সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের টয়লেটের বেহাল দশা


406 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের টয়লেটের বেহাল দশা
এপ্রিল ২৭, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::
সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের টয়লেটের বেহাল দশায় স্কুল শিক্ষার্থীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ব্যবহারের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে টয়লেটগুলো। অনুসন্ধানে ও একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে বেরিয়ে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। জিহানের বয়স দশ। এখনই পেটের সমস্যায় ভুগছে। সে প্রতিদিন ওঠে ভোরে। কোন রকমে দাঁত ব্রাশ করেই স্কুলে যেতে হয় খুব সকালে। বাথরুমটা পর্যন্ত ঠিকমতো করার সময় পায় না। এসব বাচ্চাদের কথা ‘স্কুলে যেয়ে না হয় বাথরুম করা যাবে। স্কুলে গিয়ে তো আর দাঁত ব্রাশ করা যাবে না।’ স্কুল শেষ হয় এগারটা বিশ মিনিটে। সাথে সাথে শুরু হয় স্কুলের কোচিং। শেষ হতে হতে দুপুর দেড়টা। এর মধ্যে যতই চেষ্টা করুক বাথরুমে আর যেতে পারে না। গোপাল ভাড়ের গল্পে বলা আছে পৃথিবীর বড় সুখ টয়লেট সম্পন্নে। কিন্তু সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টয়লেট করার সেই সুখ ভোগের জন্য টয়লেটে বসে প্রকৃতির কাজ সম্পন্ন করার কোন সুযোগ নেই। ব্যাপারটা শ্রেণি শিক্ষকদের বাড়াবাড়ি করার কারণে? না এরকম নয়। জিহানদের যতই সুযোগ দেয়া হোক তারা তো তাদের স্কুলের টয়লেটে টয়লেট কাজটি সম্পন্ন করতে পারবে না। ফলে স্কুলের শিক্ষার্থীরা ছয় সাত ঘন্টা ধরে পেট চেপে থাকে। ছয় সাত ঘন্টা পরে বাসায় ফিরে তারপর তাদের পেট খালি করতে হয়।
এরকমই এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে মঙ্গলবার ছুটির দিনে ছিল শুধু স্কুল কোচিং। সেই স্কুল কোচিং শেষ হতে না হতে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র মুশফিক, বারিদের অবস্থা দাঁড়ায় গুরুতর অসুস্থতায়। থামতেই চায় না পেটব্যাথা। তার সাথে আছে বমিবমি ভাব। শেষ পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন পড়ে। সেখানে উপস্থিত চিকিৎসকরা বলেন, শিশুদের এরকম সমস্যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

স্কুল ছাত্র হিমাদ্রী বলে, আমাদের স্কুলের টয়লেটগুলো ব্যবহারের অযোগ্য। কারণ, টয়লেটে প্রচন্ড দুর্গন্ধ ছড়ায়। টয়লেটের দুর্গন্ধ স্কুলের ক্লাসরুমেও চলে আসে।
স্কুল ছাত্র অনি বলে, আমাদের স্কুলের ২য় তলার টয়লেটের প্যান ভরা থাকে। সেটা ব্যবহার করা যায় না। আমাদের নিচ তলার ১টা টয়লেটের দেওয়াল সহ প্যান ভেঙ্গে পড়েছে। সেটা কোনো ভাবেই ব্যবহার করা যায় না।

স্কুল ছাত্র শুভ বলে, আমাদের স্কুলের কোনো কোনো টয়লেটের ছিটকিনি নেই। ফলে একজন ঢুকলে আর একজন ভুল করে ঢুকে পড়ে। এতে করে আমরা লজ্জাবোধ করি।
এদিকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে এসব বিষয়ে প্রচন্ড ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা যেভাবেই হোক টয়লেটের মতো অতিজরুরী বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে সমাধানের আহবান জানিয়েছে।

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা খাতুনের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি অফিসের টেলিফোন অন্যকে দিয়ে রিসিভ করিয়ে থাকেন। বুধবার দুপুর ১টা ৩৬মিনিটে ব্যক্তিগত সেলফোনে কল দিলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন স্কুলে নেই, বাড়িতে। বাড়িতে আমি এসব বিষয় নিয়ে কথা বলবো না।’
এদিকে ভুক্তভোগী শিশুদের অভিভাবকরা এ বিষয়ে বলেন, এতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যেতে পারেন না। উনার থেকে অনেক বড় গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারাও এধরণের আচরণ করেন না।