সাতক্ষীরায় গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে আমের মুকুল, বাম্পার ফলনের স্বপ্ন


167 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে আমের মুকুল, বাম্পার ফলনের স্বপ্ন
মার্চ ১০, ২০২১ কৃষি ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

সাতক্ষীরায় আমের গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে মুকুল। চাষিরা বলছেন এবার মুকুল এসেছে আগাম। এটা ভালো লক্ষণ। চলতি অনুকূল আবহাওয়ায় মুকুল নষ্ট হবার সম্ভাবনা কম। তাই এবারও আমের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন আম চাষিরা।সাতক্ষীরায় বিভিন্ন জাতের আম নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে এবার বিদেশে রপ্তানিও করা যাবে বলে তারা মনে করছেন।

আমের মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণে মুখরিত এখন সাতক্ষীরা। গাছে গাছে দুলছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে সেই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। শহর কিংবা গ্রামে সর্বত্র আমগাছ তার মুকুল নিয়ে হলদে রঙ ধারণ করে সেজেছে এক অপরূপ সাজে। তবে গতবছর প্রথম থেকেই বৈরি আবহাওয়ায় উৎপাদন কমে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছিলেন আম চাষীরা। এরপর করোনা পরিস্থতিতে যানবাহনের অভাবে পাইকারি ক্রেতা না থাকায় আমের বাজারজাতকরণ নিয়েও যথেষ্ট চিন্তিত ছিলেন তারা। মে মাসের শেষে আম পাড়ার মৌসুম শুরু হবার আগে আমের বাজারজাতকরণে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপে আমচাষীরা যখন আবার আশাবাদী হয়ে উঠছিলেন, সেই মুহূর্তে তাদের আম বাগানগুলো ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কবলে পড়ে।

করোনার লকডাউনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে ঝড়ে ঝরে পড়া আম বিক্রি করার কোন জায়গা না থাকায় আম ব্যবসায়ীদের শেষ আশাটুকুও ম্লান হয়ে যায়। তাছাড়াও গত মৌসুমে জেলার আম বাগানগুলোর অধিকাংশ বাগানে আশানুরূপ আমের মুকুলের দেখা মেলেনি। তার উপর করোনার ভাইরাসের জন্য দেশব্যাপী লকডাউন চলার কারণে জেলাসহ দেশের বাইরে আম রপ্তানি করতে না পেরে চিন্তিত ছিলো জেলার আম চাষীরা। আর ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে জেলার ২হাজার ২৭ হেক্টর জমির ১৬ হাজার ২৯৬ টন আম নষ্ট হয়ে যায়। আর্থিকভাবে সেসময় আমচাষীরা ৬৫ কোটি ১৮ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হন। তবে গত মৌসুমের তুলনায় এবছর জেলার আম বাগানগুলোতে দ্বিগুণ মুকুল এসেছে। আমের এই মুকুলে আমচাষীদের সোনালি স্বপ্ন দোল খাচ্ছে। তাই নতুন করে আম বাগান পরিচর্যায় কাজে ব্যস্ত জেলার ১৩ হাজার ১০০জন আমচাষী। এছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে রয়েছে আরও কয়েক হাজার আমচাষি। তবে গত বছরের চেয়ে এবছর ৫হেক্টর জমিতে আম চাষ কম হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। এবার জেলায় ৪হাজার ১১০হেক্টর জমিতে ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। গড় ৬০টাকা কেজি ধরে ৪০হাজার মেট্রিকটন আমের বাজার মূল্য ২৪০ কোটি টাকা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মিজানুর রহমান, অজিত দাস, তালা উপজেলার সফল আম চাষী আসাদুজ্জামান সহ জেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ পর্যায়ের আম চাষীরা জানান, তাদের আম বাগানগুলোতে মুকুল শোভা ছড়াচ্ছে নিজস্ব মহিমায়। মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে বাগানগুলো। প্রায় জেলার ৯৫ শতাংশ আমগাছ মুকুলে শোভা পাচ্ছে। এরমধ্যে ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, ফজলি, আশ্বিনা, লক্ষণভোগ, কালীভোগ, আম্রপালিসহ বিভিন্ন জাতের আম রয়েছে। কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করছেন জানিয়ে আম চাষীরা জানান, গত মৌসুমে করোনা ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলেও চলতি মৌসুমে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের উপর দোল খাচ্ছে তাদের ভাগ্য।

তবে গতবছরের চেয়ে এবছর ৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ কম হওয়ার কারণ সমন্ধে ঘূর্ণিঝড় আম্পানকে দোষারোপ করছে সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগ। এবিষয়ে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সব্যসাচি বলেন, গতবছর ঘূর্ণিঝড় আম্পানে জেলার আশাশুনি, শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত আম বাগান গুলোর প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো। একারণে গত মৌসুমের চেয়ে চলতি মৌসুমে ৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ কম হয়েছে বলে দাবি করে তিনি জানান, এবার সাতক্ষীরা জেলার ৪হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ হচ্ছে। যা থেকে ৪০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষিবিভাগ। ইতোমধ্যেই আমের মুকুল আসছে, এইসময়ে সাধারণত হুপার পোকার আক্রমণ করে। যার কারণে আমের মুকুল নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া বিচিং পদ্ধতিতে সেচ না দেওয়ার কারণে মুকুল শুকিয়ে ঝড়ে পড়ে। এগুলো থেকে রক্ষা পেতে ও ফলন ভালো পেতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমচাষিদের সবধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।