সাতক্ষীরায় গড়ে উঠেছে প্রবীন আবাসন কেন্দ্র


409 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় গড়ে উঠেছে প্রবীন আবাসন কেন্দ্র
এপ্রিল ২৩, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল আলম মুন্না :
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দারিদ্রতা, পারিবারিক নির্যাতন, অবহেলা, অনাদর, পুত্রবধুর নির্যাতনসহ নানা কারনে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় অসংখ্য নারী-পুরুষ বৃদ্ধ বয়সে খেয়ে না খেয়ে  বিনা চিকিৎসায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে বিভিন্ন পরিসংখ্যানের তথ্যানুযায়ী এদের সংখ্যা একবারেই কম নয়। বৃদ্ধ বয়সে এক মুঠো খাবার যোগাড় করতে নিরুপায় হয়ে ঝুকিপূর্ণ কাজে বা  ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত হয় ভাল এবং স্বচ্ছল পরিবারের লোকজন। সেইসব লোকজনের রাতে আশ্রয় নিতে হয় হাট-বাজারের খুপড়ির মধ্যে দোকানের বারান্দায়, ফুটপথে বা পরিত্যাক্ত বাড়িতে। অসুস্থ্য হলে দেখার কেউ থাকেনা, পয়সার অভাবে ধুকে ধুকে ত্যাগ করতে হয় মহামূল্যবান জীবন। সমাজ সংসারে এমন দৃশ্য দেখলে সাধারণ এবং বিবেকবান মানুষের শরীর শিউরে ওঠে। অথচ এই দূর্ভাগা পিতা-মাতার আদরের ধন, একাধিক সন্তানকে লালন-পালন করতে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে। নিজেরা না খেয়ে তাদের খাইয়েছেন তাদের বড় করে তুলেছেন নিবিড়ভাবে। অনেকেই আবার তাদের সহায়-সস্পত্তি আর মূল্যবান সম্পদ বিক্রি করে লেখাপড়া করিয়েছেন সন্তানদেরকে করেছেন উচ্চ শিক্ষিত। আইলা কিংবা সিডরের মতো প্রলয়ংকারী বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগেও পিতা-মাতা জীবন বাজি রেখে বহুকষ্টে অর্জিত সম্পত্তির মায়া ত্যাগ করে সন্তানদের বাচিয়ে রেখেছেন। সন্তানদের বাচিয়ে রাখতে তারা জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিয়েছেন। এমন অনেক নজীর আছে যে সন্তানরা শিক্ষিত হয়ে বড় বড় চাকরি করে বিলাশী জীবন যাপন করে পরম সুখে দিন কাটায় অথচ তারা তাদের বৃদ্ধ পিতা-মাতার কোন খোজ নেয়না। কোন পিতা-মাতাকি ভাবতে পারেন যে জীবন অপরাাহ্নে এসে আদরের সন্তানেরা তাদের খোজ খবর নেবেনা, খেতে পরতে দেবেনা, পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য পালন করবেনা, ভরণ-পোষনের সামান্য ঠাই জুটবেনা সন্তানের সংসারে। পিতা-মাতা হয়ে যাবেন পর, আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবেনা পোতা পুতনি, নাতি নাতনি আর স্বজনদের সাথে।
এগুলো ভাবতে অবাক লাগে তবুও বাস্তবতা অতি সত্য। অভাব অনাটন উশৃঙ্খলা আর নির্মম ভাগ্যের পরিহাস অনেক পিতা-মাকে অবহেলায় অনাদরের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে পরিশেষে ঠাই জুটেছে বৃদ্ধাশ্রমে। মা- বাবা দিবসের নিদৃষ্ট দিনে দেশের বিভিন্ন মিডিয়াগুলো এ সকল নিগৃহিত এবং আশ্রয়হীন মা-বাবার বৃদ্দাশ্রমে থাকার কারণ ও তাদের অনুভুতি নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ঐসকল প্রতিবেদনে দেখা গেছে আশ্রিতদের ছেলে-মেয়েরা অনেক নামী-দামি অফিস আদালতে চাকরী অথবা ব্যবসা করে সমাজে প্রাচুর্য গড়ে তুলেছেন। তারা সমাজের কাছে পিতা-মাতার পরিচয় দিতে অসম্মতি প্রকাশ করে । তারা সমাজের উচ্চ পর্যায়ের নাগরিক, তারা কোট-টাই পরে ঘুরে বেড়ান প্রাইভেট কারে অথবা পাজিরোতে, শহরে রয়েছে ফ্লাট অথবা থাকেন দামী ভাড়া বাড়িতে, সংসারে রয়েছে অনেক কাজের মানুষ ও নানান ধরনের দামি আসবাবপত্র, দারোয়ান ও বিলাতি কুকুর ।  