সাতক্ষীরায় খাদ্য অধিকার আইনের দাবিতে আলোচনা সভা


291 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় খাদ্য অধিকার আইনের দাবিতে আলোচনা সভা
অক্টোবর ২৪, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

 

নাজমুল আলম মুন্না ::
বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০১৮ উদযাপন উপলক্ষ্যে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ সাতক্ষীরা জেলা শাখার আয়োজনে এবং দেশব্যাপী “খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার ক্যাম্পেইনের অংশ হিসাবে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের হলরুমে এই সভায় সভাপতিত্ব করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সভাপতি মরিয়ম মান্নান। অনুষ্টানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা সরকারী মহিলা কলেজের সাবেক শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ফারহা দিবা খান সাথী, পৌর কাউন্সিলর শেখ শফিক উদ্ দৌলা সাগর ও সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক মোঃ আনিসুর রহিম।
খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক মাধব চন্দ্র দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দৈনিক যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি সুভাষ চৌধুরী, টিআইবি’র সাতক্ষীরা এরিয়া ম্যানেজার আবুল ফজল মোঃ আহাদ, ব্র্যাকের জেলা প্রতিনিধি রেজাউল করিম খান, জেলা বাকশিস সাধারন সম্পাদক মোবাশ্বেরুল হক জ্যোতি, কমিটির সহ-সভাপতি আবু জাফর সিদ্দিকী, কমিটির যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মোঃ নাজমুল আলম মুন্না, হেড এর নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন, শুভেচ্ছা মহিলা সমিতির সভানেত্রী লিলি জেসমিন ও দৈনিক কাফেলার বার্তা সম্পাদক মোঃ ঈদুজ্জামান ঈদ্রিস প্রমুখ।
এসময় বক্তারা আলোচনা সভার প্রতিপাদ্য “মধ্য আয়ের দেশে অতিদরিদ্রসহ ৪ কোটি দরিদ্রের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির নিশ্চয়তা” কে স্বাগত জানিয়ে বলেন খাদ্যে বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি হলেও ভেজাল মুক্ত, নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টিকর খাবার প্রস্তুতে অনেক পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন খাদ্য অধিকার আইন চাই এটা চাওয়ার কোন যুক্তিকতা নেই কারন খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। এটা বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। খাদ্য অধিকার আন্দোলন ২০১৫ সাল থেকে শুরু হয় স্থাণীয়, জাতীয়, আন্তর্জাতিক এনজিও নেটওয়ার্ক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ের মাধ্যমে। উল্লেখ্য যে, আমাদের সংবিধানে খাদ্য প্রাপ্তির বিষয়টিকে মৌলিক চাহিদা হিসাবে স্বীকার করলেও খাদ্য নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহিত পদক্ষেপগুলো দান বা সেবামূলক। পৃথিবীব্যাপী অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, বেশির ভাগ উন্নয়নশীল দেশে সব মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছেনা। এ পেক্ষাপটে সারা বিশ্বে ‘খাদ্য অধিকার’ এর গুরুত্ব বাড়ছে। নেটওয়ার্কের কাজের ধারাবাহিকতায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে“ খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নে সরকারী পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বরাবর সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদানের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে যেটা চলমান রয়েছে। বক্তারা বলেন আমরা বাজার হতে খাদ্য ক্রয় করি সেটা নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত কিনা আমরা যাচাই বাছাই না করেই। এখানে আমাদের অনেক গাফিলতি ও যথেষ্ট সচেতনার ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। সুন্দর ও গর্বিত বাংলাদেশ গড়তে হলে সুস্বাস্থের বিকল্প নেই। এজন্য সবাইকে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া একান্ত জরুরি উল্লেখ করে আরও বলেন এটা আমাদের প্রত্যেক পরিবার থেকেই চালু করতে হবে। আগে নিজে সচেতন হোন পরে অন্যকে সচেতন করুন। তাহলে একদিন এর সুফল নিশ্চই পাওয়া যাবে। খাবার হোটেল রেস্টুরেন্ট মালিকদের খাবার প্রস্তুতে মানসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা একান্ত দরকার বলে অভিমত প্রকাশ করেন। এজন্য খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবিতে জেলা ক্যাম্পেইনকে সর্বস্তরের নাগরিক, স্থানীয় সরকার, প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সকলকে “খাদ্য অধিকার আইন” প্রণয়নের যৌক্তিক দাবি প্রতিষ্ঠায় স্বাক্ষর প্রদানসহ সকল কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করার জন্য জনগণকে আহবান জানিয়েছেন।

##