সাতক্ষীরার ৯ মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধের নির্দেশ দিলেন মন্ত্রী : অভিযোগ ভূয়া কাগজপত্র


1985 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার ৯ মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধের নির্দেশ দিলেন মন্ত্রী : অভিযোগ ভূয়া কাগজপত্র
আগস্ট ২১, ২০১৬ দেবহাটা ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান ও মনজুর কাদির :
সাতক্ষীরার ৯ মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রানালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জনের বিরুদ্ধে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে যুদ্ধাহত ভাতা গ্রহণ এবং অপর এক জনের বিরুদ্ধে রাজাকার অভিযোগ তুলে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। সম্প্রতি এ দুটি অভিযোগের ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক অভিযুক্ত ৯ জনের ভাতা বন্ধ করে মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে শুনানীর জন্য নোটিশ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। গত ৬ ও ১৬ আগস্ট মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে পৃথক দুটি এ অভিযোগ দাখিল করেন সাতক্ষীরার ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। তারা হলেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম, খলিলুর রহমান, আলহাফ উদ্দীন ও ইউনূস আলী।

গত ৬ আগস্ট স্বাক্ষরিত অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, দেবহাটার সখিপুর গ্রামের মৃত সামত আলির ছেলে আবুল কাশেম ১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর কুলিয়া এলাকায় যুদ্ধ শেষে নেভাল কমান্ডো খলিলুর রহমানের নিকট আত্মসমার্পণ করে পালিয়ে যান। দেশ স্বাধীনতার পরে দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে থেকে কোলকাতার এক ডাক্তারের নকল চিকিৎসাপত্র জোগাড় করে ৫ ডিসেম্বর যুদ্ধাহতের সার্টিফিকেট নেন। সেখানে তার ঘাড়ের একটি ফোড়াকে গুলির দাগ হিসেবে দেখানো হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তাকে কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে দেখেন নাই। কাশেমের গেজেট নং ৮৪৬। তার ছেলে বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশের চাকরিও করছেন। আবেদনকারীরা তার মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেটসহ গেজেটের নাম বাতিল করার দাবী জানিয়েছেন।

এদিকে ১৬ আগষ্টের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেবহাটা উপজেলার আবুল কাশেম (গেজেট-৬৬৯), মুজিবর রহমান (গেজেট-৮৩৯), আব্দুর রহমান (গেজেট-৮৪১)ও আব্দুল গফফার (মুক্তিবার্তা-০৪০৪০২০০৫৬) দেশ স্বাধীনের পরে পাক সেনাদের পুতে রাখা মাইনে তারা আহত হন। তারা ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা গ্রহণ করছেন। তাদের সাথে সাতক্ষীরা জর্জ কোর্টের আইনজীবী গোবিন্দ বল্লভ আহত হলেও তিনি ভাতা পাননি। তাদের যুদ্ধাহত তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবী জানান।

অপরদিকে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল খালেক মন্ডল (গেজেট-৮৪৯), কুশখালী গ্রামের ওসমান আলি (গেজেট-৮৫২), মাহমুদপুর গ্রামের কামরুসামা (গেজেট-৮৫০) এবং শহরের উত্তর কাটিয়া এলাকার হাসানুজ্জামান (গেজেট- সাতক্ষীরা-১৩) তারা ভুয়া চিকিৎসাপত্র দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাস্ট থেকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সকল প্রকার সুবিধা ভোগ করে আসছেন। তারাও ৫ ভাগ ভাতা ভোগ করছেন। তাদের ভাতা থেকে বিরত রাখারও দাবী জানান আবেদন কারীরা।

সাতক্ষীরার ৪ জন মুক্তিযোদ্ধার লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক অভিযুক্ত ৯ জনের ভাতা বন্ধ করে মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে শুনানীর জন্য নোটিশ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
##