‘সাতক্ষীরায় করোনা অজুহাতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করলে কঠোর ব্যবস্থা’


371 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘সাতক্ষীরায় করোনা অজুহাতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করলে কঠোর ব্যবস্থা’
মার্চ ২০, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

সাংবাদিকদের সাথে জরুরী মতবিনিময় ও পর্যালোচনা সভা

॥ এম কামরুজ্জামান ॥
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের সাথে জরুরী মতবিনিময় ও পর্যালোচনা সভা করেছে। এই সভা থেকে জানানো হয়, শনিবার থেকে সাতক্ষীরা জেলায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে প্রশাসন আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করবে। যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন তারা আইন মানছেন কি-না তাও কঠোর ভাবে মনিটরিং করা হবে। যারা হোম কোয়ারেন্টাইন মানবেন না তাদের জন্যও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
শুক্রবার রাত ৮টায় সাতক্ষীরা সার্কিট হাউজে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেন, করোনা ভাইরাসের মত একটি মহাদুর্যোগ আমাদের সকলে মিলে মোকাবেলা করতে হবে। যেসব অসাধু ব্যবসায়ী এধরনের মহাসংকটে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করছে তাদের কোন ছাড় দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে শনিবার থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজনে জেলে পাঠানো হবে। যাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে তাদেরকে কমপক্ষে ১৪দিন থাকতে হবে। কোন অজুহাত চলবে না। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যারা আইন অমান্য করেছে এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করেছে তাদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ভ্রাম্যমান আদালত তাদের কার্যক্রম অব্যহত রাখবে।
সাভায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য অতিরিক্ত মজুদ না করি সে ব্যাপারে আমাদেরকেই সচেতন হতে হবে। যারা অতিরিক্ত মজুদ করবে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন চলতি মার্চ মাসের ১ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলায় ৮ হাজার ৮’শ ৫৮ জন বিদেশ ফেরত মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তারা কোথায় ,কি ভাবে আছেন তাদের খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। তবে প্রশাসনের একার পক্ষে এতোগুলো মানুষের বাড়িতে বাড়িতে যাওয়া সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা ও সচেতনতা প্রয়োজন।
সভায় সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা: হুসাইন সাফায়াত বলেন, সাতক্ষীরায় এ পর্যন্ত ১৬৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া একজনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বিদেশ থেকে এসেই নিজের ইচ্ছায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার শরীরে তেমন কোন জ্বর,সর্দি,কাশি নেই। এক কথায় হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখার মতো রোগি তিনি নন। তারপরও আমরা রেখেছি। যেহেতু তার দেহে তেমন কোন সিমটম নেই বিধায় তিনি চাইলে হোম কোয়ারেন্টাইনে যেতে পারেন।
সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবি’র অধিনায়ক গোলাম মহিউদ্দিন খন্দকার বলেন, অবৈধপথে ভারত থেকে প্রতিদিন মানুষ পারাপার হচ্ছে এ কথা সত্য। তবে বিজিবির একার পক্ষে তা নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব নয়। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। একই ভাবে অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে সবার প্রচেষ্টা দরকার।
মতবিনিময় সভায় জেলায় করোনার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনসুর আহমেদ, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: নজরুল ইসলাম, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই’র উপ-পরিচালক জাকির হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বদিউজ্জামান প্রমুখ। এছাড়া সাতক্ষীরার বিভিন্ন জাতীয়-স্থানীয় পত্রিকা ও টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ গ্রহণ করেন।