সাতক্ষীরার হেভিওয়েট প্রার্থীরা কে কোথায় ঈদ করবেন


1143 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার হেভিওয়েট প্রার্থীরা কে কোথায় ঈদ করবেন
আগস্ট ১৪, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

 

॥ কে.জামান ॥
————————–
আগামী ২২ আগষ্ট পবিত্র ঈদুল আযহা। সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট এমপি প্রার্থীরা ঈদুল আযহা উপলক্ষে এলাকায় এসে সাধারণ মানুষের খোঁজ-খবর নিলেও বিএনপির প্রার্থীদের এলাকায় দেখা তেমন মিলছে না। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীরা বলছে, এলাকায় গেলেই প্রতিপক্ষের দ্বারা হামলা ও মামলার আশংকা রয়েছে। তবে এবারের ঈদে তারা নিজেরা এলাকায় না গেলেও তাদের স্ত্রী ও সন্তানদেরকে এলাকায় পাঠাবেন। তাদের পরিবারের সদস্যরাই এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াবেন।

সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের ১৪ দলের এমপি, বাংলাদেশের ওয়ার্কস পার্টির কেন্দ্রীয় পলিটব্যুরোর সদস্য অ্যাডভোকেট মোস্তাফা লুৎফুল্লাহ ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, তিনি তার নির্বাচনি এলাকায় বেশি সময় দেন। প্রয়োজন ছাড়া ঢাকাতে যান না। ঈদুল আযহার নামাজ তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় পড়বেন। তবে কোরবানির জন্য এখনো কোন পশু কেনেননি। কিনবেনও না। কোরবানির পশু কেনার সামার্থ তার নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধু তার না, এলাকার ৮০ ভাগ মানুষের কোরবানি দেওয়ার সমর্থ নেই। কারণ দায়-দেনা থাকলে তার কোরবানি হয়না। তবে ঈদের দিন মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবেন। সরকারি ভাবে তার এলাকায় ৭ হাজার ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ২০ কেজি করে (কার্ডপ্রতি ) চাল দিচ্ছেন। তিনি নিজেই এটি তদারকি করছেন। তবে ব্যক্তিগত ভাবে ঈদ উপলক্ষে তিনি কারো কোন আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে না।

এই আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রকাশনা সম্পাদক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তিনি ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, তার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এলাকায় ফিরবেন না। এলাকায় যাওয়ার কোন পরিবেশ নেই। তবে তার স্ত্রী সন্তানেনা ঈদের আগে এলাকায় যাবেন। সাধারণ মানুষের খোঁজ-খবর নিবেন। এলাকায় পশু কোরবানি দিবেন। ফোনের মাধ্যমে এলাকার নেতা-কর্মীদের খোঁজ-খবর নিবেন।

সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনের এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ঈদ করতে ঢাকা থেকে এলাকায় এসেছেন। সাধারণ মানুষের খোঁজ-খবর নিতে বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন। বিশেষ করে তার নির্বাচনী এলাকায় উঠান বৈঠক করে মহিলাদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলছেন। তিনি ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, ঈদ উপলক্ষে দুস্থ্য মানুষকে সরকারি ভাবে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। ঈদে বাড়িতে কোরবানি জন্য ২টি গরু কিনবেন। কোরবানির মাংস এলাকায় দুস্থ্যদের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থাও করবেন তিনি। ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগা-ভাগি করে নিতে চান এই নেতা।

সাতক্ষীরা- ৩ ( দেবহাটা, আশাশুনি, কালিগঞ্জের একাংশ ) আসনের এমপি , সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ,আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ডা: আ ফ ম রুহুল হক এবারের ঈদ তার নির্বাচনী এলাকায় করবেন। তিনি ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে তিনি এলাকায় পৌছে গেছেন। সাধারণ মানুষের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। বিভিন্ন ভাবে অসহায় মানুষকে সাহায্য করবেন। কোরবানির জন্য এখনো কোন পশু কেনেননি। তবে এবারের ঈদে ৩টি গরু কোরবানি দিবেন। কোরবানির এসব মাংস এলাকার অসহায়, দুস্থ্য মানুষের মাঝে বিতরণ করবেন। তিনি সাতক্ষীরা জেলার সকল মানুষকে ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা: শহিদুল আলম। তিনি প্রশ্ন রেখে ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, খুবই ইচ্ছে ছিল এলাকায় এসে ঈদের নামাজ পড়ার। কিন্তু ঈদে কি ভাবে এলাকায় আসবো ? এলাকায় আসলেই আমার ও আমার নেতা-কর্মীদের উপর সরকার দলীয় এমপির সমর্থকেরা হামলা ও মামলা করছে। আমার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ২টি মামলা হয়েছে। আসন্ন ঈদে এলাকায় না গেলেও স্ত্রী ও সন্তানেরা এলাকায় যাবেন। তারাই বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে ঈদের আনন্দ ভাগা-ভাগি করে নেবেন। তিনি বলেন, আমার যেসব নেতা-কর্মী বর্তমানে জেলে বা পালিয়ে বেড়াচ্ছে তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করছি। ঈদ যাতে তাদের পরিবার একটু ভালোভাবে করতে পারে সেজন্য যা করার প্রয়োজন সেটাই করছি।

সাতক্ষীরা-৪ ( শ্যামনগর, কালিগঞ্জের একাংশ ) আসনের এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যান উপ-কমিটির সদস্য এস এম জগলুল হায়দার প্রয়োজন ছাড়া এলাকার বাইরে বড্ডো একটি যান না। তিনি ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, ঈদুল আযহার দিন তিনি এলাকায় থাকবেন। এখনও কোরবানির পশু কিনেননি। প্রতিবার ৩টি করে গরু কোরবানি দেন। তবে এবার ৪টি গরু কোরবানি দেবেন বলে ভেবেছেন। কোরবানির এসব মাংস এলাকায় এলাকায় দুস্থদের মাঝে বিতরণ করবেন। তিনি বলেন, আমি প্রতি কোরবানির ঈদে বাড়িতে রান্না করা মাংস নিয়ে গরীব মানুষের মাঝে হাজির হই। এবারও তাই করবো। নিজে হাতে ফকির, মিসকীনকে খাইয়ে দেবো।
##