বছরের দু,একটি ঈদ-পার্বনে ছাড়া পিতা-মাতার কোন খোজ নেয়না তারা। জন্মদাতা পিতা-মাতার এমনই সাক্ষাত কারের দৃশ্য হয়তো সমাজের বিবেকবান মানুষ চোখে পানি ধরে রাখতে না পারলেও মানুষ নামধারী ঐ সকল সন্তানদের অন্তরে এতটুকু জায়গা করে নিতে পারছেন না। এ প্রশ্ন এখন সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিক ও গণমানুষের ।
প্রতিটি পিতা-মাতার শ্বপ্ন থাকে যে ছেলে-মেয়েরা বড় হয়ে মানুষের মতো মানুষ হয়ে বৃদ্ধ বয়সে একমাত্র অবলম্বণ হয়ে থাকবে প্রিয় সন্তান ও নারী ছেড়া আপনজনদের কাছে। যারা নিতান্তই অভাব অনাটন, সংসার যাত্রায় অনেকটা ব্যর্থ নেশাগ্রস্ত বা বিপথগামী হয়ে পিতা-মাতার ভরণ-পোষন দিতে পারেনা তাদের কথা না হয় ভিন্ন, কিন্তু সচেতন শিক্ষিত সন্তানেরা কিভাবে পিতা-মাতার এই মহতী দায়িত্ব পালন করা থেকে দুরে সরে থাকেন এই প্রশ্ন তাদের বিবেকের কাছে। বাস্তবতায় সকলকে একদিন এই বাধ্যর্কের স্বাধ গ্রহন করতে হবে। সেজন্য বাধ্যর্কে যারা অগ্রাহ্য, অবহেলা এবং নির্যাতন অনাদরে দুরে ঠেলে দিয়েছে তাদের পাশে থাকার জন্য সাতক্ষীরার বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আরা মাত্র ৫ জন বৃদ্ধকে নিয়ে ২০১৫ সালের ১ জুন বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন (বিএনএফ) এর আর্থিক সহযোগিতায় সাতক্ষীরা সিটি কলেজের পিছনে মেহেদীবাগে  গড়ে তুলেছেন প্রবীন আবাসন কেন্দ্র। এই কেন্দ্রে ৬০ বছর বয়সী  নারী-পুরুষদের সম্পুর্ণ থাকা-খাওয়া, ভরণ-পোষন এবং যাবতীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। বর্তমানে সেখানে ৮জন বৃদ্ধ  রয়েছেন যাদের প্রায় সকলের বয়স ৬১-৭৮ বছরের বাড়ী সাতক্ষীরা বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি খুলনার রূপসা উপজেলার রয়েছে ১ জন । সেখানে বসবাসরত এরাদ আলী (৬১) আব্দুল করিম (৬২), মোঃ আকরাম আলী (৬৩), মোঃ সুরাত আলী (৬৬), জামাত আলী (৭৫), স্বরৎপদ দাস (৭৭), শেখ আম্বীয়া হক (৭৮) এদের সাথে কথা বলে যানা যায় তারা বৃদ্ধ বয়সে অনাহারে, নির্যাতনে এবং অপাত্রে পরিনত হয়েছেন তাদের নিজ সংসারে এর প্রধান কারন তারা এখন বৃদ্ধার ভারে নূয়ে পড়েছে, সংসারে কোন রকম খরচ যোগাতে পারেনা, ছেলে-মেয়েরা খেতে দেয়না এজন্য তারা আরা সংস্থার শরনাপর্ন হয়ে এই প্রবীন আবাসন কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহন করেছেন। এখানে তারা খুব ভাল আছেন কিন্তু এই গরমে তাদের বসবাস করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে কারন তাদের এখানে বিদ্যুৎ ব্যবস্তা থাকলেও কোন ফ্যান নেই। গরমে অসহ্য যন্ত্রনায় রয়েছেন এমতাবস্থায় সমাজের বৃত্তবানদের কাছে তাদের দাবি আরা সংস্থার মতো তারা যদি একটু বৃদ্ধাদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসে কয়েটি সিলিং ফ্যানের ব্যবস্থা করেন তাহলে তারা ভিশনভাবে উপকৃত হতো। যোগাযোগের ঠিকানা প্রবীন আবাসন কেন্দ্র, মেহেদীবাগ, সিটি কলেজের পিছনে, সাতক্ষীরা-মোবাইল নং-০১৭১৪-৭৪০৩৭২।