সাতক্ষীরায় করোনা প্রতিরোধে বিরামহীন প্রচার, চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালত


155 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় করোনা প্রতিরোধে বিরামহীন প্রচার, চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালত
মার্চ ২৪, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ও নিয়ন্ত্রণে জেলায় চলছে বিরতিহীন প্রচার-প্রচারণা। জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জনসচেতনতামূলক কাজে অংশ নিচ্ছেন। জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল ইতোমধ্যে জেলার সকল গবাদিপশুর হাট, সাপ্তাহিক হাট, সিনেমা হল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ওয়াজ-মাহফিল, কীর্তন, নামযজ্ঞ, সকল প্রকার সভা, সমাবেশ, সেমিনার বন্ধ ঘোষণা করেছন। জেলার সকল ব্যবসায়ীদের দোকানের সামনে মূল্য তালিকা ঝুলিয় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কঠোর নজরদারী চলবে বলেও জানিয়েছন জেলা প্রশাসক। জেলার সকল চায়ের দোকানে টেলিভিশন বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়ে জেলা প্রশাসক ক্যাবল অপারেটরদের চায়ের দোকানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছন। যাতে চায়ের দোকানগুলোতে জনসমাগম না ঘটে। এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাঠে চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে। শুক্রবার রাত থেকে জেলার সাত উপজেলায় চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিরিজ অভিযান। পুলিশ, র‌্যাব, আনসারের সমন্বয়ে বিশেষ টিম মাঠে রয়েছে। এছাড়া জেলার ৭৮টি ইউনিয়ন পরিষদ ও দুটি পৌর সভায় চলছে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচারণা। লিফলেট বিতরণ, মাস্ক বিতরণ, হাতধোয়া প্রশিক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। জেলার সকল নাগরিককে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ২২ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১,৪৩,৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। স্বাস্থ্য বিভাগসহ সকল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দিন-রাত কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের বাড়ির সামনে লাল পতাকা টাঙিয়ে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল। করোনা প্রতিরোধে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে বলে জানান তিনি।

