সাতক্ষীরার হাবিবকে ১৩ খন্ড : মামলার রায় ১১ আগস্ট


248 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার হাবিবকে ১৩ খন্ড : মামলার রায় ১১ আগস্ট
আগস্ট ৪, ২০২২ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে খুলনায় যায় সাতক্ষীরা জেলার উমারপাড়ার হামিদের ছেলে হাবিবুর রহমান হাবিব। বন্ধুর প্রতারণার শিকার হয়ে তাকে ১৩ খন্ড হতে হয়। সাতক্ষীরার একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় যুবকের ১৩ খন্ড লাশের সংবাদ পেয়ে খুলনায় যায় পরিবারের সদস্যরা। শনাক্ত করা হয় হবিবের খন্ডিত দেহকে। র‌্যাবের উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বের হয়ে আসে হত্যাকান্ডের মূল রহস্য। পরকীয়ার কারণে হাবিবকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

২৬ জুলাই খুলনা জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আগামী ১১ আগস্ট আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো।

এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৫ মার্চ দুপুরে ফোন পেয়ে সাতক্ষীরা থেকে খুলনায় আসে হাবিব। ৬ মার্চ তার বাড়ি ফিরে যাবার কথা। বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নস্থানে খোঁজ নিতে থাকেন। পরে হাবিবের শ্বশুর ৭ মার্চ সাতক্ষীরা সদর থানায় জিডি করেন।

৮ মার্চ দৈনিক এর মাধ্যমে হাবিবের পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন খুলনায় অজ্ঞাত এক যুবকের ১৩ খন্ড লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঐ দিন তারা সোনাডাঙ্গা পুলিশের সহায়তায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে হাবিবের লাশ শনাক্ত করেন। এ ব্যাপারে নিহতের দুলাভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন, যার নং ১৪।

ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরিফ মাহমুদ লিটন অভিযোগপত্রের বরাত দিয়ে জানান, ভিকটিম হাবিব ও আসামিরা জেলে ছিল। হাবিব জেল থেকে বের হওয়ার সময় এ কে এম মুজতবা চৌধুরী ওরফে মামুন ওরফে মোস্তফা মামুন তাকে জেল থেকে বের করার অনুরোধ করে। এ সময় মামুন স্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিয়ে দেয় হাবিবকে। তাকে জেল থেকে বের করা দূরে থাক মামুনের স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে সে। তাকে নিয়ে ঢাকা ও চট্রগ্রাম ঘুরতে থাকে। মামুনের বোনের সাথেও প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে সে। পরে স্ত্রীর কাছ থেকে সবকিছু শুনে ক্ষুব্ধ হতে থাকে মামুন। জেলে থেকে হাবিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে মামুন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আসামি আসাদ ফোন দেয় হাবিবকে। ফোন পেয়ে ৫ মার্চ দুপুর ৩ টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে খুলনায় আসে হাবিব। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হাবিবকে ফারাজীপাড়া এলাকার হাসানাত মঞ্জিলের চারতলা ভবনের নিচতলায় আসাদের বাড়িতে নেওয়া হয়। আগে থেকে আসামিরা সকলে প্রস্তুত ছিল।

যেভাবে হাবিবকে হত্যা করা হয়

হত্যার আগে হাবিবকে মিষ্টির ভেতর চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে অজ্ঞান করে মো: খলিলুর রহমান খলিল। অনুপম মহলদার ও খলিল হাবিবের হাত ও পা চেপে ধরে। প্রথমে সরদার আসাদ ওরফে আরিফ ভিকটিম হাবিবের বুকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে। আব্দুল হালিম গাজী ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে টুকরো টুকরো করে। মামুন ওরফে মোস্তফা হাবিবের পুরুষাঙ্গ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পানি দিয়ে ঘরের ভেতর পরিস্কার করে। হত্যাকান্ডের পর লাশের টুকরোগুলো বাজারের ব্যাগে করে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয় আসামিরা। পরে হাবিবের ডেবিড কার্ড ব্যবহার করে আসামিরা টাকা তুলে নেয়।

যেভাবে গ্রেপ্তার হয় আসামিরা

পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ১১ মার্চ কুয়েট এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাবিবুর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সরদার আসাদুজ্জামান (৩৫) কে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেয়া তথ্যে বটিয়াঘাটা থেকে অনুপম মহলদার (৪২) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সোনাডাঙ্গা থানাধীন ফারাজীপাড়া লেনের ৩৪, হাসনাত মঞ্জিলের নিচতলায় আসাদুজ্জামানের ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব-৬’র সদস্যরা। ওই কক্ষ থেকে নিহত হাবিবুরের মরদেহের বাকী অংশ, মোটরসাইকেল ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। এরপর হত্যাকান্ডের সাথে জাড়িত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার ৪ জন আসামি হত্যাকান্ডে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। আসামিরা বিভিন্ন সময়ে আদালত থেকে জামিনে বের হয়। আসামি আসাদ ও মোস্তফা মামুন জামিন নিয়ে পালিয়ে যায়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরিফ মাহমুদ লিটন আরও বলেন, উল্লিখিত আসামিদের পূর্ব রেকর্ড ভাল না। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে আসামিদের অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করবেন বলে তিনি আশাবাদি।