সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপকূল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ছয় গ্রাম প্লাবিত


214 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপকূল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ছয় গ্রাম প্লাবিত
এপ্রিল ১, ২০২১ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

সামিউল মনির ::

শ্যামনগর উপজেলাকে ঘিরে থাকা পাঁচ নং পোল্ডারের পশ্চিম দূর্গাবাটি অংশের উপকূল রক্ষা বাঁধ বুধবার রাত বারটার দিকে ভেঙে যাওয়ায় তদসংলগ্ন ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রাতের জোয়ারে পশ্চিম দূর্গাবাটি এলাকার সাইক্লোন শেল্টারের উত্তর প্রান্তে প্রায় দুইশ ফুট বাঁধ পাশের খোলপেটুয়া নদীতে বিলীন হলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়।
ভাঙন কবলিত অংশের পাশর্^বর্তী নদী থেকে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনের ফলে এমন শুষ্ক মৌসুমেও উপকূল রক্ষা বাঁধ ভাঙছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে একই অংশে বাঁেধর উপরিভাগ পাশের নদীতে নদীতে বিলীন হয়। তারপর থেকে টানা দু’দিন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা বালু /মাটি ফেলে ভাঙনের বিস্তৃতি ঠেকানোর চেষ্টা চেষ্টা করলেও বুধবার রাতে ভাঙনমুখে থাকা ঐ অংশের সম্পুর্ন বাঁধ নদীতে ধসে পড়ে।
এদিকে বাঁধ নদীতে বিলীন হওয়ায় ঐ অংশ দিয়ে জোয়ারের সময় নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় ইতিমধ্যে দূর্গবাটি, পোড়াকাটলা, ভামিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, মাদিয়াসহ ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার কয়েক হাজার বিঘা জমির চিংড়ি ঘের ও মিষ্টি পানির পুকুর লবন পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীর সাথে সমানতালে জোয়ার ভাটা চলতে থাকায় ভাঙন কবলিত অংশের দু’পাশের বাঁধে নুতনভাবে ফাটল দেখা দেয়ার পাশাপাশি সংলগ্ন অংশে গভীর খাদের সৃষ্টি হচ্ছে।
বুলবুল ও আম্পান এর ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ন অংশ প্লাবিত হওয়ায় এসব এলাকার মানুষ চরম অসহায় হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে। হাজার হাজার বিঘা জমির চিংড়ি ঘের, নিচু রাস্তা আর বসত ঘর-বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় ছয় গ্রামের প্রায় আট হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান।
ভাঙন কবলিত অংশে বসবাসকারী সাবেক ইউপি সদস্য নীলকান্ত রপ্তান জানান, মঙ্গলবার সকালে পশ্চিম দূর্গাবাটি এলাকার বাঁধের উপরের অংশ নদীতে ধসে যায়। পরবর্তীতে পাউবোর লোকজনের সহায়তায় স্থানীয়রা বালু ও মাটি ফেলে আটকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বুধবার মাঝ রাতের জোয়ারে আগের দিন আটল ধরা অংশসহ ঐ অংশের বাঁধ নদীতে বিলীন হয়।
ভামিয়া গ্রামের প্রমথ মহালদার জানান, দু’দিন ধরে কয়েক শত মানুষ কাজ করেও বাঁধের ভাঙন ঠেকানো গেল না। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন কবলিত অংশ বাধা না গেলে উচ্চ জোয়ারে নদীর পানিতে নুতন নুতন এলাকা প্লাবিত হবে।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে ঝুঁকিপুর্ন আর ভাঙনমুখে থাকা সত্ত্বেও পাশের নদী থেকে বালু ব্যবসায়ীদের অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এমন শুষ্ক মৌসুমেও বাঁধ ভাঙছে। তাদের অভিযোগ প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে পাশের নদী থেকে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন করায় নদীর চর দেবে যাওয়ার কারনে ঐ এলাকা ক্রমাগতভাবে ভাঙছে।
স্থানীয় বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল জানান, মঙ্গলবার বাঁধের কিছু অংশ ধসে গেলেও বুধবার রাতে পুরো বাঁধ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। জোয়ারের সময় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় নুতন নুতন এলাকা প্লাবিত হওয়ার শংকা জেগেছে। ইতিমধ্যে প্লাবিত ছয় গ্রামে খাবার পানির সংকট প্রবল হয়ে উঠেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাতক্ষীরা ডিভিশন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান পশ্চিম দূর্গাবাটি এলাকার ভাঙন কবলিত অংশের ভিতর দিয়ে আপাতত রিং বাঁধ নির্মান করে পানির প্রবেশ ঠেকানোর কাজ শুরু হয়েছে।

#