সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত : লাশ ফেরত চেয়ে পতাকা বৈঠক


396 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত : লাশ ফেরত চেয়ে পতাকা বৈঠক
নভেম্বর ২৫, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আশরাফুল আলম/ মনিরুজ্জামান সবুজ / কে এম আনিসুর ররহমান :
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের  তারালী এলাকায় বিএসএফ’র গুলিতে দুই বাংলাদেশি  নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদহ ইউনিয়নের পাঁচরকি গ্রামের শের আলী বিশ্বাসের ছেলে মো. নজরুল ইসলাম ও কলারোয়া উপজেলার কাকডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল খালেক সরদার। তাদের মরদেহ এখনও ঘটনাস্থল ভরতের তারালি এলাকায় পড়ে রয়েছে বলে জানান তারা ।

এদিকে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি গরু রাখাল নিহত হওয়ার ঘটনায় বিজিবি-বিএসএফ’র মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় তলুইগাছা বিওপি’র চারাবাড়ি নোম্যানস ল্যান্ডে এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিবি’র সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আরমান হোসেন। অপরদিকে, ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিএসএফ’র ৭৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রাকেশ কুমার।

bsf-new_148810

বৈঠক শেষে লে. কর্নেল আরমান হোসেন জানান, বৈঠকে বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশি গরু রাখাল নিহতের ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। তারা দুঃখ প্রকাশ করে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে জানিয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ বাংলাদেশি দুই গরু রাখালের মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। বৈঠক শেষে ফিরে যেয়েই তারা মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু করবেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা বিওপির অধীনস্থ কেড়াগাছি সীমান্তের বিপরীতে ভারতের তারালি এলাকায় নিহত হন কলারোয়া উপজেলার কাকডাঙ্গা এলাকার লোকমান সরদারের ছেলে আব্দুল খালেক ও সদর উপজেলার পাচরখী গ্রামের শের আলীর ছেলে নজরুল।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদহা ইউনিয়নের তলুইগাছা ওয়ার্ডের মেম্বর শাহজান আলী জানান,, বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েকজন রাখাল ভারত থেকে গরু নিয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছিল। বিএসএফ’র ৭৬  ব্যাটালিয়নের তারালি ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় তারা গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয় ।

এদিকে, নজরুল ও খালেক নিহত হওয়ার খবর শুনে পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। অতিদরিদ্র পরিবারের কর্তা নজরুল ও খালেককে হারিয়ে সদস্যরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন নজরুল ও খালেকের পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে আমাদের কলারোয়া প্রতিনিধি কে এম আনিছুর রহমান জানান,  সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আমুদিয়া বিএসএেফের গুলিতে ২ জন  এবং স্প্রীড বোডের আঘাতে ১ (সর্বমোট ৩ জন ) বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার কেঁড়াগছি এলাকার চারাবাড়ি সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আমুদিয়া এলাকায় ও ভাদিয়ালী সোনাই নদীতে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশীর লাশ ভারতের আমুদিয়া বিএসএেফর হেফাজতে রয়েছে।
গুলিতে নিহতরা হলেন-উপজেলার কাকডাঙ্গ্ াগ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে আব্দুল খালেক (৪০), সাতক্ষীরা সদর থানার পাঁচরোকি গ্রামের শের আলীর পুত্র নজরুল ইসলাম (৩৫) এবং স্প্রীড বোর্ডের আঘাতে নিহত উপজেলার ভাদিয়ালী গ্রামের মৃত মোহর আলীর ছেলে আনারুল ইসলাম (৩৮)।
পালিয়ে আসা গরু ব্যবসায়ীর উদ্ধৃতি দিয়ে সীমান্তের একটি সুত্র জানায়, গত পরশু বুধবার রাতে একদল বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ভারতের ২৪ পরগণা জেলার হঠাৎগঞ্জ বাজার থেকে গরু নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৫ টার দিকে তারা উপজেলার কেঁড়াগাছি এলাকার চারাবাড়ি সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আমুদিয়া বিএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় পৌছালে টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ী গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবদ্ধি হয়ে খালেক ও নজরুল মারা যায়। অন্য গরু ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
তলুইগাছা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার নায়েব সুবেদার হুমায়ুন কবীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ঘটনায় ভারতের আমুদিয়া বিএসএফর সাথে পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে সীমান্তবর্তী ভাদিয়ালী সোনাইনদী তীরবর্তী একাধিক অধিবাসী সুত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর ৪ টার দিকে একদল চোরাকারবারী বাংলাদেশী সুপারী নিয়ে সোনাইনদী পার হওয়ার সময় টহলরত ভারতের হাকিমপুর বিএসএফ স্প্রীড বোর্ড নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। এ সময় স্প্রীড বোর্ডে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আনারুল ইসলাম পানিতে ডুবে যায়। প্রায় ঘন্টা খানেক খোঁজাখুজির পর এলাকাবাসি তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে উপজেলার মাদরা বিজিবি ক্যাম্পর কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার আব্দুর রব বিএসএফের স্প্রীড বোডের আঘাতে আনারুলের মৃত্যুর ঘটনার অস্বীকার করে বলে তার মৃত্যু স্বাভাবিক ভাবে হয়েছে।