সাতক্ষীরায় আলোচিত তিন রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা


2117 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় আলোচিত তিন রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
মার্চ ১০, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান ::
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাতক্ষীরার তিন রাজাকারের  বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। ১৯৭১ সালে সাতক্ষীরায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘঠিত করার ৭টি অভিযোগে তাদের অভিযুক্ত করা হয়। এই তিন রাজাকার হলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলীপুর বুলারাটীর  এম আব্দুল্লাহহিল বাকী,  শহরের পলাশপোলের খান রোকনুজ্জামান ও ৭১-এ নৃশংসতার কারণে ‘টিক্কা খান’ নামে পরিচিতি পাওয়া সদর উপজেলার বৈকারী গ্রামের জহিরুল ইসলাম।

গত বুধবার তাদের বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক এবং সদস্য যথাক্রমে বিচারপতি শাহিনুল ইসলাম ও বিচারপতি মো: সহরোওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।

উল্লেখ্য, এর আগে মানবতাবিরোধী ৭টি সুনির্দিষ্ট অপরাধে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৪ রাজাকারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তদন্ত সম্পন্ন করেছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর (আইজিপি পদমর্যাদায়) আব্দুল হান্নান খান। আগামী ২০ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য্য করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক খান বিপিএম, পিপিএম।

রোকন, বাকী ও জহিরুল ছাড়াও মামলার অপর আসামি হলেন, সাতক্ষীরা জেলা জামাতের সাবেক আমির ও সাবেক সাংসদ বৈকারী গ্রামের মাওলানা আব্দুল খালেক ম-ল। ইতিপূর্বেই গ্রেফতার হওয়া মাওলানা আব্দুল খালেক মন্ডল বর্তমানে কারাগারে আছেন। অপর তিন রাজাকার বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতারের আবেদন জানান বাদিপক্ষের কৌসুলী।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন জানান, প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে মাননীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আব্দুল্লাহিল বাকী, খান রোকনুজ্জামান জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

এদিকে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিক্রিয়ায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সাতক্ষীরা জেলা শাখার সদস্য সচিব ও সাতক্ষীরায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাকে সার্বিকভাবে সহায়তাকারী হাফিজুর রহমান মাসুম জানান, “আমরা দীর্ঘদিন থেকে খালেক, বাকী, রোকন ও জহিরুলকে বিচারের আওতায় আনা এবং তাদের গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। এই আটকাদেশ আমাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিশ্চিত করেছে।
##