সাতক্ষীরায় অপহ্নত কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার : অপহরনকারীদের ঘরে আগুন


697 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় অপহ্নত কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার : অপহরনকারীদের ঘরে আগুন
ডিসেম্বর ১৭, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

রাহাত রাজা ও আসাদুজ্জামান :
দশ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবীতে অপহরণের পাঁচদিন পর কলেজ ছাত্র গৌতম সরকার(১৯) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মহাদেবনগর গ্রামের একটি পুকুর থেকে তার হাত-পা বাধা ও মুখে কসটেপ লাগানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত গৌতম সরকার মহাদেবনগর গ্রামের ইউপি সদস্য গণেশ সরকারের ছেলে ও সীমান্ত আদর্শ কলেজের ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

এদিকে উত্তেজিত জনতা অপহরনকারি নুর ইসলাম ও রেজাউল শেখের বাড়ি ঘরে আগুন জালিয়ে দিয়েছে। বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে গ্রামবাসী নারী-পুরুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রে আনতে ঘটনাস্থালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন, নুর ইসলাম, রেজাউল শেখ, আলিম, শাওন ও মনিরুল ইসলাম।

সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন জানান, নিহত ছাত্রের লাশ পুলিশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত থাক তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। দোষিদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হবে। জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন ঘটনাস্থাল পরিদর্শন করেন।

ভারতীয় সীমান্তবর্তী গ্রাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মশা জানান, তার পরিষদের ইউপি সদস্য মহাদেবনগর গ্রামের গনেশ সরকারের ছেলে গৌতম সরকার স্থানীয় সীমান্ত কলেজে বিএ ক্লাসে লেখাপড়া করে।

গত ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গৌতম ও তার বন্ধুরা বাড়ির পাশে মহাদেবনগর মোড়ে আমিন মিস্ত্রির দোকানে বসে  টিভিতে ফুটবল খেলা দেখছিলেন। এসময় তার কাছে একটি ফোন আসে। ফোনে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর থেকে গৌতমের ফোন (নম্বর ১৭৪৪৬৫০৬০৬ ও ০১৫৫৬৫৫৭৫৬৭ ) বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি জানান রাতে মেম্বর গনেশ সরকারের নম্বরে (নম্বর ০১৭২৪৮৪৯৯৭৫ ) ছেলের  নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয় ‘ তোর ছেলেকে পেতে চাইলে দশ লাখ টাকা দিতে হবে। তবে পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালেই বিপদ হবে বলে হুমকি দেয় অপহরকারীরা।

ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মশা কে জানানোর পর বিষয়টি সাতক্ষীরা থানার ওসিকে জানিয়ে তাদের সহায়তা চান। সদর থানার সাব ইন্সপেকটর আবুল কালামসহ পুলিশের কয়েক সদস্যকে সাথে নিয়ে তিনি অপহরনকারীদের কথা মতো ১৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে  নির্দিষ্ট স্থানে কয়েক লাখ টাকা নিয়ে অপেক্ষা করেন।

এক পর্যায়ে অন্য সব লোককে সেখান থেকে সরে যেতে বলে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয় টাকা নিয়ে ওই স্থান থেকে চলে যেতে। পরে অপহরণকারীলা মুক্তিপনের টাকা বিকাশ মারফত পাঠাতে বলেন।

এসময় এর পরপরই সেখানে আসে তিনি যুবক। পুলিশ গ্রামবাসীর সহায়তায় তাদেরকে  আটক  করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ছয়টি মোবাইল।

সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি ফিরোজ মোল্লা জানান, আটক তিনজনের মধ্যে ভাড়–খালি গ্রামের করিম মোড়লের ছেলে শাহাদাত মোড়ল মোবাইলে গনেশ মেম্বররের ছেলের অপহরন বিষয়ক কথা বলেছিল বলে তিনি নিশ্চিত হন।

এ ঘটনায় গ্রেফতার অপর দুইজন হচ্ছে দেবহাটার বহেরা গ্রামের  আবদুল আলিমের ছেলে শাওন ও একই গ্রামের মনিরুল ইসলাম সানি। পুলিশ তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে অস্বীকার করে।

satkhira-photos-2

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় জনতা  মহাদেবনগরের সন্দেহভাজন যুবক  সাজুকে না পেয়ে তার মা ফজিলা খাতুনকে  আটক করে। সন্দেহভাজন আরেক যুবক জামসেদ পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার গনেশ সরকার সাতক্ষীরা থানায় একটি জিডি করেন। জিডি নম্বর ৭৪১ তারিখ ১৪.১২.১৬)।
স্থানীয় সুত্র জানান, কয়েকদিন আগে ওই এলাকার জামসেদ নামের এক ঘরজামাইকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাকে ছাড়ানোর জন্য ওই পরিবারের পক্ষ থেকে মেম্বর গনেশ সরকারের ওপর চাপ আসে। গনেশ তাতে সাড়া না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে জামসেদ ও তার লোকজন। স্থানীয় আরেক ব্যক্তি আবদুর রহমানের মাধ্যমে পুলিশকে ম্যানেজ করে জামসেদ থানা থেকেই মুক্ত হয়ে ফিরে আসে। এ সময় গনেশ মেম্বরকে হুমকি দিয়ে বলা হয় ‘ আমাকে বের করতে সাহায্য করলেন না। এর পরিনতি ভালো নয়’।

এর পরই গনেশ মেম্বরের ছেলে কলেজ ছাত্র গৌতম সরকার অপহৃত হয়। জামসেদ অপরাধ জগতের লোক বলে জানান এলাকাবাসী। ঘটনার পরপরই এলাকার লোকজন সন্দেহ জামসেদ ও শাহাদাত গৌতমকে মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে অপহরন করেছে।

satkhira-photos-1

 

 

 

 

 

এদিকে মোবাইলে হুমকি দিয়ে তাকে যা বলা হয়েছে গনেশ সরকার  তা জিডিতে উল্লেখ করে বলেন ‘ তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে।  তোর অনেক টাকা পয়সা আছে। টাকা ও সোনা গয়না নিয়ে আয়।  তোর ছেলেকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। এ কথা কাউকে জানালে তোর ছেলেকে কেটে টুকরো টুকরো করে নদীতে ভাসিয়ে দেবো।

এর পর শনিবার সকালে আটকৃতদের স্বিকারোক্তিতে মহাদেবনগর গ্রামের একটি পুকুর থেকে হাত-পা বাধা ও মুখে কসটেপ লাগানো অবস্থায় অপহৃত কলেজ ছাত্র গৌতম সরকারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় স্থানীয় গ্রামবাসী বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করছে। বিক্ষুব্দ লোকজন অপহরনকারীদের বাড়ী ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
##