সাতক্ষীরার স্বপ্নের বাইপাস সড়ক নির্মাণের সকল বাধা দূর হলো


2487 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার স্বপ্নের বাইপাস সড়ক নির্মাণের সকল বাধা দূর হলো
আগস্ট ১০, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক:
প্রতিশ্রুতির ৬ বছরে সাতক্ষীরা বাইপাস সড়ক নির্মাণের সকল বাধা দূর হয়েছে। মঙ্গলবার একনেকের বৈঠকে ১৭৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা অনুমোদনের মাধ্যমে মূল সড়কের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ২০১০ সালে ১১৬ কোটি থাকলেও ২০১৫ সালে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবে ১৭৪ কোটি টাকা রাখা হয়। সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুরুল করীম জানান, প্রকল্পের ভোমরা সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। বাইপাসের ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। কয়েকটি ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। একনেকে অনুমোদনের ফলে মূল সড়কের কাজ শুরু হবে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ২৩ জুলাই শ্যামনগরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরায় বাইপাস সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরে সড়ক ও জনপদ বিভাগের উদ্যোগে ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে ভোমরা স্থল বন্দর থেকে বিনেরপোতা পর্যন্ত ২২ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার বাইপাস সড়কের জন্য ১১৬ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। প্রকল্পের বাহিরে আলিপুর চেকপোষ্ট থেকে ভোমরা স্থল বন্দর পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার দুই লেনের রাস্তা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সাতক্ষীরা সওজের কর্মকর্তাদের গাফিলতি, মন্ত্রণালয়ের অনিহা, সমন্বহীনতা ও জেলা প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে দীর্ঘ দিন সড়কের নির্মাণ কাজের কোন অগ্রগতি হয় নি। প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো, নকশা তৈরি আর মিটিং এই সীমাবদ্ধ ছিলো বাইপাস সড়ক নির্মাণের কাজ।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের সূত্র আরও জানায়, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়। যেখানে ১২ দশমিক ৩৫০ কিলোমিটার দুই লেনের (২৪ ফুট চওড়া) সড়কের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৪ কোটি টাকা। কিন্তু একনেকে ১৭৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে গত পাঁচ বছরে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে ৬০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সড়কটি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের লেক থেকে শুরু হয়ে সিটি কলেজের পিছন দিয়ে কাশেমপুর গ্রাম দিয়ে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন যশোর সড়কে মিশে যাবে। সেখান থেকে মুথরাপুর মোড় হয়ে খেজুরডাঙ্গি হয়ে বিনেরপোতা মেঘনা মোড়ে গিয়ে খুলনার সড়কের সাথে মিশে যাবে। আর এ সড়ক নির্মাণ করার জন্য ৯২ দশমিক ৫৮ একর জমি অধিগ্রহণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, সড়কের জন্য প্রকল্প ব্যয় বহির্ভূত লাবসা ও খেজুরডাঙ্গা ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কের জন্য সকল জমি অধিগ্রহণ এখনও হয় নি। ডিপিপিতে ৪৭ কোটি টাকা জমির জন্য বরাদ্দ করা হলেও বর্তমানে মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় জমি অধিগ্রহণ খরচ আরো ৪-৫ গুন বেড়েছে।

ট্রাক ড্রাইভার মোস্তাফিজুর রহমান জানায়, সাতক্ষীরায় বাইপাস সড়ক হলে শহরে ট্রাকসহ কোন পণ্যবাহী যানবাহন শহরে ঢুকবে না। এ সড়ক ব্যবহার করে খুলনা, ঢাকায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলো চলাচল করবে। ভোমরা থেকে লোড হওয়া ট্রাকগুলো সড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে পারবে। ফলে শহরে কোন ভারী যানবাহনের চাপ পড়বে না।

পৌরসভার একটি সূত্র জানায়, বাইপাস সড়ক হলে টার্মিনালের সাথে সড়কের সংযোগ করে দেওয়া হবে। ট্রাকস্টান্ড শহরের বাহিরে চলে যাবে। দুরপাল্লার গাড়িগুলোও সড়ক ব্যবহার করতে পারবে। ফলে শহরে ভারী যানবাহন কম ঢুকবে।

সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুরুল করীম আরো জানান, বাইপাস নির্মানের জন্য আলিপুর এলাকার ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে। বাকী এলাকায় দ্রুত কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬৩ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে দাবী করে তিনি আরো বলেন, মোট প্রকল্পের ৮৯ কোটি খরচ হয়েছে। ৩টি ব্রিজ ও ১৩ টি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। একনেকে অনুমোদনের মাধ্যমে দ্রুত সড়ক নির্মাণ করা হবে।