এদিকে সোমবারও জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মোস্তফা কামালের নির্দেশে জেলার প্রতিটি উপজেলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সহকারী কমিশনারদের নেতৃত্ব বাজার মনিটরিং করা হয়, করোনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ হয় এবং হোম কোয়ারেন্টিন অমান্য করায় মোবাইল কোর্টে মাধ্যমে জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হয়।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ব্রহ্মরাজপুর বাজারে ২টি চায়ের দোকানে মোবাইল কোর্টের অভিযান চলাকালে ঐ ২টি দোকান হতে ২টি টেলিভিশন জব্দ করে ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের জিম্মায় রেখেছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের বেলায়েত হোসেন গত বৃহস্পতিবার ভারত থেকে এসে উন্মুক্ত ঘোরাঘুরি করছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার তার বাসায় গিয়ে তাকে হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঐ বাড়িতে লাল ফ্লাগ টাঙিয়ে দেয়াসহ তার হাতে অমোচনীয় কালীর সীল দেয়া হয়েছে। অভিযানের সময় ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা পুলিশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিতি ছিলেন।
বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ান আকরামুল হক, ভোমরা স্থলবন্দরে অভিযান চালিয়েছেন। সোমবার ৭৫ ট্রাক পেয়াজ ভারত থেকে আসার কথা ছিলো। এছাড়া আরো কাচা ফলমূল ভারত থেকে প্রবেশ করার কথা ছিলো। পাথর বহনকারী ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল আমিন জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা দোকানে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করেন এবং বাজার মূল্য যাচাই করেন। অভিযান পরিচালনাকালে দেখা যায়, যাচাইকৃত দোকানগুলোতে বাজার মূল্য স্বাভাবিক পাওয়া যায়। পণ্য তালিকা না টাঙানোর অপরাধে চারটি দোকানে মোট ৬৫০০ টাকা অর্থ দন্ড প্রদান করা হয়।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে মুসলিমা সাতক্ষীরা বড়বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য যাচাই করতে অভিযান পরিচালনা করেন।
তালা উপজেলার খালিলনগর ইউনিয়ন, জালালপুর ইউনিয়ন বিদেশ ফেরত আগত ব্যক্তিদের বাড়িতে লাল নিশান টাঙিয়ে দেওয়া হয়। বাসস্ট্যান্ডে স্প্রে করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীদের হ্যান্ডগ্লোভস এবং মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে।
দেবহাটা উপজেলায় ১৯টি টিম মাঠ পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করছে। সচেতনতা, লিফলেট বিতরণ, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করাসহ বিদেশ ফেরতদের বাড়িতে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কলারোয়ার চন্দনপুর ইউনিয়নে হোম কোরান্টাইনদের বাসায় লাল ফ্লাগ স্থাপন করা হয়েছে। বাজারে পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক আছে।
শ্যামনগর উপজেলায় ঈুপষড়হব চৎবঢ়ধৎবফহবংং চৎড়মৎধস (ঈচচ) সদস্যদের সাথে মিটিং করা হয়েছে এবং মিটিং শেষে প্রায় ২০০ প্রবাসীর বাড়িতে লাল ফ্লাগ স্থাপন করা হয়েছে।
কালিগঞ্জ উপজেলায় ১২টি বাজারে ৫ সদস্যের একটি করে টিম কাজ করছে। বাজারগুলোতে দ্রব্যমূল্যের দাম স্বাভাবিক আছে। প্রতিটি মুদি দোকানে মূল্য তালিকা শোভা পাচ্ছে।
আশাশুনি উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে সিল মারা এবং লাল নিশানা লাগানোর কার্যক্রম চলমান আছে। বাজার মনিটরিং করে দেখা যায় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আছে। জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে আমাদের দেবহাটা প্রতিনিধি আক্তার হোসেন ডাবলু জানান, দেবহাটায় করোনা সতর্কতায় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমন্বয়ে ১৯টি মাঠে কাজ করছে। তারা প্রশাসনের পাশাপাশি স্বেচ্ছায় সেবা দিয়ে চলেছে অবিরাম। দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া আফরীনের সহযোগিতায় মাস্ক, জীবানুনাশক হ্যান্ড স্প্রেসহ সচেতনমূলক লিফলেট বিতরণ করে সাধারণ মানুষকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক করছে তারা। উপজেলা নির্বাহী কমৃকর্তা জানান, সোমবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত মোট ১৬০ জন ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে।
পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি মুজিবুর রহমান জানান, সোমবার বেলা ১১টায় পাটকেলঘাটা বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ৪জন ব্যবসায়ীকে ৬হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে অনেক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়।
কালিগঞ্জ থেকে বিশেষ প্রতিনিধি নিয়াজ কাউসার তুহিন জানান, কালিগঞ্জের চাম্পাফুলের উজিরপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এক চাল ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) বেলা ২ টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিফাত উদ্দিন এ অভিযান পরিচালনা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

দেবহাটা থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি দিপঙ্কর বিশ্বাস জানান, গাজিরহাট বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্টে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার বেলা ১১টায় দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাজিয়া আফরীন গাজিরহাট বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে করোনা ভাইরাসকে ইস্যু করে চাল, পেয়াজ রসুনের কৃত্রিম সংকট ও উচ্চমুল্যে বিক্রির ঘটনায় ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯এর ৪৩ ধারায় গাজিরহাটে চালের দোকানদার মৃত মোবারক গাজীর ছেলে আশরাফুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা ও কার্ত্তিক ঘোষকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
শ্যামনগর থেকে আমাদের কৈখালী প্রতিনিধি জানান, শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় ৪জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে৷২৩ মার্চ বিকাল ৪টার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল হাই সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৪ জনকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে৷পশ্চিম কৈখালী গ্রামের সদ্য ভারত থেকে দেশে ফিরে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে না থেকে বাইরে ঘোরাঘুরির কারণে দুজন শামছুর গাজীর পুত্র ইসরাফিলকে ৫ হাজার টাকা, একই গ্রামের আনারুলের পুত্র আল মামুন ৩ হাজার টাকা এবং বাড়িতে অবস্থান না করে বাইরে কাজ করায় শফিকুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা ও পার্শ্ববর্তী আরেকজনকে ১ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে৷
আশাশুনি থেকে আহসান হাবিব জানান, আশাশুনির বল্লভপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক ইটপাজা মালিককে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার বিকালে উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা। এ সময় আনুলিয়া ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামে ইটেরপাজা মালিক হাবল দাশের পুত্র রঞ্জন দাশ ও তপন দাশকে অবৈধভাবে ইট পোড়ানোর অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রমের কারাদন্ড প্রদান করেন।