সাতক্ষীরায় খাস জমি বন্দোবস্ত পায়নি দেড় হাজার পরিবার


2138 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় খাস জমি বন্দোবস্ত পায়নি দেড় হাজার পরিবার
নভেম্বর ৮, ২০১৯ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ২১ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি

॥ এম কামরুজ্জামান ॥

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে সাতক্ষীরার দেবহাটা-কালীগঞ্জের ১০টি ভূমিহীন এলাকার ৩ হাজার ১৭৮ একর বিশেষ চিংড়ি জলমহাল শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে কৃষি খাস জমিতে রূপান্তর করে তা ভূমিহীনদের মাঝে স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু দীর্ঘ ২১ বছরেও প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। এখনও এক হাজার ৫২৭ একর জমির শ্রেণি পরিবর্তন না হওয়ায় তা ভূমিহীনদের মাঝে বন্দোবস্ত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এসব জমিতে প্রায় দেড় হাজার ভূমিহীন পরিবার বসবাস করলেও তাদের নামে স্থায়ী বন্দোবস্ত না দেওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশ ল্যান্ড হোল্ডিং লিমিটেশন অর্ডার ১৯৭২ বা পিও ৯৮/৭২-এর বলে সরকার সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ঢেপুখালী পূর্ব, ঢেপুখালী পশ্চিম, কাঠমহল, কামিনীবসু, কালাবাড়িয়া-১, কালাবাড়িয়া-২, নোড়া চারকুনি এবং কালীগঞ্জ উপজেলার ঝায়ামারি, ভাঙ্গানমারী ও বাবুরাবাদ এলাকার মোট ১০টি গ্রামের স্বর্ণকার এবং ব্রা পরিবারের ৩ হাজার ১৭৮ একর জমি অধিগ্রহণ করে তা খাস হিসেবে ঘোষণা করে। তবে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ওই জমির রেকর্ডীয় মালিক দাবি করে সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। এ মামলায় ১৯৮২ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পৃথক দুটি রায়ে ওই জমিকে কৃষি খাস জমি হিসেবে ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত করে তা ভূমিহীনদের মাঝে স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়ার আদেশ দেন। এই রায়ের পর ওই জমিতে শত শত ভূমিহীন পরিবার ঘরবাড়ি তৈরি করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস শুরু করে। ১৯৯২ সালে বিএনপি সরকার তাদের অনুসারী কিছু ব্যক্তির সুবিধার জন্য ওই খাস জমিকে পুনরায় শ্রেণি পরিবর্তন করে ‘বিশেষ চিংড়িমহল’ ঘোষণা দেয়। এরই একপর্যায় ১৯৯৮ সালের ১০ মে এবং ২৭ জুলাই দু’দফা ভূমিহীনদের ওপর প্রভাবশালীরা হামলা চালায়। এতে ২৭ জুলাই ভূমিহীন নেত্রী জায়েদা নিহত হন এবং ২২৯ জন ভূমিহীন নারী-পুরুষ আহত হয়। এ সময় খাস জমি পাওয়ার দাবিতে শুরু হয় ভূমিহীনদের দূর্বার আন্দোলন। একপর্যায় ১৯৯৮ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেবহাটা উপজেলার দেবীশহর ফুটবল মাঠে ভূমিহীনদের সমাবেশে বক্তব্য দেন। এ সময় ওই খাস জমি ভূমিহীনদের মাঝে বণ্টনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

দেবহাটা-কালীগঞ্জ ভূমিহীন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম বলেন, খাস জমি নিয়ে ভূমিদস্যুরা কিছু ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে আদালতে কয়েকটি মামলা করেছে। মামলাগুলো বিচারাধীন। ভূমিহীনদের পক্ষে এসব মামলায় আইনি সহায়তা দিয়ে আসছে বেসরকারি সংস্থা ‘উত্তরণ’। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকারি তদারকি জরুরি।

দেবহাটা-কালীগঞ্জ ভূমিহীন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ওহাব আলী সরদার বলেন, ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীনদের মাঝে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। ভূমিহীন পরিবারগুলো যাতে স্থায়ী বন্দোবস্ত পায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সূত্র : দৈনিক সমকাল।প্রকাশের তারিখ—–০৮-১১-১৯