সাতক্ষীরার শ্যামনগরে তিন সন্তানসহ স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা


295 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে তিন সন্তানসহ স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা
মার্চ ১৩, ২০২০ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

সামিউল মনির ::

তিন সন্তানসহ স্ত্রী আছিয়া খাতুনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আনিছুর রহমান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় বিয়েসহ শাররীক নির্যাতনের অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করায় এমন কান্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ ঘটনার শিকার গৃহবধুর। দুই শিশুকে নিয়ে আহত আছিয়া খাতুন বর্তমানে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ষে চিকিৎসাধীন। রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের চুনকুড়ি গ্রামে।

আহত গৃহবধু আছিয়া খাতুন জানায় সংসারে ১১ মাস এবং তিন ও সাত বছর বয়সী তিনটি সন্তান থাকা সত্ত্বেও তার স্বামী আনিছুর রহমান কয়েক মাস আগে পাশের গ্রামের এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে শাররীক নির্যাতেনর মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে এক পর্যায়ে সে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে চলে যায়। সম্প্রতি বাড়িতে ফিরে আসার পর সন্তানসহ তার খোঁজ খবর নেয়া বন্ধ করে দিলে আছিয়া বাদি হয়ে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করে।
আছিয়া খাতুনের অভিযোগ বিজ্ঞ আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যানের উপর দায়িত্ব দেয়ায় মামলার বিষয়টি আনিছুর জানতে পারে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে স্বামী আনিছুর তার শোবার ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়।
আছিয়ার মা মজিদা বেগম অভিযোগ করেন মেয়ে ও নাতিদের নিয়ে তিনি একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেন। কাজের জন্য বাইরে থাকার সুযোগে আনিছুর তার লোকজন নিয়ে দুপুরে কারিতাস নামীয় এনজিও’র দেয়া একমাত্র শোবার ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুনের ঘটনা বুঝতে পেরে হাক-চিৎকার দিয়ে লোকজন ডাকার চেষ্টা করলে তারা আছিয়াকে বেধড়ক মারপিট করে। এসময় নিচের পেটে মারাত্বক আঘাত প্রাপ্ত হয়ে অবিরাম রক্তক্ষরণ হওয়ায় তৎক্ষনাত স্থানীয়দের সহায়তায় আছিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আনিছুরের মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে এক নারী নিজেকে আনিছুরের বোন পরিচয় দিয়ে জানায় আছিয়াকে কেউ মারেনি। সে নিজেই ঘরে আগুন দিয়ে হাসপাতালে যেয়ে ভর্তি হয়েছে। স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিনা সাইদ বলেন, আনিছুর আবারও বিয়ে করার পর থেকে আছিয়ার উপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে আসছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মিমাংসার চেষ্টা করেও সফল হওয়অ যায়নি।
তিনি আরও বলেন আনিছুরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় আমাকে তার পক্ষে স্বাক্ষী দেয়ার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু সম্মত না হওয়ায় সে আমার সাথেও দুর্ব্যবহার করে।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কল্লোল বলেন, আছিয়ার রক্তক্ষরণ আগের তুলনায় কমে গেছে। আরও কিছু পরীক্ষার পর তার শাররীক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত ধারনা দেয়া যাবে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাজমুল হুদা জানান, নুতন করে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

#