সাতক্ষীরায় খেজুর গাছ কাটায় ব্যস্ত গাছিরা


139 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় খেজুর গাছ কাটায় ব্যস্ত গাছিরা
ডিসেম্বর ৩, ২০২১ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

আর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে পুরোদমে শীত শুরু হবে। এরই মধ্যে ভোরে লতা-পাতা আর ঘাসের উপর ঝরে পড়ছে শিশির বিন্দু। শিশির ভেঙে গ্রামের চাষিরা ছুটে যাচ্ছে সবুজ ধানের ক্ষেতে। শীত শুরুর সঙ্গে সঙ্গে খেজুর গাছ প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছে গ্রামের গাছিরা। এবার একটু আগেই শীতের দেখা মিলছে সাতক্ষীরা জেলায়। দিনে সূর্যের উষ্ণতাপ আর রাতে কুয়াশার সঙ্গে বইছে হিমেল হাওয়া।

ভোর থেকেই ব্যস্ত গাছিরা দা দিয়ে খেজুর গাছ কাটছে। কদিন পরেই গাছ থেকে গাছিদের প্রক্রিয়াজাত করা খেজুরের রস দিয়ে তৈরি করা হবে চিড়ার মোয়া, গুড় ও পাটালি। শীতের সকালে গ্রামের গৃহস্থ বাড়িতে খেজুরের রস দিয়ে বানানো হবে মুখরোচক পিঠা, পায়েস, ক্ষীর। সরজমিনে দেখা গেছে, আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের আশপাশের গ্রামের রাস্তার পাশে সারি দিয়ে লাগানো খেজুর গাছ কাটতে ব্যস্ত গাছিরা।

আঞ্চলিক ভাষায় এটাকে গাছ তোলা বলা হয়ে থাকে। এ সময় গাছিরা বিশেষ কায়দায় কোমরে রশি বেঁধে খেজুর গাছের উপরে উঠে। তোলা গাছে এক সপ্তাহ পরেই আবার হালকা কেটে তাতে নল লাগানো হয়। পরে সেখান থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। আশাশুনি উপজেলার বকচর গ্রামের খেজুর রস সংগ্রহকারী গাছি মোকছেদ সরদার বলেন, খেজুরের রস দিয়ে আগাম গুড় ও পাটালি বানাতে পারলে লাভ বেশি হয়।

সেই আশাতেই চলতি বছরও গুড় তৈরির দিকে ঝুকছে গাছিরা। তিনি আরও বলেন, অনেক বছর থেকেই খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছেন। এ রস থেকে তিনি গুড় ও পাটালি তৈরি করে গ্রামের বিভিন্ন মানুষের নিকট বিক্রি করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজমুল হুদা বলেন, ভোরে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে তা জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করা হয়। ১টি গাছ কাটতে একজন শ্রমিককে ২০০ টাকা দিতে হয়। ৪০টি গাছ থেকে থেকে ২০ ভাড় রস হয়। শ্রীউলার গাছি শাহাদাৎ হোসেন বলেন, এক ভাড় রসের দাম ১৫০ টাকা। ৮ ভাড় রসে ১ ভাড় গুড় হয়। এক ভাড় গুড় ৫-৮ কেজি হয়। ১ কেজি গুড়ের দাম ২৫০-৩০০ টাকা।

সাতক্ষীরা জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: নূরুল ইসলাম জানান, জেলায় প্রচুর খেজুর গাছ রয়েছে। আগে আরও ছিল। এর মধ্যে তালা-কলারোয় ও সদর উপজেলায় খেজুর গাছের সংখ্যা বেশি। চলতি মৌসুমে জেলায় ১২০টন খেজুর গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।