সাতক্ষীরায় গরুর জরা রোগের প্রাদুর্ভাব : ১৫ গরুর মৃত্যু


405 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় গরুর জরা রোগের প্রাদুর্ভাব : ১৫ গরুর মৃত্যু
ডিসেম্বর ১, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

মনজুর কাদীর/শাহিদুর রহমান ::

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ও তালা উপজেলার জেয়ালা নলতা এলাকায় গরুর খুড়া বা জরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে পাঁচটি গরুর মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্থানীয়রা। অসুস্থ রয়েছে আরো অর্ধশতাধিক। রোগের কোনো উপায় না পেয়ে গরুর খামার মালিকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের এল্লারচর, বালিথা, শিমুলবাড়িয়া, ফয়জুল্লাহপুর, ফিংড়ী, গোবিন্দপুর, মির্জাপুর, সুলতানপুর, গাভা, ব্যাংদহা, জোড়দিয়া, গোবরদাঁড়ি, কুলতিয়া, হাবাসপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গরুর জরা রোগ দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে দক্ষিণ ফিংড়ী কাপালীপাড়ার খামার মলিকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানান তারা।

এদিকে তালা উপজেলার গরুর গ্রাম খ্যাত জিয়ালা নলতা এলাকায় একই ভাবে জরা রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানেও প্রায় ৮ থেকে ১০টি গরু মারা গেছে। অনেক গরু আক্রান্ত হয়েছে। ওই গামের প্রতিটি ঘরে ঘরে গরুর খামার। বিধায় খামারিদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

গরুর জরারোগ দেখার ফলে দুচিশ্চায় পড়েছেন এলাকার সাধারণ গরুর খামার মালিকরা। এলাকার কয়েকজন স্থানীয় গরুর খামার মালিকের মধ্যে দীনবন্ধু বাছাড়, সাধন চন্দ্র মন্ডল ও ইউপি সদস্য সুকুমার সরদার জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে গরু পালন করে আসছি কিন্তু কখনো জরা রোগের সমস্যায় পড়িনি। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এলাকায় পাঁচটি গরু মারা গেছে। এরমধ্যে ইউপি সদস্য সুকুমার সরদারের দুটি গরু, মানস সরদারের একটি , নির্মল মন্ডল একটিসহ এলাকায় ৫টি গরু মারা গেছে।

তারা আরো জানায়, আমাদের ফিংড়ী ইউনিয়নের সরকারি কোনো পশু ডাক্তার না থাকার কারণে চরমভাবে ভোগান্তি পেতে হচ্ছে। তারা যশোর থেকে সরকারি ডাক্তার জয়দেব কুমার সিংহকে জরা রোগে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে। তিনি এলাকায় জরা রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
খারারিরা জানায়, গরুর পায়ের দুই খুরের মাঝে অথবা মুখে দগদগে ঘা হচ্ছে। পরে তারা খাওয়া ছেড়ে দিচ্ছে। কয়েক দিন পরেই মারা যাচ্ছে।

খামারিদের অভিযোগ, এলাকায় ব্যাপক ভাবে গরুর জরা রোগ ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় পশু সম্পদ বিভাগ কোন ধরনের সহযোগিতা করছে না। সরকারি পশু চিকিৎসকদের বার বার বলা হলেও তারা এখনো এলাকায় আসেনি। সরকারি ভাবে কোন ওষুধ তারা বিতরণ করছে না।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকতা ডা: সমরেশ চন্দ্র দাশ খুড়া বা জরা রোগের প্রাদুর্ভবের কথা স্বীকার করে ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, সাতক্ষীরার ফিংড়ি ও তালার জেয়ালা নলতাসহ আশপাশের এলাকায় রোগটি দেখা দিয়েছে। কয়েকটি গরু মারাও গেছে। এটি একাটি ভাইরাসজনিত রোগ। এই রোগের জন্য যে ভ্যাকসিন প্রয়োজন তা সরকারি ভাতে তেমন সাপ্লাই নেই। চাহিদার ২০ ভাগ ভ্যাকসিন সরবরাহ রয়েছে। আমরা বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে আনার জন্য খামারীদের পরামর্শ দিচ্ছি। তিনি বলেন আমাদের জনবল কম হওয়ায় সব জায়গাতে চিকিৎসক পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

##