সাতক্ষীরায় অতিরিক্ত যানজট : জনদূর্ভোগ চরমে


642 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় অতিরিক্ত যানজট : জনদূর্ভোগ চরমে
অক্টোবর ২৩, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

সাতক্ষীরা শহরের প্রধান পাঁচটি সমস্যা :

*যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং

*রাস্তার পাশে নেই ফুটপাত

*অবৈধ যানবাহন

* হাইড্রোলিক হর্ণের আওয়াজ

*বেপরোয়া যানবাহন চালানো

 

॥ শাহিদুর রহমান ॥

২২ লক্ষ মানুষের প্রাণকেন্দ্র সাতক্ষীরা শহর।কিন্তু যানজটে নাকাল সাতক্ষীরা শহরবাসী। যানজট নয় এ যেন ভ্যানজট। সাতক্ষীরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলোতে লেগেই থাকে যানজট।

সাতক্ষীরা শহরের প্রধান সমস্যা রাস্তার পাশে ফুটপাত নেই।নেই কোনো ওভারব্রীজ।একারনে পথচারীরা নির্বিঘ্নে নিরাপত্তার সাথে পথ চলতে পারেনা।শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সাথে রাস্তা পারাপার ও স্কুলে যেতে নানা অসুবিধার সম্মুখিন হতে হয়।শহরের প্রত্যেকটি মা-বাবা তাদের বাচ্চাদের নিয়ে সর্বদা আতঙ্কে থাকে।

দিনে দিনে সাতক্ষীরা শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাচ্ছে যানবাহনের সংখ্যা। সে অনুপাতে রাস্তা প্রশস্তকরণ বা বিকল্প রাস্তা বা সংযোগ রাস্তা নির্মাণ হয়নি। রাস্তার জন্য জায়গা না বাড়লেও প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষ ও যানবাহনের সংখ্যা। সাতক্ষীরা পৌরসভার আয়তন ৮০১৮ একর। বর্তমান লোক সংখ্যা এক লক্ষ ১৩ হাজার ৩২২জন। ১০বছর আগে এ সংখ্যা ছিলো ৯৫ হাজার ১৮১জন। বর্তমান ভোটার সংখ্যা ৭৫ হাজার ৫৩জন। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বৃদ্ধি পায়নি পৌরসভার আয়তন। বৃদ্ধি পায়নি রাস্তা। বরং যে রাস্তা ছিলো তা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে যানবাহনের সংখ্যা।এ কারনে বৃদ্ধি পাচ্ছে যানজট।

সাতক্ষীরা শহরে রাস্তা ভালোর হওয়ার কারণে বাস-ট্রাক চালকরা দ্রুত গতিতে গাড়ি চালান। যা শহরবাসীর জন্য অত্যান্ত ঝুকিপূর্ণ ও বিপদজনক। তাছাড়া হাইড্রোলিক হর্ণের আওয়াজ শহরবাসীকে বিষিয়ে তুলেছে। পাশাপাশি কিছু উঠতি বয়সী যুবকের বেপরোয়া বাইক চালানোর কারণে প্রতিনিয়ত সড়কে ঘটছে মারাত্মক দূর্ঘটনা।

সাতক্ষীরা ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট আলি হোসেন জানান,শহরে কোনভাবেই যেন যানজট সৃষ্টি না হয় এজন্য আমরা সর্বাত্নক চেষ্টা করছি।

সাতক্ষীরা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক(টিআই) আব্দুল মোমিন জানান, শহরের সড়কগুলো সংকীর্ণ ও ফুটপাত না থাকা ও জনবল কম হওয়ায় অনেক কাজ আমরা করতে পারি না।

সাতক্ষীরা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের আহবায়ক এড. ফাহিমুল হক কিসলু জানান, যাত্রীবাহী বাস, ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত ভ্যানের নির্দিষ্ট কোন স্টপ নেই। তারা কোন নিয়ম মানেও না। এছাড়া সড়কে চলাচলের সময় প্রত্যেকই ওভারটেক করার প্রবণতার কারণে সড়কে চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফুটপাত গুলো উদ্ধার করতে হবে। রাস্তা চওড়া করে ডিভাইডার দিতে হবে এবং অন ওয়ে করতে হবে তাহলে এ সমস্যা থেকে উত্তরণ করা যেতে পারে।

সাতক্ষীরা প্রবীন সাংবাদিক ও আইনজীবী এ্যাড. এ কে এম শহীদুল্লাহ জানান, যত্র-তত্র গাড়ি পার্কিং, ট্রাফিক ব্যবস্থার দূর্বলতা, মার্কেট গুলোর সামনে পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংয়ের সুযোগ না থাকায় যানজট বেড়েছে।

সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম জানান, আগামী জুনে বাইপাস সড়ক চালু হবে। এটি চালু হলে শহরের কিছুটা হলেও যানজট নিরসনে হবে। এছাড়া শহরের বাইরে ট্রাক স্ট্যান্ড নির্মাণ এবং ইজিবাইক-ব্যাটারি ভ্যান নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতী জানান, সাতক্ষীরা শহরে ৬০০ অনুমোদনহীন ইজিবাইক চলছে। এছাড়া রয়েছে ব্যাটারিচালিত ভ্যান। অবৈধ ইজিবাইক ও ব্যাটারিভ্যান বন্ধে ৫টি পয়েন্টে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব অনুমোদনহীন যানবাহন বন্ধ করা গেলে যানজট কমে যাবে।

সাতক্ষীরা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির আহবায়ক অধ্যক্ষ আবু আহমেদ জানান, সাতক্ষীরা শহরে অবাধে অনুমোদনহীন তিন চাকার মাহেন্দ্রা, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত করতে হবে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল জানান,আমি সদ্য যোগদান করেছি, এখনো কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। এ বিষয়ে আমি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবো।

##