সাতক্ষীরায় ইউপি চেয়ারম্যান খুন : দাফন সম্পন্ন, স্ত্রীর দাবি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড


1886 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় ইউপি চেয়ারম্যান খুন : দাফন সম্পন্ন, স্ত্রীর দাবি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড
সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ইব্রাহিম খলিল :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, জাপা নেতা কে. এম মোশাররফ হোসেনকে গুলি করে হত্যার পর এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ হত্যার কারণ উদঘটনের জন্য একাধিক মোটিভ নিয়ে মাঠে নেমেছে। রোববার বিকাল পর্যন্ত থানায় কোন মামলাও হয়নি।

এদিকে, ময়না তদন্ত শেষে রোববার বিকালে নিহতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ। রোববার বাদ মাগরিব স্থানীয় বালিয়াডাঙ্গা হাইস্কুল মাঠে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনের দাফন করা হয়েছে। জানাজার নামাজে কালিগঞ্জ, শ্যামনগর, আশাশুনি উপজেলাসহ আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ অংশ গ্রহন করে। হাইস্কুল মাঠ কানায় কানায় ভরা ছিল মানুষ।

গত শনিবার রাত ১১ টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেন মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। তিনি এ সময় স্থানীয় বালিয়াডাঙ্গা যুবলীগ অফিসে বসেছিলেন। চেয়াম্যান মোশারফ হোসেন কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত সৈলুদ্দিন কাগুজির ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং খুলনা বিভাগের জাপার একমাত্র নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন।

নিহতের স্ত্রী লাকী খাতুন জানান, স্থানীয় সাপখালি খালের নেট পাটা তোলাকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল জলিল, এশার আলী, বাহার আলী ও রেজাউল ইসলামের সঙ্গে চেয়ারম্যানের সম্পর্ক ভাল যাচ্ছিল না। একই খাল নিয়ে গোপালগঞ্জ জেলার একজন ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার স্বামীর সম্পর্কের অবনতি হয়। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন (৫২) শনিবার রাত ১১ টার দিকে স্থানীয় যুবলীগ অফিসে বসেছিলেন। এ সময় পাঁচ-ছয় জন যুবক তিনটি মোটরসাইকেলে এসে বাজারে কয়েকটি ককটেল বোমা ফাটায়। এতে আতংকিত হয়ে দোকানপাট বন্ধ হবার সুযোগে সন্ত্রাসীরা যুবলীগ অফিসে ঢুকে চেয়ারম্যানের গালে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে। এরপরও তারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। কালিগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়ার পর আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তৈয়বুর রহমান তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

ওসি জানান ঘটনাস্থল থেকে দুই রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরো জানান, হত্যার কারণ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। থানায় এখনো মামলা হয়নি। রোববার বাদ মাগরিব নিহতের জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফনের পরে মামলার বিষয়টি দেখা হবে।

এদিকে, এই হত্যার নেপথ্য কারণ নির্ণয়ে পুলিশ মাঠে নেমেছে। ওসি জানান স্থানীয় সাপখালি খাল উন্মুক্ত করা নিয়ে তার সাথে বিরোধ রয়েছে অনেকের। তার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল জলিলের সাথে চরম বিরোধ চলছিল চেয়ারম্যানের । সম্প্রতি আবদুল জলিল বেশ কয়েকজন লোককে সাথে নিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেন ‘চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন দক্ষিন রঘুনাথপুর গ্রামের আবু মালাইকার বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাট করেন। তিনি এলাকার লোকজন জমি ও বাড়ি দখল করছেন’।

এ ছাড়া সম্প্রতি স্থানীয় মহসীন ডাকাতকে কে বা কারা কৃষ্ণনগর বাজারে কুপিয়ে জখম করে। মহসীন ডাকাত চেয়ারম্যান মোশাররফ বিরোধী লোক। এলাকায় চেয়ারম্যানের সাথে অনেকের রয়েছে রাজনৈতিক বিরোধ। ওসি জানান এসব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত কাজ চলছে।
###