সাতক্ষীরায় একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধার ফুলে জাগ্রত স্মৃতির মিনার


113 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধার ফুলে জাগ্রত স্মৃতির মিনার
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

রক্তকমলে গাঁথা বর্ণমালার মালা, শিল্পীর আল্পনায় আঁকা রাজপথ আর প্রভাতফেরির গানে মুখরিত করে পালিত হয়েছে একুশের প্রথম প্রহর। বাহান্নর মহান ভাষা আন্দোলনে যে রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিলো, সেই রাজপথে বর্ণমালার আল্পনায় ছড়িয়েছে-একুশ মানে মাথা নত না করার অবিনাশী চেতনা।

সাতক্ষীরার সর্বত্র মহান একুশের চেতনাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে রাজপথ থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত বর্ণে বর্ণে শোভা পায় বর্ণমালার বর্ণিল সাজ। ‘একুশ আমার অহংকার। একুশ আমার গর্ব। একুশের চেতনা, হারিয়ে যেতে দেব না। সালাম, রফিক, জব্বার ভাই, আমরা তোমাদের ভুলি নাই।’ এভাবে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত সাতক্ষীরার শহীদ মিনার চত্ত্বর। মনের সবটুকু আবেগ উজাড় করে দিয়ে বিন¤্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করে সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষ।

শ্রদ্ধার ফুলে ভরে যায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহীদ মিনারের বেদি। মহান ভাষা শহীদদের স্মরণে আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠানমালা। ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্ত্বরে বেদনার সুর-ছন্দময় আবৃত্তির আবেশে শিল্পীরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন মহান ভাষা সৈনিকদের। দুর্নীতি, মাদক, অন্যায়-অপশক্তির বিরুদ্ধে জেগে ওঠার আহ্বান জানান বক্তারা। একুশের চেতনাকে সমুন্নত রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালনের মধ্য দিয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সুখি-সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার দৃপ্ত প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা। স্বাধীনতা বিরোধী ও অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা। প্রাণের মাতৃভাষা ‘বাংলা’কে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিয়ে প্রমিত উচ্চারণ ও বানানরীতি অনুসরণ করার আহ্বান ছিলো সবার কণ্ঠে। নৈরাজ্য-নাশকতার বিরুদ্ধে মুক্তিকামী মানুষ আবদ্ধ হন ঐক্যের বন্ধনে। সন্ত্রাস-দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান, জেগে ওঠার আহ্বান আর বদলে যাওয়ার জয়গানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহীদ মিনার চত্ত্বর।

রাত ১২টা ১ মিনিটে নীরবতা ভেঙে সবাই এক সুরে গাইলেন সেই চিরচেনা অবিনাশী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি? ছেলে হারা শত মায়ের অশ্রু গড়া এ ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?।’ শোকাবহ পরিবেশে সুরের মূর্ছনা থামতেই শহীদ মিনার বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে একুশের প্রথম প্রহর উদযাপন করা হয়। শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন, সাতক্ষীরা সদর আসনের এমপি, সাতক্ষীরা-১ আসনের এমপি এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, এরপর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাগণ, পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ পদস্থ কর্মকর্তাগণ, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা পরিষদ, সাতক্ষীরা পৌরসভা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, ’৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব, দৈনিক পত্রদূত, জেলা নাগরিক কমিটি, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ, দৈনিক কালের চিত্র, দৈনিক দক্ষিণের মশাল, দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক সমকাল, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিস, জেলা বিএনপি, জেলা জাতীয় পার্টি, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টি,জেলা জাসদ, জেলা বাসদ, জেলা শ্রমিকলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, প্রজন্মলীগ, সৈনিকলীগ, মহিলা লীগ, জেলা যুবদল, ছাত্রদল, কৃষকদল, শ্রমিকদল, জেলা ছাত্রমৈত্রী, জেলা জাতীয় ছাত্রসমাজ, শহীদ স ম আলাউদ্দিন পরিবার, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ, সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজ, সাতক্ষীরা কর্মাস কলেজ, সুন্দরবন সায়েন্স এন্ড বিজনেজ কলেজ, পিএন স্কুল এন্ড কলেজ, পলাশপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মর্নিং সান প্রি-ক্যাডেট স্কুল, সাতক্ষীরা প্রি-ক্যাডেট স্কুল, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, এলজিইডি, ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়ন, সাতক্ষীরা উদীচী শিল্পগোষ্ঠী, লিনেট ফাইন আর্টস, রোটারী ক্লাব অব সাতক্ষীরা, বর্ণমালা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, গণশিল্পী সংস্থা, চেম্বার অব কমার্স, সদর উপজেলা পরিষদ, সাতক্ষীরা সদর থানা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি ব্যাংক, সনাক, ওয়ার্ল্ড ভিশন, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জেলা মন্দির সমিতি, মহিলা পরিষদ, যুবমৈত্রী, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, নার্সিং ইনস্টিটিউট, ট্রাক-ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়ন, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, আজাদী সংঘ, রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলনী পরিষদসহ অর্ধ শতাধিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।