সাতক্ষীরায় পিতা, ভাই ও ভাইপোর পর খুন আ’লীগ নেতা নজরুল !


339 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় পিতা, ভাই ও ভাইপোর পর খুন আ’লীগ নেতা নজরুল !
জুলাই ২৩, ২০১৯ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম (৫৫)কে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। ২২ জুলাই বেলা ১১টায় তার লাশ শহর থেকে তিন কিলোমিটার দুরে কদমতলার হাজামপাড়ায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর কয়েক মিনিট আগে তাকে পেছন থেকে পর পর দুই রাউন্ড গুলি করে সন্ত্রাসীরা।

আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, নজরুল ইসলাম তার বাড়ি কুচপুকুর থেকে মোটরসাইকেলে কদমতলায় এসেছিলেন বাজার করতে। বাজার সওদা নিয়ে ফের মোটরসাইকেলে ফিরে যাবার সময় স্টোন ব্রিকস্ ইটভাটার পাশ থেকে কে বা কারা তার পেছন দিকে থেকে দুই রাউন্ড গুলি করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নজরুল মোটর সাইকেল চালিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাবার চেষ্টা করতেই হাজামপাড়া এলাকায় তিনি পড়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান ঘাতকরাও ছিল পৃথক মোটরসাইকেলে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছায় পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইলতুৎমিশ বলেন, লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কারা তার ওপর এই হামলা চালিয়েছে সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানাতে পারেন নি। আওয়ামী লীগ নেতা নজরুলকে গুলি করে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম। তারা অবিলম্বে ঘাতকদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নজরুল ইসলাম পরিবারের ওপর ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৯ বার সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এ সব হামলায় তার আপন সহোদর ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর সিরাজুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলামের ছেলে যুবলীগ নেতা রাসেল কবির ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল নিহত হন। এসব হামলায় নজরুল ইসলাম নিজে তিন বার এবং তার বোন শাহানা খাতুন, বোন জামাই জাহান আলি, আত্মীয় ইউসুফ আলি, ভাই আমজাদ হোসেন, আরেক বোন জামাই কওসার আলি ও ভাগিনা সিমল আহত হন।

হামলার পর থেকে নজরুল নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা থানায় রাত্রি যাপন করতেন। তিনি নিজেও সন্ত্রাসীদের গুলি ও বোমার আঘাতে কয়েক দফা আহত হন। এলাকাবাসি জানান, নিহত নজরুলের পিতা নেছার উদ্দিনও হত্যার শিকার হন।

এদিকে ঘটনার পরপরই এলাকাবাসি সাতক্ষীরা-বৈকারি সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ যেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে নিহত নজরুল ইসলামের জানাযা নামাজ সোমবার বিকাল ৬টায় কুচপুকুরে তার নিজের বাড়িতে সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়।

জানাযা নামাজে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনছুর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহাজান আলী, আগরদাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মজনুর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান, যুবলীগের সভাপতি সামছুর রহমান। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকার সর্বসাধারণ জানাযা নামাজে অংশ নেয়।

আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলামকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে পলাশ রহমান বাদী সোমবার রাতে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি মামলা করেছেন। মামলা নং ৬০। তাং ২২-৭-২০১৯।

#