সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে করোনা উপসর্গে যুবকের মৃত্যু, ৬ বাড়ি লকডাউন


849 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে করোনা উপসর্গে যুবকের মৃত্যু, ৬ বাড়ি লকডাউন
এপ্রিল ২৫, ২০২০ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আবুল কাশেম / সুকুমার দাশ বাচ্চু :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কামারগাতি গ্রামে করোনা উপসর্গে হারুন অর রশিদ সুমন (২৭) নামের এক যুবক মারা গেছে। শনিবার ভোরে তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে তিনি মারা যান। এঘটনায় স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী তাকে জানাজা দেওয়া হয়েছে এবং ৬ বাড়ি লক ডাউনের ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। নিহত সুমন কামালগাতি গ্রামের ছবেদ আলী সরদারের ছেলে।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য এস এম আব্দুর রব জানান, ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন সুমন। গত ২০ এপ্রিল তিনি তার স্ত্রী ও বন্ধুসহ ৫ সদস্য নিয়ে এ্যাম্বুলেন্সযোগে গ্রামে ফেরেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের চাপাচাপিতে তারা কামালগাতি গ্রামের ছোট মিয়া সাহেবের মাজার শরীফের কয়েকটি কক্ষে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বাধ্য হন।

ঢাকা থেকে আসার পর তার জ¦র ও শ^াসকষ্ট বাড়তে থাকলে স্থানীয় চিকিৎসকদের নিকট থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে থাকেন। গত শুক্রবার তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে প্রথমে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার আরো অবনতি হলে শুক্রবার রাতে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

কামারগাতি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে ৫-৭ দিন আগে বাড়িতে আসেন হারুন। মাথা ব্যথা, জ্বর, কাশি হওয়ায় গ্রাম্য ডাক্তার দেখান। গ্রাম্য ডাক্তারের পরামর্শে হারুনকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপর সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, মারা যাওয়া যুবক নারায়ণগঞ্জ থেকে সম্প্রতি বাড়িতে ফিরে হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। এসব তথ্য গোপন করে মাথা ব্যথা নিয়ে প্রথমে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগী ও তার স্বজনদের বার বার রোগী কোথায় ছিলেন জানতে চাইলেও তারা তথ্য গোপন করেন।

তিনি আরও বলেন, মারা যাওয়ার পরও রোগীর স্বজনরা নারায়ণগঞ্জ থেকে ফেরার কথা স্বীকার করেননি। এরপর ওই এলাকার স্থানীয় একজন ঘটনাটি জানান। তথ্য গোপন করে তারা অপরাধ করেছেন। একই সঙ্গে আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছেন আমাদের। রোগীর সেবা দেয়া দুই নার্সকে আপাতত কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও রোগীর স্ত্রীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। মৃত্যুর কারণটিও আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।


কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ তৈয়েবুর রহমান ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, মৃত্যুবরণকারি ওই যুবককে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাইডলাইন অনুযায়ী জানাজা ও দাফন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে আসার পর যারা তার সংস্পর্শে ছিল তাদের খুঁজে বের করে নমুনা সংগ্রহ করে তা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক রাসেল জানান, ওই যুবকের সাম্প্রতিক আবাসস্থল অর্থ্যাৎ মাজার শরীফসহ আশেপাশের ৬ টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

#