাতক্ষীরা সদর থানাধীন কামালনগর বাইপাস জনৈক শফির মুদি দোকানের সামনে থেকে।

#