সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কেমন আছে প্রবাহমান আদী যমুনা


825 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কেমন আছে প্রবাহমান আদী যমুনা
জুন ১৭, ২০১৯ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

বিজয় মন্ডল ::

শ্যামনগরে প্রবাহমান আদী যমুনার ইতিহাস হয়তো অনেকেই যানে। কিন্তু কাল থেকে কালান্তরে অবৈধ দখল আর আর সরকারী অব্যাবস্থাপনায় যমুনা হারিয়েছে তার স্বাভাবিক প্রবাহ। যুগ যুগ ধরে শ্যামনগরের মানুষকে মায়ের মতো আগলে রাখা যমুনাকে জবাই করে খন্ড বিখন্ড করা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে রাস্তা, অবৈধ স্থাপনা। যমুনার খন্ড বিখন্ডিত অংশ গুলোতে ময়লা আবর্জনা ও বিষাক্ত বজ্য ফেলে করা হয়েছে আবর্জনার ভাগাড়। দীর্ঘ কয়েক যুগ যমুনাকে নিয়ে সরকারী কোন উদ্দোগ না থাকায় প্রবাহমান আদী যমুনা নদী খন্ডিত কিছু অগভির জলাশয়ে রূপ নিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে যমুনা যে নিরবে কাঁদতে শুরু করেছে অনেক আগে থেকেই, যমুনার নিরব কান্নার অশ্রু যে প্রতি বর্ষা মৌসুমে ফুলে ফেঁপে উঠে শ্যামনগর বাসীকে প্লাবিত করে, ঘটায় চরম পরিবেশ বিপর্যয় সেটা যেন শ্যামনগর বাসী বার বার ভূলেই যায়।

শরৎচন্দ্রের মৃত্যুজ্ঞয়কে নির্ঘাত মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনা বিলাসীর করুন মৃত্যুতেও বিন্দুমাত্র আপসোস করেনি তৎকালীন সমাজের মানুষেরা, কিন্তু শ্যামনগরে প্রবাহমান আদী যমুনা নদীর করুন মৃত্যু হলে যে শ্যামনগর বাসীকে যুগের পর যুগ বছরের পর বছর আফসোস করে যেতে হবে একথা বোদহয় বলা যেতে পারে।

যাহোক শ্যামনগর বাসীকে আশার আলো দেখিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যমুনায় আবার প্রবাহ আনতে, যমুনার খন্ড বিখন্ডিত অংশগুলোকে আবার জুড়ে দেওয়ার প্রচেষ্টায় কয়েকটি ছোট ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু শ্যামনগরে যমুনায় প্রবাহ আনতে যমুনাকে জুড়তে সবচেয়ে গূরূপ্তপূর্ণ যে স্থান গুলোতে ব্রীজ নির্মাণ দরকার সেসব জায়গায় আদৌ ব্রীজ হবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে শংশয়। এখোন পর্যন্ত যে স্থান গুলোতে ব্রীজ নির্মাণ হয়েছে সেগুলোর প্রায় প্রতিটিই হাস্যকর নির্মানে রূপ নিয়েছে। কারন এর কোনটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা বর্তমানে অবশিষ্ট যমুনা নদীকে আরো বেশি ছোট করতে ভূমিকা রাখে। কোনটির নিচে বা সামনে মাটি, আবর্জনা জমে উঁচু হয়ে উঠেছে। কারন ব্রীজ নির্মাণ হলেও, ব্রীজের দুপাশে আশানুরুপ কোন খনন কাজ হয়নি। কোনটির সামনে আবার পাটার দেওয়াল তোলা হয়েছে, যেকারনে প্রবাহ না হয়ে মাটি জমে গিয়েছে। আবার কোন ব্রীজ দেখলে মনে হবে একটা পুকুরের মাঝখানে একটা ব্রীজ, তার দুপাশে যমুনার বুকে বাঁধ রয়ে গেছে। শ্যামনগর বাসী এখন শ্যামনগরকে পৌরসভায় রূপদানের সপ্ন দেখছে। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের সবচেয়ে বড় উপজেলা সুন্দরবনের গাঁ ঘেঁষা পর্যটনে অবাধ সম্ভাবনাময় শ্যামনগর বাসীর এ সপ্নকে অনেক বড় সপ্ন বলা যায় না। কিন্তু এই ছোট সপ্নটিই যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে কি যমুনা আর কাঁদবে না, তার সেই প্রবাহ ফিরে পাওয়ার আশায়?

শ্যামনগর শহরকে দুভাগ করে বয়ে যাওয়া প্রবাহমান আদী যমুনার যে প্রশস্ততা এখোনো বর্তমান রয়েছে তাকে কাজে লাগিয়ে এটাকে করা যেতে পারে পর্যটনে অবাধ সম্ভাবনাময় শ্যামনগরের মানুষের প্রানের দাবি শ্যামনগর পৌরসভার অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

কিন্তু শ্যামনগরে প্রবাহমান আদী যমুনার সম্ভাবনা দেখতে না পাওয়া, যমুনার নিরব কান্না দেখতে না পাওয়া, যমুনায় প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে না পারার এ ব্যর্থতা কার, এ ব্যর্থতা কি শুধুই প্রসাশনের নাকি শ্যামনগর বাসীর নিরাবতার।