সাতক্ষীরায় অপুষ্টি, বিষ মিশানো আমে বাজার ছয়লাপ !


251 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় অপুষ্টি, বিষ মিশানো আমে বাজার ছয়লাপ !
মে ১৩, ২০২২ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর স্বাস্থ্য
Print Friendly, PDF & Email

নষ্ট হচ্ছে আমের আদি ঐতিহ্য

ইয়ারুল ইসলাম :
সাতক্ষীরার আম, স্বাদ আর রসে ভরা। সারা বিশ^ব্যাপী সাতক্ষীরার আমের সুনাম রয়েছে। প্রতিবছর ইউরোপসহ বিশে^র নানা দেশে সাতক্ষীরার আমের চাহিদা রয়েছে। মধু মাস জ্যৈষ্ঠ আসার সাথে সাথে সাতক্ষীরার আমের কথা মনে পড়ে না এমন মানুষের খুঁজে পাওয়া মুসকিল। কিন্তু এরবছর বৈরী আবহাওয়া আর ঘুর্নিঝড় অশনি’র প্রভাবে সাতক্ষীরার আমের সেই সুনাম নষ্ট হতে বসেছে। ঘুর্নিঝড় আসার খবরে আতংকীত হয়ে আম চাষিরা আগে ভাগে গাছ থেকে পেড়ে ফেলেছে আম। ফলে অপুষ্টি আমে ছয়লাপ সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় আমের মুকাম জেলা শহরের সুলতানপুর বড়বাজার। মানবদেহের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর নানা ক্যামিকেল দিয়ে অপুষ্টি আম পাকানো হচ্ছে। পাঠানো হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গাতে।

মধু মাস জ্যৈষ্ঠ আসার অগেই সাতক্ষীরার বাজারে উঠতে শুরু করে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাইসহ সুস্বাধু বিভিন্ন জাতের আম। আবহাওয়া আর মাটির গুনাগুনের কারনে দেশের অন্য জেলার তুলনায় সাতক্ষীরার আম আগে ভাগেই পাকে।

সাতক্ষীরা কুখরালী গ্রামের আম চাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ১৮ বিঘা জমিতে এবছর আম চাষ করেছি। এ বছর গাছে মুকুল আসার আগে থেকেই বৈরী আবহাওয়ার কারনে আম উৎপাদন হয়েছে কম । ঘুর্নিঝড় আশনি’র আঘাত হানার খবরে আতংকীত হয়ে আম চাষরা অপুষ্টি আম আগে ভাগে পেড়ে ফেলেছে। মৌসুম শুরুর আগেই বাজাওে অপুষ্টি আমে সয়লাফ। ফলে আমের বাজারমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। গত বছর যে আম ২৮’শ টাকা মন (৪০ কেজি) বিক্রি হয়েছে সেই আম চলতি বছর ১৫ থেকে ১৬ টাকার বেশি বিক্রি হচ্ছে না। এতে করে আম চাষিরা মারাত্বক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষিসম্প্রসারন অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় ৪ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। আর এবছর লক্ষ্য মাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মেট্রিকটন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের ঘোষনা অনুযায়ী চলতি মাসের ৫ তারিখ গোবিন্দভোগ ও গোপালভোগ আম পাড়া শুরু হয়েছে। আগামী ১৬ মে থেকে হিমসাগর এবং মে মাসের শেষে নেংড়া আম পাড়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আদেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ঘুর্নিঝড় অশনি’র কারনে আম চাষিরা বাগান থেকে আগে ভাগেই হিমসাগর ও নেংড়া আম পেড়েছে।

সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু জানান, বাজারে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস, ক্ষিরসরাই, বৈশাখিসহ নানা জাতের আমে ভরপুর হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড়বাজার। গ্রাম-গঞ্জ থেকে ভ্যান ও বিভিন্ন পরিবহন যোগে শহরের সুলতানপুর বড় বাজারের আড়ৎগুলোতে আসছে হরেক রকমের আম। বৈরী আবহাওয়ার কারনে এবছর আমের ফলন বিগত কয়েক বছরের তুলনা অনেক কম। তার উপর ঘূর্ণঝড় অশনির কারনে আগাম আম ভেঙে বিপাকে আম চাষিরা । অপুষ্টি আম নানা ক্যামিকেল দিয়ে বাজারে উঠানো হচ্ছে। প্রশাসনিক তৎপরতা থাকার পরও থামছে না আমে ক্যামিকেল দেয়া।

সাতক্ষীরা মেডকেল কলেজের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: কল্যানশীষ বলেন, যেসব ক্যামিকেল দিয়ে অপুষ্টি আম পাকানো হচ্ছে তা মানব দেহের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। লিবার, কিডনী , পাকস্তলি, এমন কি ক্যানন্সারের জীবানু বহন করে এসব ক্যামিকেল। বিধায় আম বা এজাতীয় ফল খাওয়ার আগে মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষিসম্প্রসারন বিভাগের উপ-পরিচালক মো: নূরুল ইসলাম বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারনে এ বছর আমের ফলন কিছুটা কম। আমের যে রঙ হওয়ার কথা তা হয়নি। বিশেষ করে ঘুর্নিঝড় আসার খবরে আম চাষিরা আতংকীত হয়ে তাড়াহুড়া করে আম পেড়েফেলেছে। হঠাৎ বাজারে আমের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমের দাম কমে গেছে। তিনি বলেন, এ বছর ১ হাজার বাগান আমরা নির্ধারন করেছি । ওই বাগান থেকে বাছাই করে বিদেশে আম পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, ক্যামিকেলযুক্ত অপুষ্টি আম যাতে বাজারে না ওঠে সে ব্যাপারে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নজরদারী আরও বাড়ানো হবে।

#