সাতক্ষীরায় খরগোশ পালন করে বেকার যুবকরা আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে


6354 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় খরগোশ পালন করে বেকার যুবকরা আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে
মার্চ ১৯, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

গোলাম সরোয়ার :
খরগোশ পালন খামার করে সাতক্ষীরার অনেক বেকার যুবক আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে। সল্প পুজি বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছে তারা। গড়ে উঠেছে জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক খামার। এসব খামারে পালন করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার খরগোশ। এ প্রানীটি পালনে তেমন কোনো ঝুনি না থাকায় খামারের সংখ্যাও বাড়ছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রানী সম্পদ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় দেড় থেকে দুই শতাধিক খরগোশ পালন খামার গড়ে উঠেছে। এসব খামারে দেশী বি-দেশী খরগোশ পালন করা হচ্ছে। খামারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষনের পাশাপাশি সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে জেলা প্রানী সম্পদ বিভাগ।
গত ১৫ থেকে ১৬ বছর খরগোশ পালন করছেন সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ধুলিহর এলাকার আজমল হোসেন। তার খামারে এখন ১৫০ থেকে ২০০ খরগোশ রয়েছে। সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকার মানুষজন ছাড়াও জেলার বাইরে থেকেও তার খামার থেকে খরগোশ কিনতে আসে। প্রতি জোড়া খরগোশ ৩৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা করে বিক্রি করেন তিনি। তিনি বলেন, খরগোশ পালন খুবই লাভজনক ব্যবসা। খামারের খরচ বাদে প্রতি মাসে তার ১৪ থেকে ১৫ টাকা লাভ হয়।
সাতক্ষীরার গোপিনাথপুর গ্রামের প্রদীপ কুমার মন্ডল জানান, প্রানী সম্পদ অফিস থেকে খরগোশ পালনের উপর প্রশিক্ষন গ্রহন করে প্রায় ৫ বছর ধরে তার নিজ বসতবাড়ীতে খরগোশ পালন করছেন। দেশী এবং বিদেশী শতাধিক খরগোশ রয়েছে তার খামারে। সাতক্ষীরাসহ আশপাশে খুবই চাহিদা রয়েছে খরগোশের। তিনি বলেন, প্রতি মাসে এখান থেকে তার ১০ থেকে ১২ হাজার লাভ হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রানী সম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডাক্তার শশাংক কুমার জানান, খরগোশ পালন খামার খুবই লাভজনক। সল্প পুজি বিনিযোগ করে যে কেউ এটি করতে পারে। বিশেষ করে সল্প শিক্ষিত ছেলে-মেয়েরা খুব আগ্রহের সাথে খরগোশ পালন করছে। তাছাড়া খরগোশ শুধু সৌখিন ভাবে পালন করা হচ্ছে না।এটি আমিষের চাহিদাও মিটাচ্ছো। অন্যদিকে এর মাংশতেও রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুন। তিনি আরো বলেন, প্রতি দুই থেকে আড়াই মাসে বাচ্চা দেয়। প্রতিটি মা-খরগোশ এক সাথে ৪ থেকে ৬টি পর্যন্ত বাচ্চা প্রসব করে। একনাগাড়ে ৮ বছর যাবত বাচ্চা দেয়। এদের আয়ুকাল ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত। তাছাড়া এদের খাদ্য নিয়েও কোনো সমস্যা হয়না। দেশী ঘাশের পাশাপাশি সবজি প্রধান খাবার খরগোশের। বর্ষাকালে ভাইরাস জাতীয় কিছু সমস্যা দেখা দিলেও অন্য কোনো রোগবালাই এদের হয় না। ফলে যে অল্প পুজি বিনিয়োগ করে যে কেউ এর খামার করতে পারে। #