সাতক্ষীরার সুন্দরবন ক্লিনিকে সিজার রোগী মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে দৌড়-ঝাপ ! একজন আটক


491 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার সুন্দরবন ক্লিনিকে সিজার রোগী মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে দৌড়-ঝাপ ! একজন আটক
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর স্বাস্থ্য
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক / মো: কামরুজ্জামান মোড়ল :
সাতক্ষীরার সুন্দরবন ক্লিনিকে ডাক্তারের ভূল চিকিৎসায় সিজার রোগী নূর জাহানের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও সিভিল সার্জন অফিস কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাদের ভূমিকা নিয়ে রিতিমত প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে, সোমবার সাতক্ষীরার কয়েকটি গণমাধ্যমে এ সংবাদ প্রকাশিত হলে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে ক্লিনিকের মালিক আবুল খায়ের, মো: কসিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টরা।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, উন্নয়ন মেলায় ব্যস্ততার কারণে সোমবার কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার রোগী মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এদিকে, সুন্দরবন ক্লিনিকে সিজার রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমসহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশের পর সোমবার বিকালে পুলিশ ওই হাসপাতাল থেকে ওবায়দুল ইসলাম নামের একজনকে আটক করেছে। জানাগেছে, আটক ওবায়দুল ইসলাম সুন্দরবন ক্লিনিকে পার্টনার। দীর্ঘদিন যাবত সে ওই ক্লিনিক ব্যবসার সাথে জড়িত।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি এমদাদ শেখ জানান, ওবায়দুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ওই ক্লিনিকের সাথে জড়িত থাকলে তাকে আটক করা হবে।

সূত্র জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সুন্দরবন ক্লিনিকে নূর জাহানের একটি কন্যা সন্তান হয়। ওই দিন সকালে সিজার করার জন্য তাকে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সুন্দরবন ক্লিনিকে ডা. শরিফুল ইসলাম ওই রোগীর সিজার করেন এবং অ্যানিস্থেশিয়া প্রদান করেন সদর হাসপাতালের ডাক্তার ডা. আরিফুজ্জামান রানা। অপারেশনে নূর জাহানের কন্যা সন্তান হয়। অপারেশনে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণ হলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে নি ডাক্তাররা। ২৩ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন ক্লিনিকেই নূর জাহান মারাত্বক অসুস্থ্য হয়ে পড়লে সুন্দরবন ক্লিনিকের ডাক্তার শরিফুল ইসলাম, ডা. আরিফুজ্জামান রানা ও ম্যানেজার আবুল খায়ের তড়িঘড়ি করে ওই রোগীকে খুলনায় পাঠিয়ে দেয়। খুলনা সার্জিক্যালে ভর্তির আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ।

নিহতের স্বামী আলমুন হোসেন জানান, সাতক্ষীরার সুন্দরবন ক্লিনিকের ডাক্তারের ভূল চিকিৎসায় তার স্ত্রী নূর জাহানের মৃত্যু হয়েছে। সিজার হওয়ার পর রোগীর রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়নি। রোগীর শরীরের ভিতরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারনেই রক্তশূন্য হয়েই তার স্ত্রী’র মৃত্যু হয়েছে বলে খুলনার ডাক্তারা তাকে জানিয়েছেন। তিনি সুন্দরবন ক্লিনিকের ডাক্তার শরিফুল ইসলাম, ডা. আরিফুজ্জামান দৃষ্টান্তমূলক শস্তি দাবী করেন। অন্যদিকে তিনি এসব নাম সর্বস্ব ক্লিনিক বন্ধেরও দাবী জানান।
নিহত নূর জাহান ৩ কন্যা রেখে মারা গেছে। মা মারা যাওয়ার পর তার ৩ দিন বয়েসের মেয়ে মুক্তিকে ক্লিনিক থেকে তার স্বজনেরা বাড়িতে নিয়ে গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সামনেই (খুলনা রাস্তার মোড়ে)  অবস্থিত ‘সুন্দরবন ক্লিনিক’। মো: কসিম উদ্দিনের নামে ক্লিনিকের রেজিস্টেশন হলেও মো. আবুল খায়ের, ওবায়দুল ইসলামসহ ৫ জন মিলে ক্লিনিকটি পরিচালনা করে থাকেন। প্রত্যেকে পেশায় ব্যবসায়ী হলেও পরিচালনা করছে ক্লিনিক। ক্লিনিকের মালিক আবুল খায়ের নিজেই ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, ২০০৫ সালে ১৪ জানুয়ারি কসিম উদ্দিনের নামে ক্লিনিকটি রেজিস্ট্রেশন করা হয়। সেখানে ১০ শয্যার ক্লিনিকের অনুমোদন নেওয়া হয়। বিধি অনুযায়ী, ১০ শয্যার ক্লিনিকে ৩ জন ডাক্তার, ২ জন ডিপ্লোমাধারী নার্স ও ৩ জন সুইপার থাকা বাঞ্চনীয়। একই সাথে ৮০০ বর্গ ফুট যায়গা, সার্বক্ষণিক একজন ডাক্তার, নার্স ও সুইপার থাকতে হবে।
সূত্র জানায়, দোতলা এ ক্লিনিকে ৮০০ বর্গফুট যায়গা নেই। নেই সার্বক্ষণিক কোন ডাক্তার ও ডিপ্লোমাধারী নার্স। মোবাইল ডাক্তার দিয়ে চলছে ক্লিনিকের কার্যক্রম। ক্লিনিকের সাইন বোর্ডে অত্যধুনিক বেসরকারি হাসপাতল লেখা খাকলেও হাসপাতালের জনবল সেখানে নেই। নেই রোগীদের জন্য নূন্যতম সেবা।

সূত্র আরো জানায়, ক্লিনিকে জরুরী প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের মতো পর্যাপ্ত কোন পথ নেই। ক্লিনিকের প্রবেশ পথ সরু। নিচ তলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। নিচ তলায় রিসিপশন দেখলে গুদামঘর মনে হবে।

নাম প্রকাশ না করে ক্লিনিকে একজন ভর্তি রোগী জানান, ক্লিনিকে কোন ডাক্তার থাকে না। কয়েকজন ডাক্তার ফোন করতে অন্তত ১/২ ঘন্টা পরে আসেন। ক্লিনিকের পরিবেশ ভালো না। বাথরুমে প্রচন্ড দুর্গন্ধ।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, রোগী মৃত্যুর ঘটনা পত্রিকায় দেখেছি। উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনের কারণে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি। মঙ্গলবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো জানান, ক্লিনিকের অবস্থা খারাপ হলে প্রশাসন চাইলে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে ক্লিনিক বন্ধ করতে পারেন।