সাতক্ষীরায় গৌতম হত্যা মামলা : দু’আসামী জেল হাজতে


463 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় গৌতম হত্যা মামলা : দু’আসামী জেল হাজতে
মে ২৮, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ইব্রাহিম খলিল ::
সাতক্ষীরার চাঞ্চল্যকর কলেজ ছাত্র গৌতম সরকার হত্যা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পনকৃত দু’ আসামীর জামিন না’মঞ্জুর করে জেলা হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রোববার তারা সাতক্ষীরার জ্যেষ্ট বিচারিক হাাকিম প্রথম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন জানালে বিচারক হাবিবুল্লাহ মাহমুদ এ আদেশ দেন।
আদালতে আত্মসমর্পনকৃত আসামীরা হলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভাড়–খালি গ্রামের আবুল খায়ের সরদারের ছেলে জামায়াত কর্মী ওমর ফারুক (৩৩) ও একই গ্রামের সামছুদ্দিন সরদারের ছেলে জামায়াত কর্মী নূর আহম্মেদ মুক্ত (৪০)।
মামলার বিবরনে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউপি সদস্য মহাদেবনগর গ্রামের গনেশ সরকারের ছেলে মাহমুদপুর সীমান্ত আদর্শ ডিগ্রী কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সের ছাত্র গৌতম সরকারকে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর রাত আটটার দিকে বাড়ির পাশে রুহুল আমিনের দোকানে বসে টিভিতে খেলা দেখার সময় মোবাইল ফোনে পার্শ্ববর্তী মোকলেছুর রহমানের নির্মাণাধীন বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায় শাহাদাৎ হোসেনসহ কয়েকজন। পরে তার হাত পাঁ বেঁধে মুখের মধ্যে গুলের কৌটা ঢুকিয়ে মুখ বেঁধে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরে লাশের শরীরে নয়টি ইট বেঁধে পুকুরের মধ্যে একটি সৃষ্টিফুল গাছের ডালের সঙ্গে বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। এরপর থেকে গৌতমের মুক্তিপণ বাবদ মোবাইলে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। ১৪ ডিসেম্বর তিনি ছেলে নিখোঁজের ব্যাপারে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। পুলিশ ওইদিন সন্ধ্যায় সাজু শেখের মা ফজিলা বেগম, কবীর হোসেন মিঠুর স্ত্রী ও মাসহ কয়েকজনকে আটক করে পরে ছেড়ে দেয়।
খোঁজাখুঁজির একপর্য়ায়ে ১৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দেবহাটা উপজেলার বহেরা খাস খামার এলাকা থেকে জনতার সহযোগিতায় পুলিশ আলী আহম্মেদ শাওন ও শাহাদাতকে আটক করে। পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে শাহাদাৎ জানায় যে, কবিরল ইসলাম মিঠু তাকে গণেশ সরকারের কাছ থেকে ১০লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করার পর ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে। আটককৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ি ১৬ ডিসেম্বর গনেশ সরকার বাদি হয়ে শাহাদাৎ হোসেন, আলী আহম্মেদ শাওন, সাজু শেখ, নাজমুল হাসান, কবিরুল ইসলাম মিঠু ও মহসিন আলীর নাম উল্লেখ করে থানায় একটি অপহরণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃত শাওনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ি নাজমুল হাসান, সাজু শেখ ও মহসিনকে জনতার সহায়তায় আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সাজু ও নাজমুল ১৩ ডিসেম্বর রাতে গৌতমকে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার লোমহর্ষক কাহিনী বর্ণনা করে সদর সহকারি পুলিশ সুপার, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত), উপপরিদর্শক আসাদুজ্জামানসহ বহু সংখ্যক জনতার সামনে। সেখানে শাহাদাতকে মুল হত্যাকারি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাজুসহ কয়েকজন মহসিনের বাড়ি থেকে চুরি করা খাসির মাংশ দিয়ে ভাত খাওয়ার পর তাদের বাড়ি থেকে ছাগলের দড়ি ও ইট নিয়ে এসে গৌতমকে হত্যা করা ও লাশ পানিতে ডুবিয়ে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করেছে তা উল্লে¬খ করা হয়। পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে শাহাদাৎ জানায় যে, কবিরুল ইসলাম মিঠু তাকে গণেশ সরকারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করার পর ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে। ১৭ ডিসেম্বর পুলিশ গৌতমের লাশ উদ্ধার করে। ওই দিন তিনি (গনেশ) নুর আহম্মেদ মুক্ত, ওমর ফারুক ও জামসেদের নাম উলে¬খ করে থানায় সম্পুরক এজাহার দাখিল করেন।এরপরপর ঘোনা ইউনিয়নবাসি, শিক্ষক, ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জেলা জুড়ে আন্দোলন শুরু করেন। গ্রেফতারকৃত শাহাদাৎ ও নাজমুল হোসেন আদালতে যে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। গত ১৮ ডিসেম্বর পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের কাছে এক প্রেসব্রিফিং করে ৫০ হাজার টাকার মুক্তিপণের জন্য গৌতমকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান।  পুলিশ সুপারের প্রেসব্রিফিং উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ও হত্যাকান্ড ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে ২২ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন গনেশ সরকার। গৌতম হত্যাকানের ঘটনায় চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ড কমিটি গঠণ করা হলেও রহস্য উন্মেচনে উপপরিদর্শক আসাদুজ্জামান ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আলমগীর কবীরের ভূমিকা নিয়ে বাদিপক্ষ প্রশ্ন তোলায় এ মামলার দায়িত্বভার গত ৫ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক এসএম আশরাফুল আলমের উপর বর্তায়। পরবর্তীতে তদন্তকারি কর্মকর্তা ভাড়–খালি গ্রামের একটি পুকুর পাড় থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় গৌতমের ব্যবহৃত লুঙ্গি ও এক জোড়া চপ্পল উদ্ধার করে। মামলা দায়েরর প্রায় চার মাস পর আদালতে গত ২২ এপ্রিল আদালতে ওমর ফারুক ও নুর আহম্মদ মুক্তসহ ১০ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এদের মধ্যে কবিরুল ইসলাম মিঠু, নূর আহম্মেদ মুক্ত, জামসেদ আলী ও ওমর ফারুক পলাতক ছিল।