সাতক্ষীরায় অসুস্থ নবজাতককে হত্যার পর লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন বাবা-মা


336 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় অসুস্থ নবজাতককে হত্যার পর লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন বাবা-মা
নভেম্বর ২৮, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ আসাদুজ্জামান ॥

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাওয়ালখালি গ্রামে সোহাগ হোসেন ও ফাতেমা খাতুন দম্পতির ঘরে সম্প্রতি জন্ম নেয় শারীরিকভাবে অসুস্থ এক নবজাতক। জন্মের পর জানা যায় শিশুটি জন্ডিস, নিউমোনিয়া, হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। এরপর ওই দম্পতি শিশুটিকে হত্যার পর লাশ সেপটিক ট্যাংকতে গুম করে ফেলে। এরপর নিখোঁজের নাটক সাজান তারা।

ঘটনার ৪০ ঘণ্টা পর সোহান নামের ওই নবজাতকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ১টার দিকে হাওয়ালখালি গ্রামের ওই বাড়ির সামনের সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে শিশুটির বাবা সোহাগ হোসেন ও মা ফাতেমা খাতুনকে।

পুলিশ জানায়, দুই বছর আগে নানীর বাড়িতে আশ্রিতা থাকা অবস্থায় ফাতেমার সঙ্গে কলারোয়া উপজেলার সাহাপুর গ্রামের সোহাগ হোসেনের বিয়ে হয়। শ্বশুরবাড়িতে কিছুদিন থাকার পর পারিবারিক কলহের কারণে ফাতেমা আবারও স্বামীকে নিয়ে নানীর বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাওয়ালখালিতে চলে আসেন। গত ১১ নভেম্বর সাতক্ষীরা শহরের আনোয়ারা ক্লিনিকে একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন ফাতেমা। শিশুটির নাম রাখা হয় সোহান হোসেন। এরপর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে যেতে হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত ২৫ নভেম্বর তারা সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। পরদিন দুপুরে বাড়ির বারান্দায় ঘুমন্ত মায়ের পাশ থেকে শিশুটি হারিয়ে যায় তারা জানান। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা সোহাগ হোসেন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মীর্জা সালাহ উদ্দীন জানান, পুলিশ এ ঘটনায় সন্দেভাজন হিসেবে শিশুটির মা ও বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানায়, যে শিশুটি খুবই অসুস্থ ছিল। সে জন্ডিস, নিউমোনিয়া, হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিল। এ কারণে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বামী-স্ত্রী মিলে শিশুটিকে হত্যা করে এবং লাশ গুমের ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাবা সোহাগ হোসেন শিশুটিকে মেরে তাদের বাড়ির সামনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লাশটি ফেলে দেন। এ কাজে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী ফাতেমা খাতুন। পুলিশ বিষয়টি জানার পর শুক্রবার রাতে লাশটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

#