সাতক্ষীরায় আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা


579 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯ কৃষি ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

সাতক্ষীরায় এবছর আমের বাম্পার ফলনে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অন্যান্য জেলার তুলনায় সাতক্ষীরাতে ব্যাপক আম উৎপাদন হয়ে থাকে। সাতক্ষীরার সুস্বাধু আম জেলার প্রয়োজন মিটিয়ে জেলার প্রত্যান্ত অঞ্চল, রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলায় গত বছর ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ করা হয়েছিলো তবে এ বছর ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এবার একটু আগেই প্রতিটি বাগানেই গাছে আগাম মুকুল এসেছে। এদিকে গাছে গাছে আগাম মুকুল আসায় বেজায় খুশি সাতক্ষীরার আম চাষিরা। তারা আম গাছের প্রাথমিক পর্যায়ের পরিচর্যাও শুরু করে দিয়েছেন ইতোমধ্যে। আমের মুকুলের মাথাগুলোকে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলার নিয়মিত আমরে জাত ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, আমরুপালি ও মল্লিকা জাতের আম গাছ বেশি। আম চাষিরা আশা করছেন, এবার আমের ফলন ভালো হবে। জেলার পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা গ্রামের আম চাষি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ বছরের আবহাওয়া আমের মুকুলের জন্য বেশ অনুকূলে। তাই একটু আগেভাগেই মুকুল এসেছে। গতবারের মতো এ মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়ার তেমন বিপর্যয়ও ঘটেনি। এছাড়া সদরের বাঁধন ডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ, কদমতলা এলাকার তারাপদ,মাধপকাটি এলাকার সাজেদুর রহমান ,পায়রাডাঙ্গা এলাকার সাইদুল, পুরাতোন সাতক্ষীরা এলাকার আজিজ বলেন, আমের যা মুকুল হয়েছে। তাতে মনে হচ্ছে আল্লাহর রহমতে দারুন আম হবে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর উপর আমাদের ফলন নির্ভর করে। তাছাড়া এই বছর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে আমাদের খুব সহায়তা করা হচ্ছে যা আমাদের কাজকে ইতিমধ্যে আরও সহজ করে তুলেছে। তাই আবহাওয়া যদি অনুকুলে থাকে আশা করি আমরা লাভবান হতে পারব।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, জেলায় গত বছর ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়। গত বছর ৩২ হাজার মেট্রিক টন আম বিদেশে রফতানি করা হয়েছিল। এবার লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৪০ হাজার মেট্রিক টন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আম গাছে খুব একটা কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হবে না। তবে ছত্রাকজনিত রোগে আমের মুকুল ও গুটি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাগানে দুই দফা ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। এতে ছত্রাক জাতীয় রোগ থেকে আমের মুকুলগুলো রক্ষা পাবে। সেই সাথে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তিনি আরও জানান, যেহেতু সাতক্ষীরার আম দেশের সকল অঞ্চলসহ বিদেশেও স্থান করে নিয়েছে, আশা করছি এ বছরও দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানী করা সম্ভব হবে। সেজন্য সাতক্ষীরায় আমের উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ভালো করতে কৃষি বিভাগ সব সময় চেষ্টা করবে। এছাড়া আমের ভালো ফলন নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কৃষকের সুবিধার্তে সব রকম সহায়তা আমরা দিয়ে যাব।

#