সাতক্ষীরায় আম বাগানে হলুদ চাষে সাফল্য


906 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় আম বাগানে হলুদ চাষে সাফল্য
অক্টোবর ১৬, ২০১৮ কৃষি ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ আব্দুর রহমান ॥

বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা ঘনত্ব ৯৯৩; মাথাপিছু জমির পরিমাণ ০.০৬৬ হেক্টর, ২০২০ সালে এটা দাঁড়াবে ০.০৫৩ হেক্টরে। কৃষির বিকাশের মাধ্যমে সর্বত্র শিল্প ও সেবা খাতের উন্নয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত কয়েক বছরে কৃষি জমি হ্রাস, জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা, পানের বরজের সংখ্যা বৃদ্ধি, দেশের অভ্যন্তরে হলুদের দাম ও চাহিদা কমায় জেলাতে হলুদ চাষ হ্রাস পায়। এতে জেলায় হলুদ উৎপাদন প্রায় ৪০ ভাগ কমে গেছে, তবে হলুদ চাষিরা লাভবান হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা। সঠিক নির্দেশনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে হলুদের গুরুত্ব আরো বেড়ে যাবে। সম্প্রতি আম বা নারকেল বাগানে আদা, হলুদ চাষ করে লাভবান হয়েছেন চাষিরা।

তালা উপজেলার মাগুরা গ্রামের কৃষক শামীম সরদার বলেন, ‘ধান, পাট, গম, পানের বরজ, আখ, হলুদ, ওল, কচুসহ শীতকালীন সকল প্রকার সবজি চাষ করি। কৃষি বান্ধব সরকার কৃষকদের উন্নয়নে যা করেছে তা জীবনে কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। এ এলাকার অনেক কৃষক সরকারি সুযোগ-সুবিধা পায়। কিন্তু পোকার আক্রমণে ফসলের ক্ষতি সাধন হচ্ছে। তবে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকির অভাবে পিছিয়ে পড়ছে কৃষি কাজে জড়িত মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন।’

হলুদ মসলা হিসেবে একটি জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত মসলা ফসল। এছাড়াও হলুদের অনেক ভেষজ গুণও রয়েছে। উপযুক্ত জমি ও মাটিঃসব ধরনের মাটিতে হলুদ চাষ করা যায়। তবে দো-আঁশ ও বেলে-দো-আঁশ মাটি হলুদ চাষের জন্য অতি উত্তম। বীজ বপন: চৈত্র মাস কন্দ লাগানোর উপযুক্ত সময়। সাধারণতঃ ১৫-২০ গ্রাম ওজনের ১-২টি ঝুঁড়ি বিশিষ্ট কন্দ লাগাতে হয়। ৫০ সে.মি. দূরে দূরে সারি করে ২৫ সে.মি. দূরে দূরে ৫-৭ সে.মি. গভীরে কন্দ লাগাতে হয়। প্রতি হেক্টরে ২৫০০ কেজি কন্দ প্রয়োজন হয়। কন্দ লাগানোর পর ভেলী করে দিতে হয়। ডিমলা ও সিন্দুরী নামে বাংলাদেশে দু’টি উন্নত জাত রয়েছে। ডিমলা জাতটি স্থানীয় জাতের তুলনায় ৩ গুণ ফলন বেশী দেয়। পোকা চেনার উপায়: আকৃতিতে খুব ছোট । স্ত্রী পোকা সরু, হলুদাভ। পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ গাঢ় বাদামী। বাচ্চা সাদা বা হলুদ। এদের পিঠের উপর লম্বা দাগ থাকে। ক্ষতির নমুনা: এরা রস চুষে খায় বলে আক্রান্ত পাতা রূপালী রং ধারণ করে। আক্রান্ত পাতায় বাদামী দাগ বা ফোঁটা দেখা যায়। অধিক আক্রমণে পাতা শুকিয়ে যায় ও ঢলে পড়ে। রাইজোম আকারে ছোট ও বিকৃত হয়। জীবন চক্র : স্ত্রী পোকা পাতার কোষের মধ্যে ৪৫-৫০ টি ডিম পাড়ে। ৫-১০ দিনে ডিম হতে নিম্ফ (বাচ্চা) বের হয়। নিম্ফ ১৫-৩০ দিনে দুটি ধাপ অতিক্রম করে । প্রথম ধাপে খাদ্য গ্রহণ করে এবং দ্বিতীয় ধাপে খাদ্য গ্রহণ না করে মাটিতে থাকে । এরা বছরে ৮ বার বংশ বিস্তার করে। এবং স্ত্রী পোকা পুরুষ পোকার সাথে মিলন ছাড়াই বাচ্চা দিতে সক্ষম । ব্যবস্থাপনা: সাদা রংয়ের আঠালো ফাঁদ ব্যবহার। ক্ষেতের মাকড়সার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এ পোকা দমন করা যায়। অনুমোদিত কীটনাশক নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। ফসল সংগ্রহ: লাগানোর ৯-১০ মাস পর পাতা শুকিয়ে গেলে হলুদ সংগ্রহ করা হয়। প্রতি হেক্টরে ২৫-৩০ টন কাঁচা হলুদ পাওয়া যায়। ব্যবহার: মসলা হিসেবে বিভিন্ন প্রকার রান্নার কাজে হলুদ ব্যবহার করা হয়। রুপ চর্চায়ও এর ব্যবহার রয়েছে। ভেষজগুণ : পাকস্থলীর গ্যাস নিবারণ করে, মুত্রনালীর রোগ নিবারণ করে থাকে, ক্ষত শুকাতে ও থাকে, ব্যাথা নিবারণে ব্যবহৃত হয়।

শ্যামনগর উপজেলার গৃহিনী নাছিমা খাতুন জানান, ‘আমরা এলাকায় হাঁস-মুরগী ও গরু-ছাগল পালন করি। এছাড়া এ এলাকার নারীরা নীরবেই কৃষি কাজে শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। তবে নারীদের অবদানের স্বীকৃতি মেলেনি। শুনি সরকার অনেক সহযোগিতা করে। কিন্তু আমরা কখনও পাইনি। তবে বর্তমান সরকার সব জায়গায় উন্নয়ন করছে বলেও জানান তিনি।’
কৃষক আব্দুল হাকিম জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে তিনি হলুদ আবাদ করে আসছেন। তবে কয়েক বছর ধরে এর আবাদ কমিয়ে ফেলেছেন। এছাড়া পাট, শীতকালীন সবজি, ধান ও একটি পানের বরজ রয়েছে তার। তবে সরকারের সুযোগ সুবিধা পায়না এ এলাকার অনেক কৃষক। তারপরেও থেমে নেই কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান জানান, ‘জেলায় হলুদের আবাদ বৃদ্ধির চেষ্টা করা হচ্ছে। হলুদ বেশ লাভজনক ফসল। সাতক্ষীরায় প্রতি হেক্টরে ১৫-১৬ টন পর্যন্ত হলুদ উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু উপকূলীয় জেলা হওয়ার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে এখানকার আবাদি জমিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা। এ দুই কারণে সাতক্ষীরা জেলার কৃষকরা হলুদ আবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। তবে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি।’
##