সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালিত


374 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালিত
নভেম্বর ২৫, ২০১৯ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল আলম মুন্না ::

২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর দ্য ভায়োলেন্স এগেইনষ্ট ঊইমেন’ বা আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ। ২৫ নভেম্বর থেকেই শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষেরও। ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস এবং ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে এ দিবসটি পালিত হচ্ছে। উল্লেখ্য যে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ১৯৮১ সালে লাতিন আমেরিকায় নারীদের এক সম্মেলনে ২৫ নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালনের ঘোষনা দেওয়া হয়। ১৯৯৩ সালে ভিয়েনায় বিশ্ব মানাবাধিকার সম্মেলনে এ দিবসটিকে স্বীকৃতি দেয়। জাতিসংঘ দিবসটি পালনের আনষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ১৯৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর। বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিরোধ দিবস উদযাপন কমিটি ১৯৯৭ সাল থেকেই এই দিবস ও পক্ষ পালন করে আসছে।
তারই ধারাবাহিকতায় “ নারী পুরুষ সমতা রুখতে পারে সহিংসতা” এই প্রতিপাদ্যকে ধারন করে সোমবার সকাল ১১ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বরসা’র সহকারী পরিচালক মোঃ নাজমুল আলম মুন্না ও সাতক্ষীরা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফরিদা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার উম্মে মুসলিমা। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, হেড সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারন সম্পাদক জ্যোৎ¯œা দত্ত, জেলা পরিষদ সদস্য এ্যড. শাহনেওয়াজ পারভীন মিলি, সুশীলনের সহকারী পরিচালক জিএম মনিরুজ্জামান মনি, নারী সাংবাদিক রাবেয়া খাতুন লোশ্মি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সা. সম্পাদক জ্যো¯œা দত্ত, নারী নেতৃ শাহানা মহিদ, ওসিসি’র প্রোগ্রাম অফিসার আঃ হাই সিদ্দিকী, নারী নেতৃ খুরশিদ জাহান শিলা, জিপিএফ সভানেতৃ ফরিদা আক্তার বিউটি, সাবেক শিক্ষক মোজাম্মেল হোসেন। মানববন্ধনে প্রধান অতিথি উম্মে মুসলিমা বলেন আমার কেন যেন মনে হয় কোথায় যেন একটা ফাক থেকেই যাচ্ছে সেটা হচ্ছে পুরুষের মানসিকতা। পুরুষের যে পুরুষ তান্ত্রিক মানসিকতা এটা এখনও পরিবর্তন হয় নাই। আমাদের এখন মেইন উদ্দেশ্য হলো পুরুষদের এই মানসিকতার পরিবর্তন করে উন্নত মানসিকতায় পরিনত করা। আমরা চাই পুরুষের এই মানসিকতার পরিবর্তন হোক এবং আমি এমন একদিনের স্বপ্ন দেখি যাতে আমাদের অধিকার ফিরে পেতে মেয়েদের যাতে আর রাস্তায় ব্যানার হাতে না দাড়তে হয়। এবং এই স্বপ্নটা পুরন করার জন্য মুখ্য ভূমিকা পালন করবে আমাদের বাবা ও আমাদের ভাই। তিনি সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান রেখে বলেন সকল ক্ষেত্রে সকল নারী ও শিশুরা যাতে তাদের ন্যায্য অধিকার ফিওে পায় এবং সমাজে ও দেশে যোগ্য হিসাবে গড়ে উঠুক। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ বলেন আমরা এখনও দেখি অনেক পিতা-মাতা নিজেদের কন্যা শিশুকে ১২/১৩ বছরে বিয়ে দিয়ে নির্যাতনের মধ্যে ফেলে দেয়। আমাদের দেশে একনও আমরা দেখি নারীদের ভোগ্যপণ্য হিসাবে ব্যবহার করা হয়। আমরা দেখি এখনও নারীদের দেশে এবং বিদেশে বেচা-কেনা করা হয়। আমাদের দেশের অনেক নারীরা মনে করি যে স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহস্ত। দেশে এখনও অনেক নারী মনে করে সবসময় আমরা পুরুষদের নিচে রয়েছি। আমরা মা-বোনেরা যারা আছি তাদেরকে আরও বেশি সজাগ হতে হবে। আমরা সবাই মিলে মিশে একত্রিত না হলে নারী-পুরুষের সমতার সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে না। বক্তারা বলেন যেখানেই নারী নির্যাতন সেখানেই প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কারন অনেক নারীরা এখনও অনেক নির্যাতনের মধ্যে রয়েছে। কেউ মুখ খোলে আর কেউ মুখ খুলতে ভয় পায়। নারীদেরকে ঘরে বন্ধি করে রাখা হয়েছে। ঘরে-বাইরে, অফিসে নারীরা কোথাও নিরাপদ নয়। পরিবারে নারীর স্বাধীনতা নেই উল্লেখ করে বলেন নারীদের ভয়েস রেইজ করতে হবে। নারী-পুরুষের সমতা হলে অনেক নারী নির্যাতন কমে আসবে। তাছাড়া বর্তমান সরকারের আমলে অনেক নারী নির্যাতন কঠোর হস্তে দমন করা হচ্ছে। মানববন্ধন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন স্বদেশ, বরসা, হেড, সুশীলন, নিউজ নেটওয়ার্ক সাতক্ষীরাসহ স্থানীয় ২৫টি উন্নয়ন সংগঠনের শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ ও গণমাধ্যম কর্মীরা।