সাতক্ষীরায় এ বছর বাইপাস সড়ক নির্মাণ হচ্ছে না!


864 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় এ বছর বাইপাস সড়ক নির্মাণ হচ্ছে না!
জানুয়ারি ২৬, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক:
রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুরদর্শীতার অভাব, সমন্বহীনতা, মন্ত্রণালয়ের অনিহা ও সওজের গাফিলতির কারণে থমকে গেছে সাতক্ষীরার বাইপাস সড়ক নির্মাণ কাজ। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির সাড়ে ৫ বছরে সড়কের জন্য প্রকল্প প্রণয়ন, সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো, নকশা চুড়ান্তকরণ, ভূমি চিহ্নিতকরণ করা হলেও দৃশ্যত কাজের কোন অগ্রগতি হচ্ছে না।

তবে জেলার মেগা এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ২০১০ সালে ১১৬ কোটি থাকলেও ২০১৫ সালে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবে ১৭৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ প্রস্তাব আরো সংশোধন করে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও দুই ব্রিজ নির্মাণ বাবদ ৮৫ কোটি টাকা খরচ হলেও এ বছর কাজ হচ্ছে না। সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘ দিনের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক এ সড়কের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তার অনীহার কারণে এখনও মেলেনি মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি।

তবে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানায়, বর্তমানে প্রকল্পটি যে পর্যায়ে তাতে এ বছর কোন কাজ করা যাবে না। নকশায় পরিবর্তন আসতে পারে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ২৩ জুলাই শ্যামনগরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরায় বাইপাস সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরে সড়ক ও জনপদ বিভাগের উদ্যোগে ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে ভোমরা স্থল বন্দর থেকে বিনেরপোতা পর্যন্ত ২২ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার বাইপাস সড়কের জন্য ১১৬ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। যার জন্য প্রকল্পের বাহিরে আলিপুর চেকপোষ্ট থেকে ভোমরা স্থল বন্দর পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার দুই লেনের রাস্তা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সাতক্ষীরা সওজের কর্মকর্তাদের গাফিলতি, মন্ত্রণালয়ের অনিহা, সমন্বহীনতা ও জেলা প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে সড়কের নির্মাণ কাজের কোন অগ্রগতি হয় নি। প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো, নকশা তৈরি আর মিটিং এই সীমাবদ্ধ থেকেছে বাইপাস সড়ক নির্মাণের কাজ।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের সূত্র আরও জানায়, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। যেখানে ১২ দশমিক ৩৫০ কিলোমিটার দুই লেনের (২৪ ফুট চওড়া) সড়কের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৪ কোটি টাকা। ফলে গত পাঁচ বছরে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে ৫৮ কোটি টাকা। সড়কটি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের লেক থেকে শুরু হয়ে সিটি কলেজের পিছন দিয়ে কাশেমপুর গ্রাম দিয়ে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন যশোর সড়কে মিশে যাবে। সেখান থেকে মুথরাপুর মোড় হয়ে খেজুরডাঙ্গি হয়ে বিনেরপোতা মেঘনা মোড়ে গিয়ে খুলনার সড়কের সাথে মিশে যাবে। আর এ সড়ক নির্মাণ করার জন্য ৯২ দশমিক ৫৮ একর জমি অধিগ্রহণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, সড়কের জন্য প্রকল্প ব্যয় বহির্ভূত লাবসা ও খেজুরডাঙ্গা ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ এখনও হয় নি। ডিপিপিতে ৪৭ কোটি টাকা জমির জন্য বরাদ্দ করা হলেও বর্তমানে মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় জমি অধিগ্রহণ খরচ আরো ৪-৫ গুন বাড়বে।

ট্রাক ড্রাইভার হাফিজুর রহমান জানায়, সাতক্ষীরায় বাইপাস সড়ক হলে শহরে ট্রাকসহ কোন পণ্যবাহী যানবাহন শহরে ঢুকবে না। এ সড়ক ব্যবহার করে খুলনা, ঢাকায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলো চলাচল করবে। ভোমরা থেকে লোড হওয়া ট্রাকগুলো সড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে পারবে। ফলে শহরে কোন ভারী যানবাহনের চাপ পড়বে না।
পৌরসভার একটি সূত্র জানায়, বাইপাস সড়ক হলে টার্মিনালের সাথে সড়কের সংযোগ করে দেওয়া হবে। ট্র্যাকস্টান্ড শহরের বাহিরে চলে যাবে। দুরপাল্লার গাড়িগুলোও সড়ক ব্যবহার করতে পারবে। ফলে শহরে ভারী যানবাহন কম ঢুকবে।

সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগ-২ এর প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বাইপাস সড়ক নির্মাণ কাজ মন্ত্রণালয়ের প্রক্রিয়াধীন আছে। মন্ত্রণালয় বর্তমানে বাইপাস সড়ক নির্মাণে অনিহা দেখাচ্ছে। এতো দীর্ঘ বাইপাস সড়ক নির্মাণে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। প্রকল্পের নকশায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এ বছর বাইপাস সড়কের কাজ হচ্ছে না এটা নিশ্চিত।