সাতক্ষীরায় গড়ে ওঠা হ্যাচারীর চিংড়ি পোণা ছেড়ে লাভবান ঘের মালিকরা


484 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় গড়ে ওঠা হ্যাচারীর চিংড়ি পোণা ছেড়ে লাভবান ঘের মালিকরা
ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

রাহাত রাজা:
সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকা সাতক্ষীরায় গড়ে উঠছে একাধিক চিংড়ি পোণা হ্যাচারী। এতে স্থানীয় পোণার চাহিদা পুরনের পাশাপাশি সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। আর স্থানীয় পোনা ছেড়ে লাভবান হচ্ছে ঘের মালিকরা।

তবে এসব হ্যাচারীতে মা মাছ থেকে রেনু উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পেশার সাথে সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন মা মাছ সংরক্ষনের ব্যবস্থা না থাকার কারনে পরনির্ভশীল অবস্থার শিকার হতে হবে হ্যাচারী মালিকদের।

তাই এ অঞ্চলে হ্যাচারি শিল্প ধরে রাখতে ও একই সাথে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনে সহায়তার লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগে মা মাছ সংরক্ষনের দাবী সাতক্ষীরার হ্যাচারী মালিকদের।

সাতক্ষীরা জেলা চিংড়ি উৎপাদনের জন্য বৈখ্যাত। দেশের এক তৃতীয়াংশ চিংড়ি এ জেলাতেই উৎপাদিত হয়ে থাকে। জেলায় ৬৭ হাজার চিংড়ি ঘের রয়েছে। প্রায় ৬৭ হাজার হেক্টর জমিতে আধা নিবিড় নিবিড় ও সাধারন পদ্ধতির চিংড়ি চাষ হয়ে থাকে ।

চিংড়ি পোনার মূল উৎস কক্সবাজার কেন্দ্রিক। এজেলার চিংড়ি রেনুর চাহিদা ৩ থেকে ৪ শ, কোটি। বহুদূর থেকে আনার কারনে রেনুর গুনগত মান হ্রাস পায়। আর যে কারনে এজেলায় ৭ থেকে ৮শ’ কোটি রেনু চাষীরা ঘেরে ছেড়ে থাকে।

যদি সাতক্ষীরায় গড়ে ওঠা হ্যাচারীর রেনু সাতক্ষীরার ঘেরে ছাড়া হয়, একদিকে ঘের মালিকদের দ্বিগুন রেনু ঘেরে ছাড়তে হবে না। অপর দিকে রেনুর গুনগত মান সমুন্নত থাকবে। চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

দেশের অর্থভান্ডারে রপ্তানীকৃত চিংড়ির থেকে আহরিত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে।

ঘের মালিক আব্দুল মাজিদ বলেন সাতক্ষীরা হ্যাচারীতে উৎপাদিত রেনু মাটি ও পানির সঙ্গে সহনশীল বলেই ভাল ফল পাওয়া যাচ্ছে ।

কক্সবাজর থেকে সাতক্ষীরা আসতে আসতে রেনুর গুনগত মান নষ্ট হয়ে যায়। বেশীর ভাগ রেনুই ঘেরে ছাড়তে ছাড়তে মারা যায় বলে অভিযোগ ঘের মালিকদের। কক্সবাজারের রেনুর জন্য দিনের ৭/৮ ঘন্টা বসে থাকার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

সাতক্ষীরার হ্যাচারীতে যদি কক্সবাজারের নোফলী দিয়ে রেনু ফুটানো হয়, তাহলে রেনু গুনগত মান ভাল হয়। উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে ।

এতে সাধারন মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এ শিল্পের দিকে সরকারের সহায়তার দাবি তাদের। শুধু তাই নয় সাতক্ষীরায় হ্যাচারী গড়ে ওঠায় সব মিলিয়ে ৩/৪ শ’ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে ।

জেলা চিংড়ি পোণা ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি ডাঃ আবুল কালাম বাবলা, বলেন
সাতক্ষীরা অঞ্চলের মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে চিংড়ি শিল্পের সাথে জড়িত। আর এই চিংড়ি দেশের মূল অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

চিংড়ি শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে সাতক্ষীরায় মা মাছ সংরক্ষনের ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছেন।

জেলা মস্য কর্মকর্তা, বলেন সময়ের কারনে কক্সবাজার থেকে আনা রেনুর গুনগত মান নষ্ট হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সাতক্ষীরায় মা মাছ সংরক্ষনে সরকারী ভাবে উদ্যোগ নিলে চাষীরা ভাল মানের রেনু পাবে। আর ২/৩ বার রেনু ঘেরে ছাড়ার প্রয়োজন হবে না।

সাতক্ষীরায় স্বল্প সুদে ঋন প্রদান ও মা মাছ সংরক্ষনে সরকারী উদ্যোগ গ্রহন করলে চিংড়ি শিল্পে বৈপ্লবিক সমৃদ্ধি সাধিত হবে।। গেল বছর এজেলায় প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন বাগদা উৎপাদিত হয়েছে।

এবার তা বাড়িয়ে ২২ হাজার মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে এ
##