সাতক্ষীরায় ওয়ার্কার্স পার্টির জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশ


689 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় ওয়ার্কার্স পার্টির জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশ
আগস্ট ৬, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আমিনা বিলকিস ময়না :
সাতক্ষীরায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য কমরেড মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি বলেছেন, একাত্তরের ঘাতক জামাত শিবিরকে নিষিদ্ধ ও তাদের এবং তাদের যাবতীয় অর্থসম্পদকে রাষ্ট্রায়ত্ব করতে যত দেরী হবে তত বেশী জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যাবে। সরকার এ মুহুর্তে যদি জঙ্গিবাদী তৎপরতা রুখে দিতে চায় তবে অবশ্যই অতিদ্রুত মৌলবাদী সকল রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে অর্জিত বাহাত্তরের সংবিধানের ধারায় বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে হবে। সাথে সাথেই রাষ্ট্রায়ত্ব করতে হবে মৌলবাদী ঘাতকদের সকল অর্থ সম্পদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মৌলবাদ-জঙ্গীবাদ বিরোধী জাগরণ দেখে কৌশলে জঙ্গিবাদ বিরোধী বক্তব্য তুলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তাদের মিত্র মৌলবাদী জঙ্গিবাদী জামাত শিবির চক্র। ওই ঘাতক জঙ্গি জামাত-শিবিরের সাথে সখ্যতা রেখে জঙ্গীবাদ রোখা যায় না। আমাদের প্রিয় স্বদেশ, আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশকে ঘিরে নানান চক্রান্ত সৃষ্টি করা হয়েছে।

সন্ত্রাস প্ররিকল্পনা ও জঙ্গীবাদের লাগাতার আক্রমণে বাংলাদেশকে পর্যদুস্ত করতে চেষ্টা করছে ঐসকল অপশক্তি। আমাদের স্বাধীনতা উত্তরকালে থেকেই বাংলাদেশের অভ্যুদয় যারা মেনে নিতে পারেনি সেই মার্কিন সন্ত্রাস ও পাকিস্তানী ভাবাদর্শের প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে চেতনা ও ভাবাদর্শগতভবে তাদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা চালিয়েছে বার বার। বিএনপি-জামাত এর নেতৃত্বে ঐ শক্তির ছায়াতলে অনেক জঙ্গীবাদী সন্ত্রাসী দল ধর্মীয় রাজনীতির মোড়কে রাষ্টীয় সন্ত্রাস এর মধ্য দিয়ে এদেশের হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাতাবরণকে ধ্বংস করেছে। এখন তারা চায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। বিশ্বপরিস্থিতিকে তাদের অনুকূলে মনে করছে তারা। যদিও বাস্তবে তা সঠিক নয়।

বাংলাদেশে জন্মই হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর দাড়িয়ে। মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র সংগ্রামের প্রথম ঘোষণাই ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, জাতীয়তবাদ ও সমাজতন্ত্রের। আমাদের রাষ্ট্রটিকে সেক্যুলার রাষ্ট্র হিসেবে আমরা চেয়েছি। আমাদের হাজার বছরের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতির, ধর্মীয় সম্প্রতির এক অপূর্ব অর্জন’ ৭২ এর সংবিধান তথা আমাদের শাসনতন্ত্র। আমাদের রাষ্ট্র দর্শন আমরা দাড় করিয়েছিলাম ৪ মূলনীতির উপর। দু:খজনক হলেও সত্যি স্বাধীনতার ৪৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংবিধানকে বার বার বিতর্কিত করা হয়েছে। আর সেই সুযোগে বেড়েছে ধর্মান্ধ প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি। এদেশের লুটেরা বুর্জোয়া দলগুলোর সংকীর্ণ ক্ষমতার লোভে আপোষের কারণে রাষ্ট্র চরিত্রের উপরে আঘাত এসেছে। জাতিকে পুনরায় দাড় করাতে হবে ঐ রাষ্টীয় মূলনীতির উপর। জঙ্গীবাদ-পরাজিত হবে সেখানেই।

শনিবার বিকাল ৫টায় সাতক্ষীরা খুলনা রোডের মোড়স্থ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশ পরিচালনা করেন পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড মহিবুল্যাহ মোড়ল। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কৃষক সমিতির জেলা সভাপতি কমরেড সাবীর হোসেন, জেলা যুবমৈত্রী’র সভাপতি কমরেড স্বপন কুমার শীল, গণ শিল্পী সংস্থার জেলা সভাপতি কমরেড নাসরিন খান লিপি, কমরেড নির্মল সরকার, নারী মুক্তি সংসদের জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব কমরেড আমিনা বিলকিস ময়না,  ছাত্রমৈত্রী জেলা সভাপতি ছাত্রনেতা বিশ্বনাথ কয়াল। সমাবেশের শুরুতে গণসঙ্গীত পরিবেশন করে গণশিল্পী সংস্থা। সমাবেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী ঘোষণা পাঠ করেন জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, উপজেলা কমিটির সম্পাদক ও জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কমরেড ফাহিমুল হক কিসলু।

সমাবেশ থেকে আগামি ৩০ সেপ্টম্বর পর্যন্ত জঙ্গীবাদ সা¤্রাজ্যবাদ বিরোধী ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।