সাতক্ষীরায় করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি, করোনা টেস্টে অনীহা


225 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি, করোনা টেস্টে অনীহা
জুন ২২, ২০২১ কলারোয়া ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান :

সাতক্ষীরার কলারোয়া দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চলের একটি সীমান্ত উপজেলা। এ উপজেলার ১৭ কিলোমিটার ভারতীয় সীমান্ত। করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে এ উপজেলায় করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এ ভাইরাস বাড়ার একটিমাত্র কারণ হলো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশী লোকজন কিছু অস্বাধু ব্যক্তিদের সহায়তায় ভারত থেকে অবৈধভাবে প্রায় রাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। ইতোমধ্যে সীমান্তবর্তী টহলরত বিজিবি সদস্যরা অবৈধভাবে ভারত থেকে আসা প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করে থানা পুলিশ ও সীমান্তবর্তী হোমকোরাইনটেইনে সোপর্দ করেছে।

এদিকে সাতক্ষীরা জেলা ১৩৮ কিলোমিটার ব্যাপী ভারতীয় সীমান্ত হওয়ার কারণে দ্বিতীয় ঢেউয়ে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক গোটা জেলাব্যাপী চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকে এক সপ্তাহ করে ৩ দফায় কঠোর লকডাউন ঘোষনা করেন। যা আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত চলবে। এতে খেটে খাওয়া মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাবন করছে। তিন সপ্তাহ অতিবিাহিত হওয়ার পরেও করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কমেনি বরং দিন দিন বাড়ছে।

এদিকে লকডাউন পালনে প্রত্যেক উপজেলায় জনগনকে সচেতন করতে মাঠে ময়দানে রাত দিন পুলিশ, ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যারা ব্যাপক ভুমিকা রাখছেন। এমনকি প্রত্যেকদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জনগনকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক, হান্ডস্যানিটাইজার ব্যাবহার, বিনা প্রয়োজনে বাইরে না আসা, সামাজিক দুরত্ব বজায় সহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেকে ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখার আহবান জানানো হচ্ছে। তারপরেও মানুষ তার খাদ্যের প্রয়োজনে বাইরে আসছে।

এদিকে কলারোয়া পৌরসভা ও উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের গ্রামগঞ্জের মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ (সর্দি, জ্বর, কাশি, মাথা ব্যাথা,গলা ব্যাথা) ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেলেও তারা করোনার টেস্ট করছে না। গ্রাম ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তারা বাড়ি চিকিৎসা দিচ্ছে। ফলে অনেকেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে। তাছাড়া করোনা টেস্টের জন্য কলারোয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র‌্যাপিড এন্টিজেন কিডস মেশিন থাকা সত্তেও মানুষ সচেতনতার অভাবে আশানুরুপ পরীক্ষা করতে আসছে না।

কলারোয়ার তুলশীডাঙ্গা গ্রামের মোসলেমউদ্দীন, মোকবুল হোসেন, আশরাফ হোসেন, নেদু মোড়ল ও আনিছুর রহমান করোনা উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে আছেন। সরেজমিনে তাদের বাড়িতে গিয়ে করোনা টেস্ট করেননি কেন জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা করোনা টেস্ট করবো না। আমরা বাড়িতে গ্রাম্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছি। যদি করোনা হয় তাহলে আমাদের বাড়ি লকডাইন করে দিবে তখন অনেক সমস্যা হবে। বিধায় আমরা গোপনে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছি। তারা আরো বলেন, আমাদের করোনা হয়নি। এটা সিজেনারী জ্বর সর্দি কাশি। কয়েকদিন পরেও সেরে যাবে। তারপরেও যদি শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় তখন হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হবো।

কামারালী গ্রামের শামিম হোসেন, আবুল কালাম করোনার উপসর্গ নিয়ে তারা ভুগছে। তাদের কাছে করোনা টেস্টের কথা জানতে চাইলে তারাও একই কথা বলেন।

আবার সীমান্ত এলাকায় অনেকেই বাড়ি লকডাউন করে দিবে ভেবে তারা করোনা টেস্ট না করেই রাতে আধারে গোপনে গিয়ে হোম কোরাইনটেইনে অবস্থান করছে। এভাবে হোমকোরাইনটেইনে গিয়ে অবস্থান করলে সীমন্ত এলাকার ইদ্রিস নামে এক ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হলে দুই দিন পরে তিনি মারা যান বলে জানা গেছে।

করোনা টেস্টে মানুষের অনাগ্রহের কথা জানতে চাইলে, কলারোয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জিয়াউর রহমান বলেন, প্রথমে মানুষের সচেতনতার অভাব। কলারোয়ার প্রায় অধিকাংশ বাড়িতে করোনার উপসর্গ রোগী আছে। কিন্তু তারপরেও তারা করোনা টেস্ট করতে চাইনা। ইতোমধ্যে কলারোয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও করোনা টেস্টের জন্য র‌্যাপিড এন্টিজেন কিডস মেশিন আছে। যা দিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে করোনা টেস্টের ফলাফল পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের পক্ষ থেকে বারবার মাইকিং করা সত্ত্বেও তারা করো টেস্ট করতে আসে না। তাছাড়া আমাদের স্বাস্থ্যকর্মী ফিল্ডে গিয়ে বুঝাচ্ছে, আমি নিজেও বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লাবে গিয়ে বলছি, তার পরেও মানুষ পরীক্ষা করতে আসছে না।

কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন আসছে না এটা আমাদের কাছেও প্রশ্নবিদ্দ। তারপরেও অনেকেই বলছেন, করোনা শনাক্ত হলে বাড়ি লকডাউন হবে, বাড়ির অন্য সদস্যরা বাইরে যেতে পারবে না, এরকম নানা সমস্য বা অজুহাত খাড়া করছেন।

তনি আরো বলেন, কলারোয়া পৌর সদরসহ আশপাশের লোকজন মোটামোটি আসছে। গতকাল সোমবারও আমরা ৫৪ জন পরীক্ষা করেছি। আজ পর্যন্ত এ বছর আমরা ১২০৭ জন রোগি পরীক্ষা করেছি। তার মধ্যে ২৯০ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৫ জন মারা গেছে। বাকি ২৮৫ জন সুস্থ হয়েছে।

#