সাতক্ষীরায় গত ৮ দিনে ১৯২ জন করোনা রোগী শনাক্ত !


243 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় গত ৮ দিনে ১৯২ জন করোনা রোগী শনাক্ত !
জুলাই ১৩, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

পিসিআর ল্যাব স্থাপন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ রোগীর স্বজন ও চিকিৎসকরা

স্টাফ রিপোর্টার ::

সাতক্ষীরা জেলায় গত ৮ দিনে ১৯২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সাতক্ষীরায় করোনা সংক্রমণের ৭৫ দিন পেরিয়ে গেলেও পরীক্ষাগার স্থাপন না হওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েছে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনরা। অন্যদিকে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) মেশিন স্থাপনের মতো উপযোগী পরিবেশ থাকার স্বত্ত্বেও স্বাস্থ্য বিভাগের এক প্রকারের উদাসীনতার জন্য তা আলোর মুখ এখনও দেখতে পায়নি বলে অভিযোগ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে সচেতন সাতক্ষীরাবাসীর মধ্যেও।

জানা যায়, গত ৮ মার্চ দেশে সর্বপ্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলেও জেলায় গত ২৬ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলেও অফিসিয়ালি ৩০ এপ্রিল প্রথম শনাক্ত হয়। শুরুর দিকে সংক্রমণের সংখ্যা কম থাকলেও ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। গত ০৪ জুলাই ২০২০ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১৯২ জন ছিল। তবে গত ১২ জুলাই ২০২০ জেলায় একদিনে সর্বোচ্চ ৪৪ জন আক্রান্ত সহ সর্বমোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮৪ জন।

অন্যদিকে লাফিয়ে লাফিয়ে করোনার সংক্রমণ জেলার মানুষের শরীরে ধরা পড়লেও সাতক্ষীরায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ রোগীর আত্মীয়-স্বজন ও চিকিৎসকরা। সিভিল সার্জন অফিসের ফেসবুক পেজ থেকে আরও জানা যায়, করোনা উপস্বর্গে সন্দেহে ২৭৪১ জন্য ব্যক্তির স্যাম্পল গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ৪৪ জন সহ মোট ৩৮৪ জনের শরীরে করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে এবং সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ১৪৭ জন এবং করোনা আক্রান্ত হয়ে ৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, মহামারি করোনা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা থাকলেও জেলার করোনার প্রতিরোধ কমিটির নিরব থাকার বিষয়টি আমাদের হতবাক করে দিয়েছে। এমনকি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রিতার জন্য রিপোর্ট আসতে দেরি হলেও করোনা উপস্বর্গে আক্রান্ত ব্যক্তিরা দেদারছে হাটবাজার, রাস্তাঘাটা ও বিভিন্ন জনসমাগম এলাকায় ঘুরাঘুরি করছে। তাদেরকে ঘরে রাখতে প্রশাসনের প্রতিনিধিদের তেমন কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না। এর থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। জেলার সচেতন মহল জানান, দিনের পর দিন জেলায় বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা; তা নিয়ে সকল উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করলেও করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পরীক্ষাগার স্থাপনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি স্বাস্থ্যবিভাগের কোনো কর্মকর্তারা। আমরা চাইবো অনতিবিলম্বে যেন করোনা রোগীদের শনাক্তের জন্য নির্ধারিত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের ১০০শ’ শয্যা হাসপাতালেই ল্যাব স্থাপন করা হয়।

শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন জানান, আমাদের জেলায় কোনো করোনা পরীক্ষাগার নেই। জেলা সদর থেকে পৃথক যেসব এলাকা রয়েছে তার মধ্যে গাবুরা অন্যতম। শহর থেকে গাবুরায় যেতে প্রায় ৩ ঘন্টা সময় লেগে যায়। করোনা উপস্বর্গে মৃত্যু ব্যক্তির স্যাম্পল ২ ঘন্টার মধ্যে সংগ্রহ করে পিসিআর মেশিনে পরীক্ষার জন্য পাঠাতে না পারলে ফলাফল নেগিটিভ আসবে স্বাভাবিক। তাহলে আপনারাই বলুন কি ফলাফল পাবো আমরা। জেলায় পিসিআর ল্যাবের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের কাছে বারবার দাবি জানিয়েছি। তবে তারা এখনও আমাদের দাবির বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়নি। তিনি আরও বলেন, পিসিআর মেশিন আমাদের সাতক্ষীরায় স্থাপন করা হলে ফলাফল পেতে বিলম্ব হতে হবে না। যদি কোনো ব্যক্তির ফলাফল পজেটিভ আসে, তাহলে তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত চিকিৎসা সেবা দিতে পারলে আরোগ্য লাভ করতে পারে তারা। আশাকরি বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অতি দ্রুত ল্যাব স্থাপন করবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি ফাহিমুল হক কিসলু জানান, জেলার অধিকাংশ মানুষ এখন করোনা উপস্বর্গে আক্রান্ত। কোনো ল্যাব না থাকায় সংক্রমণের নমুনা পরীক্ষা করতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। আমরা বহুবার দাবিও তুলেছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখনও বিষয়টির কোনো সুরাহ করেননি। সেজন্য আজও একটি মানববন্ধন করেছি। আশাকরি দ্রুত জেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপনের পরিবেশ তৈরি করবেন স্বাস্থ্যবিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।

সিভিল সার্জন ডা: হুসাইন সাফাওয়াত জানান, করোনা উপস্বর্গে সন্দেহে ২৬৮০ জন্য ব্যক্তির স্যাম্পল গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে এবং পরীক্ষার দীর্ঘ্সূত্রিতার জন্য ৭২০ জনের রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। তবে গত ২৪ ঘন্টায় ৪৪ জন সহ মোট ৩৮৪ জনের শরীরে করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে এবং সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ১৪৭ জন এবং করোনা আক্রান্ত হয়ে ৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

তিনি আরও জানান, নীতিগতভাবে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কথা থাকলেও জেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কোন উদ্যোগ এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নেইনি। যা আমাদের জন্যও হতাশাজনক। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা মৌখিকভাবে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য একটি স্টিমেট চেয়েছিল; সেই স্টিমেট অনুযায়ী পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য প্রায় ১ কোটি টাকার প্রয়োজন। আমাদের তেমন কোনো ফান্ড না থাকায় তা করতে পারছি না আমরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কোনো একটি ফান্ড থেকে তা এ কাজে ব্যয় করতে পারেন। তবে জেলায় করোনা সংক্রমণ শনাক্তের ৭৫ দিন পেরিয়ে গেলেও পিসিআর ল্যাব সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে না বসার বিষয়টি বলতে পারবো না। পিসিআর ল্যাব সাতক্ষীরায় বসলে আমাদেরও রোগীদের সেবা দিতে সুবিধা হবে। সেজন্য দ্রুত পিসিআর ল্যাব স্থাপনের বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডাঃ হাবিবুর রহমান জানান, পিসিআর ল্যাব স্থাপনের অনুমোদন হয়ে গেছে। কিন্তু মেশিন সংকটের জন্য আজও তা স্থাপন হয়নি। গতকাল জনপ্রশাসন সচিব আসছিলেন। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করে বলেন দেশে ৫ টি পিসিআর মেশিন যদি আসে তার মধ্যে একটি সাতক্ষীরা পাবে। এছাড়াও ইঞ্জিনিয়ার সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব স্থাপনের রুম পরিদর্শন করে গেছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, খুব শীঘ্রই আমরা হয়তো বা পিসিআর ল্যাব পেয়ে যাবো।

#