‘সাতক্ষীরায় গত ৫ মাসে ২৩০ জন নারী নির্যাতনের শিকার’


273 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘সাতক্ষীরায় গত ৫ মাসে ২৩০ জন নারী নির্যাতনের শিকার’
অক্টোবর ২৮, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
সাতক্ষীরা জেলায় চলতি বছরের জুন থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২৩০টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৪৬টি। বাকী ১৮৪টি ঘটনা নিষ্পত্তি হয়নি। এ সময়ে জেলায় সবচেয়ে বেশি নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায়, কম আছে দেবহাটায়। বুধবার বিকেলে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত চিত্র তুলে ধরা হয়।

সভায় জানানো হয়, নারী নির্বাতনের চিত্র অন লাইনে রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে। চলতি বছরের জুন থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ২৩০টি নারী নির্যাতনের ঘটনা রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। জেলার আশাশুনি উপজেলায় এ সময় আত্মহত্যা ১টি, শারীরিক নির্যাতন ১৬টি, ধর্ষণের চেষ্টা ১টি, ভরণপোষণ না দেওয়া ৫টি ও একটি যৌতুকের দাবীর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলায় মোট ২৪টি ঘটনায় মামলা হয়েছে ২টি, নিষ্পত্তি হয়েছে ২টি।

দেবহাটা উপজেলায় আত্মহত্যা ১টি, শারীরিক নির্যাতন ৪টি, ধর্ষণের চেষ্টা ১টি, পাচার ১টি, হত্যার চেষ্টা ১টি, বাল্য বিবাহ ৩টিসহ মোট ১৩টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মামলা হয়েছে ৪টি, নিষ্পত্তি হয়েছে ৩টি।

কলারোয়া উপজেলায় ধর্ষণের ঘটনা ১টি, শারীরিক নির্যাতন ১৬টি, পাচার ১টি, আত্মহত্যা ২টি, বাল্য বিবাহ ৩টিসহ মোট ৪৩টি নির্যাতনের ঘটনা রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। এর মধ্যে মামলা হয়েছে মাত্র ৪টি, নিষ্পত্তি হয়েছে ১২টি ঘটনার।
কালিগঞ্জ উপজেলায় শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১১টি, ধর্ষণের চেষ্টা ২টি, ধর্ষিত হয়েছে ২ জনসহ মোট ২০ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তবে জেলায় সবচেয়ে বেশি নারী নির্যাতনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে সদর উপজেলায়। এ উপজেলায় ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ১টি, শারীরিক নির্যাতন ৪৩টি, আত্মহত্যা ৪টি, ধর্ষণ ১টিসহ মোট ৫৯টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মামলা হয়েছে ১১টি, নিষ্পত্তি হয়েছে ৯টি ঘটনার।

শ্যামনগর উপজেলায় হত্যার চেষ্টা ১টি, শারীরিক নির্যাতন ২৩টি, ধর্ষণের চেষ্টা ২টিসহ মোট ৪০টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ সব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৪টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ১১টি ঘটনার। এবং তালা উপজেলায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫টি, শারীরিক নির্যাতন ২০টি, আত্মহত্যা ৪টি সহ মোট ২২টি নির্যাতনের ঘটনা রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। এ সময় ঘটনায় ৮টি ঘটনায় মামলা হয়েছে। কিন্তু এখনও কোন ঘটনা নিষ্পত্তি হয় নি।

বুধবার অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তারাময় মুখার্জি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কর্মকর্তা রেজাউল হায়াৎ, এনটিভি ও যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি সুভাষ চৌধুরী, প্রথম আলোর কল্যান ব্যানার্জি ,জনকন্ঠের মিজানুর রহমান, এটিএন বাংলা ও সমকালের নিজস্ব প্রতিনিধি ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমের সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, দেশ টিভির জেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক কালের চিত্রের নির্বাহী সম্পাদক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, এড. অরুণ ব্যনার্জি, জনতার জেলা প্রতিনিধি কালিদাশ রায়, মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি অসীম চক্রবর্তী, খরবপত্র, এসটিভির জেলা প্রতিনিধি ও কালের চিত্রের সহ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, রবাংলা ভিশনের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান আসাদ, মোহনা টিভির জেলা প্রতিনিধি আব্দুল জলিল, দৈনিক কালের চিত্রের বিশেষ প্রতিনিধি নাজমুল হক, সাদিকুর রহমান প্রমুখ। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার কার্যক্রম জোরদার করণ প্রকল্পের মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের কাছে নির্যাতনের ঘটনার তথ্য চাওয়া হয়। অন্যদিকে নির্যাতনের ঘটনা সংবাদপত্রে প্রকাশের দাবীও জানানো হয়। সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন অর্জনসমূহ তুলে ধরা হয়।