সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চার সন্তানের জননী বিধবাকে গনধর্ষণ !


479 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চার সন্তানের জননী বিধবাকে গনধর্ষণ !
এপ্রিল ৩০, ২০২০ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
শ্যামনগর উপজেলার কুলতলী গ্রামে চার সন্তানের জননী এক বিধবা নারী গনধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে স্থানীয় পাঁচ লম্পটের লালসার শিকার হওয়া ঐ বিধবা নারী বৃহস্পতিবার পাঁচ ধর্ষকের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় মামলা করেছে।

শ্যামনগরের শ্রীফলকাঠি গ্রামে বসবাসরত ঐ নারী নিজের মেয়ের জন্য পাত্র দেখতে কদমতলা এলাকায় যাওয়ার পর ঘটক ও তার চার সহযোগী কৌশলে তাকে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালায়। শ্যামনগর থানা পুলিশ ইতিমধ্যে মামলা রেকর্ড হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে দ্রুত সকল ধর্ষককে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে ধর্ষকদের একজন স্থানীয় এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির আত্বীয় হওয়ায় নির্যাতিতা নারীর পরিবারের সাথে আপোষরফার প্রাথিমক চেষ্টা ব্যর্থ হলেও দরিদ্র ঐ নারীল পরিবারকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী জানায় ‘তার মেয়ের বিয়ের জন্য পাত্র দেখানোর কথা বলে ঘটক কুলতলী গ্রামের অফেজউদ্দীন গাজীর ছেলে মহসীন হোসেন তাকে কদমতলায় নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে আরও একজন ভাল পাত্রের অভিভাবকের সাথে কথা বলার অজুহাতে বুধবার বিকালের দিকে তাকে ভাড়াটিয়া মটর সাইকেল চালক (বাবু) এর সহায়তায় কুলতলি গ্রামে নিয়ে যায় মহসীন।

বিধবা ঐ নারী আরও জানায় পথিমধ্যে পর্যায়ে সন্ধ্যা হওয়ার সুযোগে একই এলাকার একটি চিংড়ি ঘেরের বাসায় আটকে রেখে চার সহযোগীসহ মহসীন তাকে ধর্ষন করে’।

নির্যাতনের শিকার নারীকে উদ্ধারকারী ঘের কর্মচারী আলমগীর হোসেন ও শুধাংসু মন্ডল জানায় ‘রাতে তারা পাহারার সময়ে অনতিদুরের একটি চিংড়ি ঘেরের বাসা থেকে কোন নারীর চিৎকার শুনতে পায়্। দ্রুত তারা ঘটনাস্থলে পৌছাতেই সফিকুল, মহসীন, বাবু, গোলাম রব্বানী ও হান্নানসহ আরও দুইজনকে হেটে যেতে দেখেন। পরবর্তীতে নির্যাতনের শিকার নারীকে উদ্ধার করে রাতে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ নজরুল ইসলামের বাড়িতে নিয়ে যায়। তারা আরও জানায় ঘনাস্থলে তারা না পৌছালে ধর্ষকদের অপক্ষেমান আরও কয়েক সহযোগীর দ্বারা নির্যাতিত হওয়ার শংকা ছিল ঐ নারীর’।
গ্রাম পুলিশ নজরুল ইসলাম জানায়, রাতে স্থানীয়রা ধর্ষণের শিকার ঐ নারীকে তার বাড়িতে পৌছে দেয়। পরে রাত গভীর হওয়াতে নিজের বাড়িতে রাখার পর দুপুরের দিকে শ্যামনগর থানায় পৌছে দেয়া হয়। তিনি আরও জানায় ঘটনাটি জানাজানি হতেই ধর্ষক সফিকুল ইসলামের মামা রামচন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল খালেক পঞ্চাশ হাজার টাকায় বিষয়টির মিমাংসা করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে।

ধর্ষণের শিকার নারীর বিষয়ে পুলিশকে রাতেই অবহিত করা মানবাধিকার কর্মী হাফিজুর রহমান নাইম জানায় ধর্ষণের শিকার নারীর কাছে বর্ননা শুনে রাতেই স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে যেয়ে সত্যতা নিশ্চিত হন। তিনি জানান পাঁচ ধর্ষকের অন্যতম সফিকুল ইসলামের নিকটাত্বীয় এক জনপ্রতিনিধি বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। যার কারনে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা আলোচিত এ ধর্ষণ ঘটনার তথ্য নিতে নুরনগর ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার পর তাদেরকে পরিষদ থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

হাফিজুর রহমান নাইম আরও জানায় অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়াতে দরিদ্র ও সহায় সম্বলহীন ঐ নারীর জীবনে ঘটে যাওয়া এমন দুঃসহ ঘটনার বিচার পাওয়া নিয়ে শুরুতেই সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে যে মহসীন, গোলাম রব্বান, বাবু ও হান্নান এবং সফিকুলসহ তাদের গ্রুপের ১৫/১৬ জন খুব দুর্ধর্ষ্য প্রকৃতির। ইতিপুর্বে একাধিক ধর্ষন ঘটনায় জড়ানো এই গ্রপের দুই সদস্য এখন মাদক ব্যবসার কারাগারে রয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগে এই গ্রুপের দুই সদস্য স্থানীয় হাজীপুর গ্রামের এক কিশোরীকে গনধর্ষণ করে খবরের শিরোনাম হয়। এছাড়া তাদের আরও কয়েক সহযোগী কয়েক বছর আগে নুরনগর আশালতা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর উপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে তার ভিডিও চিত্র ধারন করে ইনটারনেটে ছড়িয়ে দেয়।

অপর একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানিয়েছে বুধবার দিবাগত রাতে বিধবা নারীকে ধর্ষন ঘটনায় কুলতলীর অফেজউদ্দীনের ছেলে মহসীন হেসেন (৩০)সহ রামচন্দ্রপুরের মুজিবর রহমানের ছেলে সফিকুল (২৪) ও মৃত আব্দুল দফাদারের ছেলে হান্নানের (২৭), দক্ষিন হাজীপুর দীঘির পাড় এলাকার আদম আলীর ছেলে সফিকুর রহমান বাবু(৩০) ও কাটাখালীর আব্দুস সাত্তার গাইনের ছেলে গোলাম রব্বানী (২৩) এর বিরুদ্ধে নির্যাতনের শিকার নারী বাদি হয়ে এজাহার জমা দিয়েছে।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাজমুল হুদা ঘটনার স্বীকার করে জানান, নির্যাতিতার লিখিত অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করার পর আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে নেমেছে।