সাতক্ষীরার সীমান্ত দিয়ে আসছে ভারতীয় গো-মাংস, কমদামে ফেরি করে বেচাকেনা


173 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার সীমান্ত দিয়ে আসছে ভারতীয় গো-মাংস, কমদামে ফেরি করে বেচাকেনা
ডিসেম্বর ২, ২০২১ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান ::

সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে ফেরি করে বিক্রি
হচ্ছে ভারতীয় গরুর মাংস। চোরাচালানীরা ভারতে জবাই করা গবাদিপশুর মাংস
চোরাইপথে বাংলাদেশে নিয়ে আসার পর তা হাটে বাজারে ও গ্রাম এলাকায় কম
দামে বেচাকেনা করছে। বাংলাদেশের বাজারমূল্য অপেক্ষা এই গরুর মাংসের দাম
অনেক কম হওয়ায় ক্রেতারাও তা কিনছেন হরহামেশা।
সাতক্ষীরা সীমান্তের কাকডাঙা, কেঁড়াগাছি, তলুইগাছা, বৈকারি,
কুশখালিসহ কলারোয়ার কয়েকটি এলাকার চোরাকারবারিরা সাইকেল, ভ্যান অথবা
মোটরসাইকেলে করে বস্তাভর্তি এই মাংস ফেরি করছে। এই মাংস বিক্রি হচ্ছে
কেজি প্রতি ২৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায়। কোন কোন সময় এর কমেও
বেচাকেনা হচ্ছে। প্রতিদিন ভোরে গ্রামে গ্রামে তারা পৌছে দিচ্ছে এই
মাংস। আগ্রহী ক্রেতারাও কমদামে তা কিনে নিচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বাংলাদেশের বাজারে জবাইকৃত গরুর মাংস সচরাচর ৫০০ থেকে
৫৫০ টাকায় বিক্রি হয় প্রতিকেজি। অথচ চোরাপথে আসা মাংসের দাম তার
অর্ধেকের কিছু বেশী। এমন অবস্থায় দরিদ্র ক্রেতারা এর প্রতি ঝুকে পড়ছেন।
বিশেষ করে যারা অসচেতন তারাই এই মাংস ক্রয় করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কসাইদের কাছেও
চোরাচালানের এই মাংস কম দামে সরবরাহ করা হয়। ফলে মাংস ব্যবসায়ী কসাইরা
দেশীয় মাংসের সাথে মিশাল দিয়ে বাড়তি মুনাফা লুটে নিচ্ছে। স্থানীয়
বাসিন্দারা বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র কড়া নজরদারির কারনে
ভারতীয় গবাদিপশু বাংলাদেশে আসতে পারছে না। ফলে চোরাকারবারিরা ভারতীয়
এলাকায় গরু জবাই করে তা মাংস হিসাবে এই সীমান্তে পাঠিয়ে দিচ্ছে। দাম
কম হওয়ায় ক্রেতারাও এর দিকে ঝুকে পড়ছেন। বিজিবি সদস্যরা প্রায়ই এসব
মাংস আটক করে থাকেন। তা সত্ত্বেও গরুর মাংসের চোরাচালান থামছে না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিজিবির ৩৩ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল আল
মাহমুদ জানান, চোরাপথে ভারতীয় গরুর মাংস বাংলাদেশের এলেই আমাদের সদস্যরা
আটক করে থাকে। প্রায়ই আমাদের অভিযানে এই মাংস জব্দ করা হয়। পরে তা আমরা
মাটিচাপা দিয়ে নষ্ট করে ফেলি।

#